সম্পাদকীয়

পুলিশ সপ্তাহের প্রত্যাশা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০১-২০১৮ ইং ০১:৩৫:১৭ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ। গতকাল শুরু হওয়া পাঁচ দিন ব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। এই সপ্তাহ উপলক্ষে দায়িত্বপালনে কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পালিত হয় এই পুলিশ সপ্তাহ। ‘শিষ্টের লালন আর দুষ্টের দমন’ এই ব্রতকে মাথায় নিয়ে পুলিশ সমাজে শান্তি শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাদের সেই দায়িত্ব পালনে আছে সফলতা, আছে ব্যর্থতাও। অনেকে বলেন, পুলিশ তার দায়িত্ব পালনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, তারা সমাজের অপরাধ দমনের পরিবর্তে অনেক সময় নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এর বাইরে পুলিশের সফলতার খতিয়ানও কম নয়। তাছাড়া, একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে।
আইনের শাসন কায়েম তথা সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করছে না বলেই নানা সময় অভিযোগ ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে আইনভঙ্গ করা, নিরীহ বিচার প্রার্থীদের সহযোগিতা করার পরিবর্তে তাদের হয়রানী করা, তদন্তের নামে নিরপরাধ মানুষদের আটক করে নির্যাতন করা ইত্যাদি। বাদী বিবাদীর কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থগ্রহণ করে মামলার মিথ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ খুবই পুরনো। এই প্রেক্ষিতে এটা বলাই যায় যে, পুলিশ যতোগুলো ভালো কাজ করছে তার সবই চাপা পড়ে যাচ্ছে এইসব ‘অপকর্মের’ নীচে। আর সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে- পুলিশের এইসব অপরাধের বিচার হয় না, সাজা হয় না। কারণ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তই হয় না। যেহেতু অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পুলিশের ওপরই। আর স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ আরেক জন পুলিশকে কোনো অভিযোগ থেকে বাঁচানোর চেষ্টাই করবে। তাই তৈরি করবে অভিযোগের ব্যাপারে একটা ভুঁয়া তদন্তরিপোর্ট।  
পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে, তাদের মধ্যে সততা ও কর্মের প্রতি নিষ্ঠা সৃষ্টির জন্য তাদেরকেও আনতে হবে আইনের আওতায়। যে অপরাধে সাধারণ মানুষের সাজা হবে, সেই একই অপরাধে পুলিশের সাজা হবে না কেন? এটা সচেতন মহলের উপলব্ধিতে আসে না। আর অপরাধের সাজা হচ্ছে না বলেই পুলিশের মধ্যে এই প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে না। অপরাধী পুলিশের সাজা নিশ্চিত করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে বিচার বিভাগের হাতে। এতে করে আইন সুরক্ষিত হবে, আইনের প্রতি মানুষের ভক্তি ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে, আস্থা বাড়বে এবং পুলিশও ইচ্ছে মতো যা খুশী তা-ই করতে সাহস পাবে না। তাছাড়া, পুলিশের সাজা নিশ্চিত হলে সমাজের চিহ্নিত অপরাধীরাও ভয় পাবে, সতর্ক হবে। তারা সাজার ভয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়াতে চাইবে না। অবশ্য বর্তমান সরকার পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করি, অচিরেই এর সুফল দেখতে পাওয়া যাবে।
‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই স্লোগানের আড়ালে আমরা অতীতে দেখেছি পুলিশ জনগণের নয়- বরং ‘ক্ষমতাসীন দলের বন্ধু’ হয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যখন যে দলই ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলেরই ‘পেটোয়া বাহিনী’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় পুলিশ। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার দাপট দেখাতে পুলিশকে ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে। কোনো কোনো সময় সন্ত্রাসী অপরাধীরাও পুলিশের প্রশ্রয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এইসব অপকর্মের অবসান হোক। পুলিশ জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হোক। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সচেতনতা, নিষ্ঠা আরও বাড়াতে হবে। সরকারকে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। এবারের পুলিশ সপ্তাহে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার পদক্ষেপ নেয়া হোক। 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT