শিশু মেলা

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০১-২০১৮ ইং ০২:১১:২৯ | সংবাদটি ২০৯ বার পঠিত

চড়–ই পাখি
দুলাল শর্মা চৌধুরী
প্রতিদিন বুকের গভীর ভিতরে
একটি চড়–ই পাখি খেলা করে
আমি তারে যতই পোষ মানাতে চাই
সে ততই দূরে সরে যায়।
আমি তারে যতই বুঝাই
যতই তার ভালোবাসা চাই
ততই সে দূরে দূরে থাকে।
জানি একদিন সে
আমার আকাশ থেকে
উড়ে যাবে অন্য আকাশে।
একটি চড়–ই খেলা করে
উড়ে যায় দূরে বহুদূরে।

শীত
সাজিদ মাহমুদ
দুর্বাঘাসে শিশির কণা
মুক্তো দানার মতো
ঘাসফড়িংরা খেলা করে
মাথা করে নত।

ক্ষেতের মাঝে সোনালী ধান
যায় যে করে খেলা,
ঘরে ঘরে শীতের পিঠার
জমে ওঠে মেলা।

খেজুর রসে ভাঁপা পিঠা
মধুর মতো লাগে,
শিশির ভেজা রোজ বিহানে
মনটা সবার জাগে।

পাখপাখালি মধুর সুরে
গায় যে বনে বনে,
মিষ্টি রোদের শীতের সকাল
জাগায় যে সুখ মনে।

খোকার স্বপ্ন
মো. ছাবির উদ্দিন
খোকা চোখে স্বপ্ন আঁকে
বিশ্বটা করবে জয়
জানার জন্য কৌতুহল তার
নেই যে মনে লজ্জা ভয়।

নিত্য খোকা সাম্যবাদের
সুর তুলিবে রাজপথে
দুর্নীতিবাজ উপড়ে ফেলবো
শপথ করো আজ হতে।

সাম্য, শান্তি, ঐক্য এবার
গড়তে হবে সবার মাঝে
সোনার বাংলায় রূপান্তরিত
করতে হবে সৎ কাজে।

ঘোষ নেবো না সুদ খাবো না
দুর্নীতি আর করবো না
খোকার হাতে বিজয় কেতন
উড়াতে ভয় করবে না।

সম্প্রতিক ছড়া
সুমন বণিক
বাজারেতে জ্বলছে আগুন
জ্বলছে দাউ দাউ
পণ্যগুলো ভূত সেজে
করছে হাউ মাউ।

ভূতের ভয়ে মুখে কুলুপ
পেটে আটো খিল
নইলে নাকি পাইক-পেয়াদা
মারবে ঘুষি কিল।

রসুনের দাম চড়েছে
মরিচেতে ঝাল
বানের জলে থৈ-থৈ
নদী-বিল-খাল।

পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি
জল আসে চোখে
পেটে খেলে পিঠে সয়
ভাষা নেই মুখে।

মুক্ত নারী
মুন্সি আব্দুল কাদির
মুক্ত সমাজ, মুক্ত মানুষ
মুক্ত নারী
সকল কাজে
পুঁজিবাদের মন্ত্রে মুগ্ধ
স্বার্থসিদ্ধি স্বার্থবাজে।

স্বাধীনতার মুক্ত আশায়
জীবন হল লাগামছাড়া
বিশ্বসেরা রাঘব বোয়াল
তাকে করল নগ্নহারা।

মুক্ত স্বাধীন, মুক্তমনা
যুক্ত হল সুশীল সমাজ
কাক সাজে ময়ুর পঙখী


শেয়াল দেখায় সিংহ সাজ।

অশান্তির অনলে পুড়ে
শান্তির খোঁজে দম্পতি
সন্তানেরা ¯েœহ হারা
শান্তি দিবে সমপতি।

শান্তি কি আর পায় সে খোঁজে
ঘোরতে থাকে বৃত্ত মাঝ
বিবেক সবার জাগুক আজি
চিন্তা করুক সকাল সাজ।

অজ্ঞান স্বপ্ন
সেকেল আহমেদ
ঘুম চোখে এলে রোজ দেখি বেশ উড়ে যাই
মরুভূমি পেরিয়েই দূর বহুদূরে যাই,
সব ছেড়ে চলে যাই অজানায় হারিয়ে
পার হয়ে মহাকাশ এক কোণে দাঁড়িয়ে।

জয় করে বিশ্বটা রাজা হই পলকে
সবকিছু গড়ে নিই ক্ষমতার ঝলকে,
মনটা তো নাচে বেশ সুখ সুখ হাওয়াতে
চাইতেই চলে আসে বিস্মিত পাওয়াতে!

শান্তিটা সীমাহীন ইচ্ছের শেষ নেই
থাকতে বা চলতেও চিহ্নিত দেশ নেই,
খানা পিনা নিদ্রাতে বাঁধা নেই চলে সব
কাজ কি বা চাষহীন জমিতেই ফলে সব!

আয়েশের কল্পটা ধীরে ধীরে পর হয়
রাত শেষে যখনই আলোকিত ঘর হয়,
যেই দেখি চোখ খুলে ঠিকমত নাই সব
রাগে মাথা খিটখিট ধূত্তুরি ছাই সব।

শীতের বুড়ি
পঙ্কজ শীল  
থরথরিয়ে কেঁপে বুড়ি
কনকনিয়ে আসে,
ঘাসের পাতায় শিশির দিয়ে
ঝলমলিয়ে হাসে।
কুয়াশার ঐ আঁধার কেটে
সূর্যিমামা উঠে,  
মিষ্টি আলো রঙ ছড়ালো
সূর্যিমামার ঠোঁটে।
শীতের বুড়ি আসছে এখন  
থাকবে ভীষণ কাজে,  
শস্যতে মাঠ দেয় ভরিয়ে  
সকাল দুপুর সাজে।
শীতের বুড়ি শীতকালেতে  
আনন্দ দেয় মনে,
খোকন সোনার ইচ্ছেটা খুব
থাকতে বুড়ির সনে।

কেন কাঁদে মন
সাদিক শামসুল
অঝোর ধারায় কেন কাঁদে মন
বৃষ্টি ভেজা হিমেল রাত
গভীর অন্ধকারে মনের অজান্তে
ব্যথায় কাঁদে অশ্রু সিক্ত দু’টি আঁখি।
অশ্রু টলো মল নয়নে বার বার
শুধু কেন কাঁদে এমন
প্রশ্ন মনে উঁিক দেয় বার বার।
মনের আকাশে উড়ন্ত
হাজারো জমে থাকা স্বপ্ন-
কেথায় আজ শান্তির নীড়
প্রশ্ন জাগে মনে বার বার।
আমি এক নিঃস্ব, রিক্ত অনাথ
সাজানো হাজার মনে কল্পনা
একটাই লক্ষ্য, একটাই উদ্দেশ্য
আমি হবো সমাজের শ্রেষ্ঠ।

আহ্বান
মোহাম্মদ রুহেল
নতুনের আগমনে
মুখরিত প্রান্তর,
জাগরণী মন্ত্রে
আশা ভরা অন্তর।
নতুনের আহ্বানে
মিলাও হাত,
আঁধারের বুকচিরে
আনবো প্রভাত।
এটা সেটা ওটা নয়
প্রগতিই লক্ষ্য,
নবীন আর প্রবীণে
গড়ে তুলি ঐক্য।
বিতাড়িত করি সবে
ঘৃণা আর বিদ্বেষ,
গড়ে নিব সব মিলে
সোনারই এদেশ।    

ধন মন
সত্যব্রত ব্রহ্মচারী
পাহাড়ে ধন, মরুতে ধন,
ধন সর্বগায়।
মন দিলে অসীম ধন
ফুটে চায় চায়।

জলে ধন, স্থলে ধন
ধর্ম সর্বগায়।
মনটুকু যে মূলধন
তাতেই ফুল ফোটায়।  

ধুলোয় ধন, তারায় ধন
ধন সর্বগায়।
মন মানেতো অসীম ধন
ফুটে অনন্ত নীলিমায়।


 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT