ধর্ম ও জীবন

নিয়ত ও নৈতিকতা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০১৮ ইং ২০:৪৬:৪৭ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত

[১] নিয়ত বা ইচ্ছাশক্তি যে কোনো লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক কারণ। লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে হলে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের আলোকে ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ়তার সাথে ব্যয় করা প্রয়োজন। মানুষের যে কাজের সাথে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি জড়িত হয় সে কাজে সে নিজের সমগ্র হৃদয়-মন ঢেলে দেয়, ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম বৈষয়িক উপায়-উপাদান। যে কোনো কিছু যখন তার লক্ষ্য অর্জনের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এক মুহূর্তের জন্যও সে এই বাধার কারণে থমকে দাঁড়ায় না। বরং এই বাধাকে উপেক্ষা করেই সে তার কাজ করে যায়। এক সময় তাকে নিয়ে যায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এমনিভাবে সামষ্টিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একই সাথে সবার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। এই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কারণেই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাধা এমন ক্ষতিকারক কোনো জিনিসকেই তারা নিজেদের মধ্যে মুহূর্তের জন্যও প্রশ্রয় দেবেনা। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির দাবিই হলো তাকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা।
কুরআনে বলা হয়েছে-মানুষের যে কোনো নিয়তের বহিঃপ্রকাশ তার কাজের মধ্য দিয়েই ঘটে। সে জন্য ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের জন্য ইচ্ছা পোষণের কথা শুধু মুখে উচ্চারণ চলবে না; বরং সেই ইচ্ছাকে খালেস হতে হবে। আমাদের মূল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য যতগুলো পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেয়া হবে, তার প্রত্যেকটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তেই করতে হবে। এই নিয়তের কথা একটা ব্যক্তির অন্তর জানবে, কান জানবে, চোখ জানবে, মুখ জানবে, পা সবই জানবে। অন্তর যখন নিয়তের বীজ বপন করবে তখন অন্যান্য সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাই বীজকে ডাল-পালা মেলে মহীরুহে পরিণত হতে সহযোগিতা করবে। ইসলাম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এমনভাবে মন, প্রাণ, দেহ দিয়ে প্রচেষ্টাকে ‘ফানা ফিল্লাহ’ বলা হয়। নানামুখী বাধা বিপত্তি আসতে পারে জেনেও লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেহ, মন, প্রাণ ঢেলে ইচ্ছাশক্তিকে সেদিকেই নিয়োজিত রাখা ও পরিশুদ্ধ নিয়তের অর্থ। কিন্তু নিয়ত তো অন্তরের মধ্যে লুকায়িত জিনিস। ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, তাহলে কীভাবে বুঝা যাবে নিয়তের পরিশুদ্ধি আছে কিনা? মুখের উচ্চারণ ও কাজের বহিঃপ্রকাশে যদি কোনো মিল না থাকে বুঝতে হবে নিয়তে গরমিল আছে। পরিশুদ্ধি নেই।
আল্লাহর রাসূল (আ.) কেউ দ্বীন ইসলাম ও তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে তাকে বারবার জিজ্ঞেস করতেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূল (সা.)-এর নিকট এসে বলল, আমি আপনাকে ভালোবাসি, রাসূল (সা.) বললেন, তুমি কী বলছ ভালো করে ভেবে দেখো। সে বললো, আল্লাহর কসম আমি আপনাকে ভালোবাসি। একথা সে তিনবার বললো। রাসূল (সা.) বললেন, তুমি যদি সত্যবাদি হও তাহলে দারিদ্রের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নাও। কেননা যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে বন্যার পানির চাইতে দ্রুত গতিতে দারিদ্র্য তার দিকে এগিয়ে আসে। (তিরমিযী)
নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপরই কাজের ফলাফল নির্ভর করে। একজন ব্যক্তি মন থেকে খালেসভাবে যা চাইবে আল্লাহ তায়ালা তাকে তাই দেবেন। বলা হয়েছে-‘আর এ যে মানুষ তাই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সূরা নাজম : ৩৯)
ইসলামী আন্দোলন করলেই শুধু আল্লাহ খুশি হয়ে থাকেন, জান্নাত পাওয়া যাবে বিষয়টা এমন নয়। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ত যদি ঠিক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই না হয়, তাহলে এ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে ইসলামী আন্দোলনের পথে আগত নিজের দুঃখ-কষ্ট বাস্তবতাগুলোকে আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করে দিতে হবে। এমন অভিযোগ যদি মনের মধ্যে আসে আমি সংগঠনের জন্য কত কিছুই না করলাম কিন্তু সংগঠন আমার জন্য কিছুই করলো না। তাহলে বুঝতে হবে নিজের আল্লাহর সন্তুষ্টিকে পাওয়ার নিয়তে গরমিল আছে এবং শয়তান ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে। সংগঠন তো ব্যক্তির সমষ্টি মাত্র। সংগঠন কেন্দ্রিক এমন চিন্তা মাথায় আসার সাথে সাথে সতর্ক হয়ে যেতে হবে এবং মনে রাখতে হবে আমরা সংগঠনের মাধ্যমে কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেইনি। বার বার নিজের চিন্তাকে চেক দিতে হবে। কোথাও কোনো দুর্বলতা লুকিয়ে আছে কিনা। কিছু ব্যক্তি এমন চিন্তা বা অভিযোগ করেন তাই নয় সংগঠন ছেড়ে দেয়ারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিজেকে স্বেচ্ছায় জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত করার শামিল। আল্লাহর রাসূল (সা.) এর জিন্দেগীতে কখনো তিনি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কাউকে জবাবদিহি করেননি। কারো ওপর রাগ করেননি। অভিযোগ করেননি। অহীর আগমনের শুরুতেই তাকে বলা হয়েছে-‘ঘোষণা কর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের। তোমার বেশভূষা, পূতপবিত্র ও মার্জিত বানাও। পাপ-পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখ। প্রতিদানের আশায় কাউকে অনুগ্রহ কর না, তোমার রবের জন্য সবর কর, ধৈর্য ধারণ কর।’ (মুদ্দাস্সির : ১-৭)
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অহীর শুরুতেই রাসূল (সা.) এর মনকে দৃঢ় নিয়তের ওপর স্থির করে দিলেন। দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিয়োজিত সব নবী-রাসূলগণই এ নীতির ওপর অটল ছিলেন। অন্যত্র বলা হয়েছে শহরের দূর কিনারা থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বললো- ‘হে আমার কাওম! রাসূলগণের কথা মেনে চল, তাদের, যারা তোমার কাছে কোনো প্রতিদান চায় না। আর তারা সঠিক পথে আছে।’ (সূরা ইয়াসিন : ২০-২১)
এ কারণেই দায়িত্বের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র লোভ আছে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারে অযোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে ইসলামে। এ কারণেই বাতিল শক্তি যখন দায়িত্ব লাভের জন্য চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি ও জুতার তলা ক্ষয় করতে ব্যস্ত ঠিক তখনই ইসলামী আদর্শের ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে কাঁদেন। তিনি জানেন, দায়িত্ব একটা আমানত। এর হক আদায়ে যেমন জান্নাত প্রতিদান, তেমনি অনাদায়ে পরিণতি জাহান্নাম।
[২] নীতিগতভাবে যা সঠিক তাই নৈতিক। মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষতাই নৈতিকতা অর্থাৎ মানুষের চরিত্রে শ্রেষ্ঠ গুণাবলীর সমাহারের নাম নৈতিকতা; যেমন ইচ্ছাশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ শক্তি, প্রবল বাসনা, উচ্চাকাক্সক্ষা, নির্ভীক সাহস, সহিষ্ণুতা ও দৃঢ়তা, তিতিক্ষা, বীরত্ব, সহনশীলতা ও পরিশ্রমপ্রিয়তা, উদ্দেশ্যের প্রতি আকর্ষণ এবং সেজন্য সবকিছুই উৎসর্গ করার প্রবণতা, সতর্কতা, দূরদৃষ্টি ও অন্তরদৃষ্টি, বোধশক্তি ও বিচার ক্ষমতা, পরিস্থিতি যাচাই করা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে ঢেলে গঠন করা ও অনুকূল কর্মনীতি গ্রহণ করার যোগ্যতা, স্বপ্নসাধ ও উত্তেজনার সংযমশক্তি, মানুষকে আকৃষ্ট করা তাদের হৃদয়মনে প্রভাব বিস্তার ও তাদের কাজে নিযুক্ত করার দুর্বার বিচক্ষণতা, আত্মসম্মান, জ্ঞান, বদান্যতা, দয়া-অনুগ্রহ, সহানুভূতি, সুবিচার, নিরপেক্ষতা, সত্যবাদিতা, সত্যপ্রিয়তা, বিশ্বাস পরাছুতা, বুদ্ধিমত্তা, সভ্যতা-ভব্যতা, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি।
এই নৈতিকতাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি ও সফলতার চাবিকাঠি। ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিদের এই নৈতিকতা ও নৈতিক শক্তিকে সঠিক পথে নিয়োজিত করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে কাজে লাগাতে হয়। ইমাম গাজালীর মতে চরিত্র হলো হৃদয়ের অভ্যন্তরে এমন একটি প্রতিষ্ঠিত অবস্থা যেখান থেকে মানুষের কর্মধারা প্রবাহিত হয় এবং এর জন্য কোনো বর্ণনা প্রতিফলনের প্রয়োজন হয় না। সেই কার্যাবলী যদি শরীয়ার কষ্টিপাথরে উত্তম বলে বিবেচিত হয়, তাহলে তাকে সৎ চরিত্র বলে অভিহিত করা যায়। অন্যথায় যদি হৃদয় থেকে নিঃসৃত কার্যাবলীর গ্রোতের সাথে পঙ্কিলতার উচ্ছিষ্ট প্রবাহিত হয়। তাহলে তাকে দুশ্চরিত্রের কলঙ্কে আখ্যায়িত করা হয়। সুতরাং চারিত্রিক নৈতিক শক্তি যখন আল্লাহর জন্য গঠন ও ব্যয় হবে তখনই এর সঠিক ব্যবহার হয় এবং পরিশুদ্ধি লাভ করে।
সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সফলতা ও কল্যাণ লাভ নিশ্চিত করা যায়। কারণ-নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের উদ্দেশ্য হলো চরিত্রের উৎকর্ষতা সাধন। রাসূল (সা.) বলেছেন-‘উত্তম চরিত্রকে পূর্ণাঙ্গতা দানের জন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে।’ (বায়হাকী- ১০)
সুন্দর চরিত্রই সর্বোত্তম মানুষে পরিণত হবার একমাত্র উপায়। ‘ঈমানের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ মুমিন তারাই যাদের চরিত্র উত্তম।’ (তিরমিযী-২৬১২)
সচ্চরিত্রই কেয়ামতের দিন নবী (সা.) এর প্রিয়তম ও নিকটতম করে তুলবে। ‘রাসূল (সা.) বলেছেন, বেশি প্রিয় ও নিকটতম হবে তারা যারা উন্নত চরিত্রের অধিকারী।’ (তিরমিযী- ২০১৮)
সচ্চরিত্রই জান্নাতের সোপান। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)কে এমন একটি বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যার উসিলায় অধিকাংশ লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন তিনি বললেন, সেই দুটি বস্তু হলো-আল্লাহর ভয় এবং সৎ চরিত্র।’ (তিরমিযী- ২০০৪)
আমলের পাল্লাকে সচ্চরিত্রই ভারী করবে। ‘শেষ বিচারের দিন আমলনামার দাঁড়িপাল্লায় সৎ চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো কিছুই নেই।’ (তিরমিযী- ২০০২)
বাতিল শক্তির মোকাবেলায় চারিত্রিক গুণাবলী বড় হাতিয়ার। এজন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সচ্চরিত্র গঠনের ব্যাপারে যত গুরুত্ব দিয়েছেন ততটুকু আর কোনো কিছুতে দেননি। রাসূল (সা.) ও বলেছেন- চারটি বৈশিষ্ট্য তোমার মধ্যে থাকলে দুনিয়ার অন্যান্য সবকিছু ছুটে গেলেও সমস্যা নেই। এগুলো হলো-
- আমানত সংরক্ষণ
- সত্যবাদিতা
- সৎ চরিত্র
- নির্ভেজাল হালাল খাবার (আহমাদ ২/১৭৭)
চরিত্রের মধ্যে এই ৪টি বৈশিষ্ট্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহর (সা.) গঠিত সেনাদল ভুখা-নাঙ্গা (আরবদের ভাষায়) হলেও সমগ্র বিশ্বের বুকে নিজেদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন শুধুমাত্র পরিশুদ্ধ চারিত্রিক উৎকর্ষতার বলে। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছিলেন তারা। বদর যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবী ১ হাজার কাফিরের বিরুদ্ধে যাদের হাতে যুদ্ধ উপকরণ ছিল বলতে মাত্র কয়েকটা ঘোড়া ও তলোয়ার। এক অসম বিজয় লাভ করেছিলেন সেই শক্তির বলেই। যেমন-
- শুরু থেকেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও দৃঢ় মনোবল।
- আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থা
- পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও উদারতা।
- সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অপরকে অগ্রাধিকার প্রদান
- ঈমান আমলের ক্ষেত্রে নিজকে অগ্রাধিকার দান।
- পারস্পরিক পরামর্শ।
- আনুগত্য ও শৃঙ্খলা।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতিটা কাজে সীমা নির্ধারণ করেছেন, যা রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক। পর্দা, কথা বলা, চলাফেরা, বিয়ে, বিনোদন, ছবি তোলা, সাজসজ্জা, আচরণ, মেলামেশা প্রতিটা ক্ষেত্রেই এই সীমা রক্ষা করা প্রয়োজন। বিজাতীয় সংস্কৃতি ও পোশাক আবেগ, পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অথবা প্রশাসনিক কাজেও প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে কখনো কখনো সীমারেক্ষা বজায় রাখাকে কম গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং কখন তো অনেকটা হারামের ক্ষেত্রেও শিথিলতা পর্যায়ে চলে যায়। আর আবেগ ও শিথিলতা হতে মূলত অনৈতিকতার চর্চা শুরু হয় যা হতে সতর্ক থাকা জরুরি।
নৈতিকতা ও নৈতিক পরিশুদ্ধির উপায় :
চারিত্রিক উৎকর্ষতা নির্ভর করে ৪টি শক্তির উৎকর্ষতার ওপর।
- জ্ঞানের শক্তি।
- রাগের শক্তি।
- ইচ্ছার শক্তি।
- কল্পনার শক্তি।
এই শক্তিগুলো যদি উৎকর্ষতায় পূর্ণ থাকে তাহলে তাকে সচ্চরিত্র বলা হয়। আর এগুলো উৎকর্ষতা হারালে তাকে দুশ্চরিত্র বলা হয়।
আরও ৪টি সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে চারিত্রিক নৈতিক শক্তি বিকাশ লাভ করে-
রবের সাথে আচরণ : (আল্লাহভীতি) আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়ন এবং ঈমানের দাবি অনুযায়ী আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন। শিরকের ছোঁয়া থেকে নিজের ঈমান ও তার বাস্তবায়নকে মুক্ত রাখা।
নিজের সাথে আচরণ : নিজের প্রকৃত পরিচয় অনুযায়ী তৈরি করা ও এক্ষেত্রে নিজের প্রতি জুলুম না করা, বিপদে ধৈর্য ধারণ করা, হিকমতের সাথে কার্য সম্পাদক করা, আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।
অন্যান্য মানুষের সাথে আরচণ : সত্য বলা, আমানত রক্ষা, ইনসাফ করা, সৌজন্য ভদ্রতা, উদারতা ইত্যাদি।
প্রাণীকুলের সাথে আচরণ : যেমন-গৃহপালিত ও অন্যান্য পশু-পাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন ও এদের কষ্ট না দেয়া। তবে ৪টি সম্পর্কের মূল আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন। এ সম্পর্ককে মজবুতির উদ্দেশ্যেই অন্য তিনটি সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। নৈতিক ও চারিত্রিক পরিশুদ্ধি প্রথম সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। এই সম্পর্কের মাধ্যমে পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্য আমরা নিন্মোক্ত উপায় অবলম্বন করতে পারি-
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে নিজের চিন্তা ও বিশ্বাসকে সংশোধন করা।
সে অনুযায়ী নিজের আমলকে প্রতি মুহূর্তের রুটিনে পরিণত করা।
নির্ভুল বিশ্বাস (ঈমান) অর্জন ও সে বিশ্বাসকে সতেজ রাখার জন্য ধারাবাহিক কুরআন অধ্যয়নকে বাড়িয়ে দেয়া এবং সীরাত ও সাহাবা চরিত অনুশীলন করা।
আত্মসংশোধনের জন্য নিজের দোষত্রুটির ব্যাপারে নিজেই নজর রাখা এবং অন্যের সমালোচনাকে সহজভাবে নেয়া।
সব ক্ষেত্রেই ধৈর্য ধারণ ও কোমল আচরণে অভ্যস্ত হওয়া।
কেউ অতিরিক্ত প্রশংসা করলে সন্তুষ্ট না হয়ে সতর্ক হওয়া।
নিজের আত্মসমালোচনা করা। এর মাধ্যমে নিজের চরিত্র নিজের সামনে আয়নার মতো ধরা পড়বে।
যতটুকু সম্মান, মর্যাদা ও বদান্যতা একজন ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গতা গুণাবলীতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, ততটুকু অর্জনে সচেষ্ট থাকা।
সর্বোপরি আল্লাহর কাছে দোয়া করা। মহানবী (সা.) সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়ার ভাষা শিখিয়ে দিয়েছেন।
‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়াত করো। তুমি ছাড়া কেউ নেই যে সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্রের দিকে হেদায়াত করবে।’

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • রোহিঙ্গা সঙ্কটের বহুমুখী প্রভাব
  • গণতন্ত্র : জনগণের শাসন ও উন্নয়ন
  • তাফসির
  • ইলমে তাসাউফের খেদমতে আল্লামা ফুলতলী (রহ.)
  • নিয়ত ও নৈতিকতা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ
  • মায়ের ভালোবাসা জান্নাতে নিয়ে যায়
  • তাফসিরুল কোরআন
  • ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও তাঁর ফিকাহ
  • ওয়াদা করার পূর্বে ইনশাআল্লাহ বলা
  • ইসলামের দৃষ্টিতে সেলফি আসক্তি
  • ভ্রƒণ হত্যা : ইসলাম কী বলে
  • তাফসির
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার ফিকহ
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • সাবধানতার পোশাকই সর্বোত্তম
  • জান্নাতুল বাকি : পরিচিতি ও ফযিলত
  • তাফসীর
  • সব সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত
  • শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পারস্পরিক মুখাপেক্ষিতা
  • Developed by: Sparkle IT