সম্পাদকীয়

দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০১৮ ইং ০০:১৩:৪৪ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশনের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। উচ্চতর আদালত স্পষ্ট অক্ষরে প্রেসক্রিপশন লেখার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও মানছেন না চিকিৎসকগণ সেই নির্দেশনা। যে কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। ভুল ওষুধ খেয়ে অনেকের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ভুক্তভোগী রোগী, স্বজন ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ হচ্ছে, চিকিৎসক হাতে লিখে যে প্রেসক্রিপশন দেন, তা পড়ে ৯০ শতাংশ সাধারণ মানুষ ও ফার্মেসির কর্মচারীরা বুঝতে পারেন না। এতে অনেক সময় ওষুধ পাল্টে যায়। ব্যবহারের সময় ও ধরণ নিয়েও বিপত্তি ঘটে। বছর খানেক আগে আদালত নির্দেশনা দেন স্পষ্ট অক্ষরে ব্যবস্থাপত্র লিখার জন্য। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেটিক নাম লিখতেও তাগিদ দেয়া হয়। এই নির্দেশনায় জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্থি আসে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা এখনও কার্যকর হয়নি।
প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্রে দুর্বোধ্য লেখার কারণে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েননি, এমন কোনো রোগী বা এটেনডেন্স হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে একদিকে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে লেখা পড়তে না পেরে ফার্মেসি থেকে প্রায়ই ভুল ওষুধ রোগীদের গছিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে রোগীরা পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। বিশেষ করে প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকরা যে ব্যবস্থাপত্র লিখেন, সেটা সাধারণ মানুষের পক্ষে পড়া অসাধ্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই। তাদের সেই প্রেসক্রিপশনটি তাদেরই নির্ধারিত ফার্মেসির লোকজন ছাড়া আর কেউ পড়তে পারে না। আর ডাক্তাররা ওই নির্ধারিত ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কিনতে পরামর্শ দেন রোগীদের।
প্রেসক্রিপশনে ওষুধের জেনেটিক নাম লিখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ এই ব্যাপারে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চিকিৎসকেরা নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধের নাম লিখে থাকেন প্রেসক্রিপশনে। আর নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধের নাম লিখতে চিকিৎসকদের দেয়া হয় নানা ধরনের উপটোকন। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের সরকারি কর্মস্থল বা প্রাইভেট চেম্বারে সারাক্ষণই ভিড় জমায়। চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীদের পরিবর্তে এই ওষুধ কোম্পানির লোকদেরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আর তারা কোম্পানির লোকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে অনেক সময় নি¤œমানের কোম্পানির ওষুধের নামও লিখে দিচ্ছেন রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে। এতে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে উল্টো দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে যান।
আমাদের সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিরাজ করছে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, রোগীরা চিকিৎসা নিতে এনে নানা ধরনের হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেমন, তেমনি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা প্রাইভেট চেম্বার সর্বত্রই সাবলিল চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। এক্ষেত্রে রোগীদের নানা ধরনের অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র এবং নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ কিনতে ‘বাধ্যবাধকতা’। এই অবস্থা নিরসনের লক্ষে আদালতের নির্দেশনা খুবই সময়োপযোগী বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ। এখন এই নির্দেশ যাতে কার্যকর হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আমরা আশা করছি চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র সংক্রান্ত দুর্ভোগ লাঘবে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT