ধর্ম ও জীবন

গণতন্ত্র : জনগণের শাসন ও উন্নয়ন

এডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০১৮ ইং ২০:৪৮:৩১ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

গণতন্ত্র-নামেই যার পরিচয়। গণ-মানেই দেশের জনগণ এবং তন্ত্র-মানে জনগণের শাসন ও উন্নয়ন যা একমাত্র স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশেই প্রযোজ্য। অতি ত্যাগে অর্জিত আমাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার মূল ভিত্তিই ছিল গণতন্ত্র যার সাথে সংশ্লিষ্ট আছে জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহান প্রেসিডেন্ট তার দেশের দাস মুক্তি সংক্রান্ত অবসান লগ্নে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসাবে প্রখ্যাত গ্যাটিসবার্গ ভাষণে গণতান্ত্রিক সরকারকে এমন সহজ ভাবেই সংজ্ঞায়িত করেছেন। গণতান্ত্রিক সরকার এমন এক পরিচালনা ব্যবস্থা যা জনগণের, জনগণ দ্বারা এবং জনগণের জন্য-যা সার্বজনীন সংজ্ঞা  হিসাবে  ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে মুক্ত স্বাধীন বিশ্বে প্রতিপালিত হচ্ছে।
গণতন্ত্রের সাথে মানুষের রাজনৈতিকÑঅর্থনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক-সহ সর্ব-প্রকার মুক্তি জড়িত। তবে সর্বপ্রথম দেশের রাজনৈতিক মুক্তি তথা দেশের মালিক বা রাজাদেরকে নিজেদের পরিচালনার অধিকার অর্জন করতে হয় যাকে রাজনৈতিক অধিকার বলা হয় যা সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হয় যাতে রাজনৈতিক মুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট তথা অর্থনৈতিক মুক্তিসহ বর্ণিত অন্যান্য মুক্তিও সম্পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে বিকাশও হতে পারে। অন্যথায় অর্থনৈতিক মুক্তিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমাদের ক্ষেত্রে অতি ত্যাগে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের বর্ণিত চেতনা বাস্তবায়ন স্বার্থান্বেষী নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে আজও অসম্পূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাজনীতি সুফল ভোগ করতে হলে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশপ্রেম সমাজপ্রেম এবং সর্বোপরি মানব-প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি রাজনৈতিক সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে হয় যেভাবে পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার উন্নত দেশসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং একদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ চীনে গড়ে উঠেছে এবং ক্রমান্বয়ে তার ভিত্তিও দৃঢ় হচ্ছে। মনে রাখতে হবে দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্র অবিচ্ছিন্ন উন্নত অবাধ গণতান্ত্রিক দেশে দেশসেবার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আকাঙ্খা থাকলে প্রথমেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সমাজ সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে সমাজের সমস্যা ও তার সমাধানের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট হতে হয়। নিজ লেখাপড়া বা কাজের ফাঁকে ফাঁকে সমাজ সেবার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে দেশ-সেবার রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং-সেবক সংঘ রয়েছে যার সদস্যগণ আত্ম-ত্যাগের  মাধ্যমে দেশ সেবায় উদ্বুদ্ধ হন এবং অন্যকেও করেন যাতে দেশ ও জাতির দ্রুত উন্নয়ন করা যায়।
কিন্তু আমাদের সুদীর্ঘ দিনের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার কারণে অতি ত্যাগে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-মুক্তি-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ না হওয়ায় জাতি আজ চরমভাবে হতাশ। দেশ আজ বিদেশী লুটেরা-দখলদারির পরিবর্তে স্ব-দেশি লুটেরা দখলদারির কবলে পড়ায় জাতি রাজনৈতিক অর্থনৈতিকসহ সার্বিক মুক্তি না পাওয়ায় স্ব-অধীন তথা আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সম্পূর্ণ করতে না পারায় গণতন্ত্রের ও বিকাশ হচ্ছে না। মনে রাখতে হবে গণতান্ত্রিক সমাজে দেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ কাউকে ক্ষমতা দেয় না-দেয় প্রার্থিত সেবা করার সুযোগ মাত্র। কিন্তু নেতাগণ জনসেবার নামে কালো টাকা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে মালিকানা তথা দলদাস ভিত্তিক দল গঠন করে অস্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনাও উন্নয়ন জনগণ প্রদত্ত রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা ও সম্পদ-দখল-ভোগ-লুট ও পাচার করণার্থে দেশের মালিক জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাখার ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে অবাধ সুষ্ঠু ও সুস্থ নির্বাচন-সহ গঠনমূলক বিরোধিতা ও সহনশীলতা অপরিহার্য্য যা আমাদের সমাজে দুঃখজনকভাবে অনুপস্থিত। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা-মুক্তি-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা ও বিকাশার্থে দেশের মালিক ও সকল ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণের সদা সচেতনতা ও প্রধান রাজনৈতিক দল সমূহের সমঝোতার বিকল্প নেই।


শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT