ধর্ম ও জীবন

মায়ের ভালোবাসা জান্নাতে নিয়ে যায়

মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০১৮ ইং ২০:৪৫:৫৫ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত

আম্মি, আম্মু, মাম্মি? না এসব না। ‘মা’ ‘মা’ আহ! ‘মা’ শব্দটি একদম ছোট একটি শব্দ। দু’ঠোট মেলালেই উচ্চারণ হয়ে যায়। ধ্বনিতে বেজে উঠে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসামাখা মায়াবী ‘মা’ সুরটি। কিন্তু এর  অনুভূতি, স্বাদ, অনুভব অনেক গভীরের। যা কেবল একটা সন্তান ছাড়া অন্য কেউ উপলব্ধি করা দুষ্কর। ‘মা’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অনেক ভাবনা। অনেক ভালোবাসা। অনেক আবেগ। অনেক উচ্চাশ। অনেক ভালোলাগা। তাইতো বলি, শুধু মমতাময়ী বা কোমলমতী দিয়ে বিশেষ এ নারীসত্ত্বাকে বর্ণনা করা কারো পক্ষেই কখনো সম্ভব না। তুলির এক আঁচড়ে যেমন পরিপূর্ণ একটা ছবি আঁকা যায় না ঠিক তেমনিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে মানুষটি আমাদের দেখিয়েছেন পৃথিবীর আলো। এনে দিয়েছেন এক নতুন অস্থিত্ব। এক নতুন পৃথিবী। এক নতুন জীবন। এক নতুন অধ্যায়। এক কথায় কী আর তার মাহাত্ম প্রকাশ করা যায়! তা সম্ভবই না। কখনো না। এক্কেবারে না। আমার কাছে আমার ‘মা’ হচ্ছেন একটা রঙধনু। যার হরেক রঙ। একটা আলো। যার হরেক বাতি। একটা শব্দ যার হরেক আওয়াজ। কখনও তিনি মমতাময়ী মা, কখনও পথনির্দেশক, কখনো শাসক, কখনো পালক, কখনো রাগি, কখনো হাসি, কখনো  বিপদের আশ্রয় আর কখনওবা সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। একই সঙ্গে তার নানান রূপ ও রঙ। আর সেই রঙের আলোকছটা একেক জনের কাছে একেক রকম। জন্মের পর থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত মায়ের প্রতি সন্তানদের অনুভূতি থাকে একই রকম। ১০ই মে, ‘মা’ দিবসের এ বিশেষ দিনে মাকে নিয়ে একান্ত অনুভূতি অনকেই লিখে। কিন্তু এ ভালোবাসা আমি কখনো একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ করবো না। আর সেসব হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি আমার বিশেষ আয়োজনে মিশিয়েও দেবো না। মাকে আমি ‘মা’ বলেই ডাকি। শুধু আমি না আমার বাকি সব ভাই বোনও। বাস্তবতা হলো কি ‘মা’ ডাকটির মধ্যে যে স্বর্গীয় সুখ রয়েছে, অন্য কোনো ডাকে এতটা মধুরতা নেই। নেই কোনো স্বাদও। কারণ এ মহিয়সী নারীর জন্যই তো আমাদের আজ পৃথিবীতে আসা। তাইতো বলি, আমার দেখা নারীদের মধ্যে আমার ‘মা’ সবচাইতে সুন্দরী আমার কাছে একজন সফল মানুষ। মাঝে মাঝে মায়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি অবিরাম। সহ্য করতে না পেরে তো কখনও কখনও বলেই ফেলি-মা, মাগো তুমি এত সুন্দর কেন! মা’ আমার তখন মুচকি হেসে বলে, বোকা ছেলে একটা! বরাবরই ভাবি আর বাস্তবেও অনুভব করি, আমার মা-ই এ পৃথিবীর এক সেরা মা। এতো বৃদ্ধ হবার কাছাকাছি বয়সেও মাশাআল্লাহ সেই সকাল থেকে শুরু করে রাত অব্দি কাজ করেই চলেছেন। শুধু টাইমমতো আমাদের মুখে আহার তুলে দেবার জন্য। মনে পড়ে মা আমাকে মাদরাসায় আসা-যাওয়ার, আনা-নেওয়ার, টিফিন তৈরি, ব্যাগ গোছানো, পড়াশোনা তো রয়েছেই। সবকিছু মা-ই করেন। আর করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করেন। এত বড় হয়েছি তবুও আজ অব্দি নিজের হাতে দু’মুটো ভাত খাইনি নিজ হাতে মা-ই আদর করে মায়া ডাক দিয়ে খাইয়ে দেন। যে কেউ আমাদের বাসা দেখলে অটোমেটিকই বোঝতে পারবে মা আমার কতটা গোছানো। বাড়ির, ঘরের আলমারির প্রতিটি জিনিস আজও নিজ হাতে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখেন প্রতিনিয়ত। ঘুমোতে যেয়ে রাত্রে যখন বালিশে কানটা লাগাই তখন মাঝে মাঝে ভাবি, মা আমার এত কিছু একসঙ্গে করেন কী করে! আমার মা হচ্ছেন সূর্যের মতো, শুধুই আলো ছড়ান। আর সে আলোয় আলোকিত আমি। আমরা। আলহামদুলিল্লাহ্! আজ পর্যন্ত আমার সব ভালো কাজের পেছনে রয়েছে মায়ের ধৈর্য্য আর কঠোর পরিশ্রম। দোয়া ও ভালোবাসা। আর তা হবে নাই বা কেন, মা যে আমার পৃথিবী। তিনি ছাড়া যে আমার আর আশ্রয়স্থল নেই? সেই মা’কে কষ্ট দেয়া, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, তার কথা অমান্য করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় গুনাহ। অনেক বড় অপরাধ। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে ও বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)।
হাদিস শরীফে এসেছে, একবার জনৈক সাহাবি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে জিহাদে যাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা প্রকাশ করলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বাবা-মা কেউ কি জীবিত আছে? সাহাবি হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বাড়িতে গিয়ে তাদের সেবা কর (বুখারি শরীফ, হাদিস নং-২৮৪২)। বাবা-মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাদের প্রতি দায়-দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, তাদের সেবা-শুশ্রষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বার্ধক্যের কারণে বাবা-মায়ের মেজাজ কিছুটা খিটখিটে ধরনের হয়ে যেতে পারে, সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটাতে পারেন। মুহূর্তেই যেকোনো বিষয়ে রেগে যেতে পারেন। নিজের কাছে তা অপছন্দ মনে হতে পারে। তাই তাদের এ অস্বাভাবিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। কোরআনে বলা হয়েছে, তাদের একজন বা উভয়েই জীবদ্দশ্যায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বল না। তাদের ধমক দিও না, তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)। সন্তানের জন্য বাবা-মা উভয়েই কষ্ট করেন। প্রচুর কষ্ট করেন। তথাপি বাবার তুলনায় মায়ের হক অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যক্তি আমার সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার বাবা (মুসলিম)। মাওলার কাছে আকুতি, তিনি যেনো আমাদেরকে বেশি বেশি বাপ মায়ের সেবা করে জান্নাত অর্জন করার তাওফিক দান করে।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • রোহিঙ্গা সঙ্কটের বহুমুখী প্রভাব
  • গণতন্ত্র : জনগণের শাসন ও উন্নয়ন
  • তাফসির
  • ইলমে তাসাউফের খেদমতে আল্লামা ফুলতলী (রহ.)
  • নিয়ত ও নৈতিকতা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ
  • মায়ের ভালোবাসা জান্নাতে নিয়ে যায়
  • তাফসিরুল কোরআন
  • ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও তাঁর ফিকাহ
  • ওয়াদা করার পূর্বে ইনশাআল্লাহ বলা
  • ইসলামের দৃষ্টিতে সেলফি আসক্তি
  • ভ্রƒণ হত্যা : ইসলাম কী বলে
  • তাফসির
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার ফিকহ
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • সাবধানতার পোশাকই সর্বোত্তম
  • জান্নাতুল বাকি : পরিচিতি ও ফযিলত
  • তাফসীর
  • সব সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত
  • শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পারস্পরিক মুখাপেক্ষিতা
  • Developed by: Sparkle IT