সম্পাদকীয় যা নিজের বিষয় নয়, তাতে লক্ষ না করা প্রকৃত মুসলমানের লক্ষণ। -আল হাদিস

বিশ্ব ইজতেমা আজ শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০১৮ ইং ২০:৪৪:৫৩ | সংবাদটি ১৩৭ বার পঠিত

জমায়েত হয়েছেন মুসল্লিরা। শুরু হয়ে গেছে সমবেত এবাদত বন্দেগী। লাখো মুসল্লীদের সমাবেশ ঐতিহ্যবাহী বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আজ। ভোরে ফজরের নামাজ শেষে শুরু হবে ইজতেমা। ঢাকার অদূরে টঙ্গিতে তুরাগ নদীর তীরে মুসলমানদের এই মিলনমেলা শেষ হবে আগামী রোববার। এটি হচ্ছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আগামী শুক্রবার শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। এই বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি সমবেত হন। গত কয়েকদিন ধরেই ইজতেমা স্থলে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিশাল প্যান্ডেল তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন মুসল্লিরা। মূলত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই প্রতি বছর এই প্যান্ডেল তৈরি হয়। এই প্যান্ডেলে মুসল্লিদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে বিদেশি অতিথিদের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন, বাস বা নৌ সার্ভিসের ব্যবস্থাও আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায়। তাবলীগ জামাতের বৃহত্তম সমাবেশ এই বিশ্ব ইজতেমাকে সরকার প্রতি বছরই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত এখন তুরাগ নদীর তীর। বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। এতে মিলিত হন প্রতি বছর তাবলিগ জামাতের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা। তারা পারস্পরিক ভাব ও ধর্মীয় জ্ঞান বিনিময় করেন। তারা মহান আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা ও মদদ প্রার্থনা করে ইসলাম প্রচারের কাজে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েন। বিশ্ব ইজতেমায় শুধু তাবলিগ জামাতের অনুসারীরাই অংশ নেন, তা নয়। লাখ লাখ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এতে শরীক হন। তারা বিশ্বাস করেন লাখো মানুষের হাত একসঙ্গে আল্লাহর দরবারে উত্তোলন করলে, সেটা বৃথা যেতে পারে না। বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমার মতো একটা বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।
তাবলিগ জামাতের এই সম্মেলন শুরুতে এতো বিশালাকায় ছিলো না। এই সম্মেলন শুরু হয় এখন থেকে অর্ধশতাব্দী আগে ভারতের দিল্লীর অদূরে নিজাম উদ্দিন (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন মসজিদকে কেন্দ্র করে। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) মাত্র কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শুরু করেন তাবলিগ বা ইসলাম প্রচারের কাজ। আর তখন থেকেই শুরু হয় তাবলিগ জামাত। বর্তমানে তাবলিগ জামাতের প্রধান দপ্তর দিল্লীতে অবস্থিত। বাংলাদেশে এই তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। টঙ্গির ‘পাগড়ে’ নামক গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এদেশে প্রথম বিশ্ব ইজতেমা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছিলেন তাবলিগ জামাতের অনেক প্রতিনিধি। এর আগে ১৯৪৬ সালে ঢাকায় কাকরাইল মসজিদে, ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে, ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। তবে এগুলোকে বিশ্ব ইজতেমা বলে অভিহিত করা হয় নি। ১৯৬৬ সাল থেকেই বাংলাদেশে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর এই ইজতেমার স্থানকে তৎকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ করে দেন।
বিশ্ব ইজতেমা ধর্মীয় সৌহার্দ্য সৃষ্টি ছাড়াও আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজের জন্য সওগাত স্বরূপ। একটি অরাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে বিশ্ব ইজতেমায় প্রধানত কোনো নেতা ছাড়াই সুনিয়ন্ত্রিত নেতৃত্ব এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করে। দলগত এবং সাংগঠনিক রূপরেখা না থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষের এই সম্মেলন প্রতি বছর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ইজতেমার এই শিক্ষা আমাদের অস্থির সমাজ জীবনে কাজে লাগানো উচিত। আমাদের প্রত্যেককেই আলোকিত হতে হবে এই শিক্ষায়। আলোকিত হতে হবে বিশ্ববাসীকে। কারণ, বিশ্ব ইজতেমায় রয়েছে শান্তিময় বিশ্ব গড়ার তাগিদ। বিশ্ব ইজতেমার সুবিশাল মাঠে লাখো মানুষের মুখে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হবে আকাশ বাতাস। মুসল্লিরা দু’হাত তুলে প্রার্থনা করবেন অশান্তি, যুদ্ধবিগ্রহ, অবিচার, শোষণ-বঞ্চনায় বিক্ষুব্ধ পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস যাতে প্রবাহিত হয় তার জন্য। প্রার্থনা করবেন মুসলিম বিশ্বে সংহতি সুদৃঢ় করতে এবং বিপথগামী অশুভশক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যেন মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তার জন্য। বিশ্ব ইজতেমার উসিলায় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত বর্ষণে সিক্ত হোক মুসলিম বিশ্ব। বিশ্বের সকল মানুষের সকল সৃষ্ট জীবের কল্যাণ নিশ্চিত হোক। বিশ্ব ইজতেমার বদৌলতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির উন্নতি ত্বরান্বিত হোক, আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক দেশ ও জাতির ওপর।   

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT