উপ সম্পাদকীয়

সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০১৮ ইং ০০:১৮:০৭ | সংবাদটি ২২৮ বার পঠিত

ঘরে মা-বাবা, অভিভাবকের কাছ থেকে শিশুকালে যে শিক্ষার শুরু হয় তার ধারাবাহিকতা চলে আমৃত্যু। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক এবং পারিপার্শি¦কতা থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণই মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে পারে। সততা, নিষ্ঠাবোধ ছাড়া মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয় না। আর মানবিক মূল্যবোধ ব্যতীত মানুষ কখনও মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারে না।
আমি যখন শহরের অলিগলি দিয়ে হাঁটি তখন দেখে বিস্মিত হই, রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের মধ্যে একটা বিশাল অংশ নারী। ভোরবেলা জোরপায়ে নারীর কর্মস্থলে যাওয়ার ব্যস্ততা, বিকালে বা ঘোর সন্ধ্যায় ক্লান্তদেহে ঘরে ফেরার দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করে। কখনও হাত ধরে মায়েদের সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া বা স্কুল শেষে ফিরিয়ে আনা, এমনকি পুরোবেলা স্কুল-বারান্দা বা লনে খবরের কাগজ বিছিয়ে সন্তানের জন্য মায়েদের অধীর অপেক্ষা আমাকে আশান্বিত করে। বছরজুড়ে ঢাকার রাজপথ, অলিগলি মুখরিত থাকে নানা শ্রেণি-পেশার নারীর পদভারে। তাদের কারও হাতে পানির বোতল, কারও বা দুপুরের খাবারভর্তি হটপট। বিশেষ করে কাকডাকা ভোরে রাজধানীর রাস্তায় উপচে পড়ে গার্মেন্ট শিল্পের সঙ্গে জড়িত কিশোরীদের কলকাকলিতে। রাজধানী ঢাকাসহ ছোট শহরের এসব দৃশ্য দেখে আমার হৃদয়ে আনন্দে ভরে যায়। শহরের প্রতিটি বাজারে নারীর আনাগোনা বেশি। এদের কেউ অফিস শেষে বাসায় ফিরবেন সংসারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এদের অনেকেই এসেছেন গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। যেখানে তাদের মা-বাবারা এর আগে লেখাপড়ার কোনো সুযোগ পায়নি। অথচ আজ গ্রাম-শহর অঞ্চলভেদে লাখো ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। পুরুষের পাশাপাশি নারীর সামনে এগিয়ে চলাই তো দেশের সত্যিকারের এগিয়ে চলা।
বাংলাদেশে শিক্ষার হার বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষায়, কর্মক্ষেত্রে নারীর সাফল্য গর্ব করার মতো। পাশাপাশি আগের চেয়ে দ্রুত বেড়ে চলছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এদের অনেকেই নিয়োজিত হচ্ছে দেশ-বিদেশের নানা কর্মকান্ডে। কেউ কেউ বহাল হচ্ছে রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে। কিন্তু শিক্ষার এ বিস্তৃত পরিধি দিয়ে আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সমাজের সার্বিক অগ্রগতির, প্রগতির ক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাতে পারছি? আমাদের চিন্তা, মননে এমনকি প্রতিটি কর্মে আমরা কতটা মানবিক? আমাদের অচার-আচরণে, মানবতার বিচারে আমরা কতখানি উদারতার পরিচয় দিচ্ছি?
বারবার এক জিজ্ঞাসা সামনে এসে দাঁড়ায়, আসলে কি আমরা বদলাচ্ছি? নারীকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরুষের যে সহযোগিতা দেয়া প্রয়োজন, তা দিচ্ছি? নাকি উল্টোটা করছি? লেখার শুরুতে ওই যে নারীর এগিয়ে যাওয়া, সমাজে শিক্ষার বিস্তার, দেশের বহমান ধারা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলাম তার মাঝে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন এসে দাঁড়ায়। দেশে তো প্রতিদিন বিরামহীন, অবর্ণনীয় নারী নির্যাতন, নিপীড়নের চিত্র অহরহ দেখছি। পারিবারিক নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি এসিড নিক্ষেপ, যৌন নিপীড়ন শেষে হত্যা, পেটের দায়ে কাজ করতে আসা শিশু গৃহকর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন, যৌতুকের বলি হয়ে নারীর অব্যাহত আত্মহত্যার মতো নারীর প্রতি বহুমাত্রিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। তারপরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, যা কোনো মতে একটি সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত হতে পারে না। কেন এ দেশে প্রতিদিন ভেজাল ওষুধের কারখানা ধরা পড়ে? সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে কেন চিকিৎসক রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠান? আজকাল শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বিরত থেকে তাদের কেন ঠেলে দেন প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের দিকে? দিনের পর দিন কেন চলে কোচিং বাণিজ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস? কেন দেশে কোনো একটি খাদ্যপণ্য ভেজালমুক্ত পাওয়া যায় না? কেন মজুদদাররা খাদ্যমজুদ করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, দাম বাড়ান? কেন কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পথে মিছিল করেন? কেন মানুষ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির বারোটা বাজায়? কেন মানুষ মানুষের গায়ে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে? কেন কিশোর তার সহপাঠী বন্ধুকে তুচ্ছ কারণে পিটিয়ে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না! এত কেনর জবাব কী?
ছেলেবেলায় পড়েছি, শিক্ষা শুধু বই পড়া, কাগজে-কলমে লেখা বা পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সনদ পাওয়াকে বোঝায় না। শিক্ষা হচ্ছে পযধহমব ড়ভ নবযধারড়ৎ অর্থাৎ বিদ্যা বা জ্ঞানার্জন করে একজন মানুষ ভালো-মন্দকে বিচার করতে শিখবে, আচার-আচরণে শালীন হবে, নিজেকে চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেÑ তাকে দিয়ে সমাজ পাল্টানো সম্ভব হবে। শিক্ষা শুধু স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঘরে মা-বাবা, অভিভাবকের কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণের প্রথম পাঠের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বা পারিপার্শ্বিকতা থেকে তার বিস্তৃতি লাভ হতে থাকে। শৈশব-কৈশোরে ঘর থেকে যে মানবিক মূল্যবোধের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সঞ্চারিত হয়, তা একজন মানুষের জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। আর তা মানুষকে সব পাপাচার থেকে দূরে রেখে সুন্দর পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে সাহায্য করে।
আজকাল আমাদের দেশে শিশুশিক্ষার পাঠ্যক্রমে মূল্যবোধ বিকাশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তেমন স্থান পেতে দেখি না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা পাঠ্যক্রমের বাইরে তার শিক্ষার্থীকে তেমন কিছু শেখানোর তাগিদ অনুভব করেন না। আজকাল ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার নামে পাঠ্যপুস্তকে যা অর্ন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের হৃদয়ঙ্গম করে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার তেমন প্রচেষ্টা সবক্ষেত্রে রয়েছে বলে মনে হয় না। মা-বাবা, শিক্ষককেই তো এ দায়িত্বটি নিতে হবে। দায়সারা গোছের শিক্ষকতা দিয়ে তো আর সে অর্জন সম্ভব নয়। আজকাল সন্তানের মা-বাবা তাদের জীবনের স্থূল চাহিদা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে, সন্তানের চরিত্র গঠনের দিকে খেয়াল রাখার সময়-সুযোগ তাদের কম থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গৃহকর্মীর ওপর সন্তানের দায়দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চান তারা। শিশুমন হচ্ছে কাদামাটির মতো। তাকে যেভাবে ইচ্ছে গড়ে তোলা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সুষ্ঠু পরিচর্যা। এসবের প্রতি যতœশীল না হয়ে কর্মব্যস্ত জীবনের জাঁতাকলে পিষ্ট মা-বাবা সন্তানের মানসিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছেন। জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভের প্রত্যাশায় শিশুর সামনে তুলে দিচ্ছেন কতগুলো ভারি ভারি বই। সারা দিন তাকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দানে। আমরা অনেকক্ষেত্রে আমাদের সন্তানকে অজান্তেই খারাপ পথে ঠেলে দিচ্ছি। ব্যর্থ হচ্ছি সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। একজন শিশু-কিশোরকে যদি তার মা-বাবাই বিপথগামী হতে বাধা দিতে না পারেন, তাহলে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অন্য কারও পক্ষে এ কাজটি করা সহজ নয়। আর শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে সবাই তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন কি? শিক্ষকদের মধ্যেও তো রয়েছে বিভাজন, দলাদলি। আর শিক্ষার্থীরা এসবের সুযোগ নেবে, তা স্বাভাবিক। শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলির কারণে তাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাবোধের স্থানটি অনেকটা বিচ্যুত হয়েছে।
আজকাল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, ব্যবসায়ী বা বড় আমলা হওয়ার প্রতিযোগিতার নেশায় নষ্ট করে দেয়া হয় শৈশব-কৈশোরের সব আনন্দ-আয়োজন। সেখানে সুকুমারবৃত্তি চর্চার তেমন কোনো সুযোগ থাকে না। সমাজের প্রতি পদে সে প্রত্যক্ষ করে চরম ভন্ডামি আর নীতিহীনতা। ঘরে, শিক্ষায়তনে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর খুব একটা সুযোগ তার কম। জীবনে বিপুল অর্থসম্পদ গড়ার পেছনে ছুটে চলার দুর্নিবার নেশা তাকে চেপে ধরে জীবনের শুরুতে। বিত্ত-বৈভব আর প্রাচুর্যে জীবনকে রাঙিয়ে তোলার প্রবল বাসনা মানুষের ভেতরকার জীবনবোধকে ক্রমে কুরে কুরে খেতে থাকে। একসময় সে নিজের অজান্তেই হারিয়ে ফেলে সততা ও নিষ্ঠার মতো গুণাবলি অর্জনের সব শক্তি। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেরই অর্থনৈতিক কাঠামো এত সহজে, রাতারাতি বিত্তশীল হওয়ার অনুকূলে নয়। কাজেই দ্রুতগতিতে অর্থবিত্ত কামাতে হলে অনেক সময় আশ্রয় নিতে হয় অনিয়ম আর দুর্নীতির। আর ওই পথে একবার পা বাড়ালে সেখান থেকে ফিরে আসা বড্ড কঠিন হয়ে পড়ে। একজন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী বা যে কোনো পেশায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে গাড়িঘোড়ায় তার ঠিকই চড়া হয়; কিন্তু জীবনের সত্যিকারের সুখ-সমৃদ্ধির সন্ধান লাভ কঠিন হয়ে পড়ে।
মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব। উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সঠিক দায়িত্ব পালন এবং কর্তব্যবোধের সৃষ্টি হয়। সুশিক্ষা বিকাশ ঘটায় মানবিক মূল্যবোধের। ঘরে মা-বাবা, অভিভাবকের কাছ থেকে শিশুকালে যে শিক্ষার শুরু হয় তার ধারাবাহিকতা চলে আমৃত্যু। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক এবং পারিপার্শি¦কতা থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণই মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে পারে। সততা, নিষ্ঠাবোধ ছাড়া মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয় না। আর মানবিক মূল্যবোধ ব্যতীত মানুষ কখনও মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। কাজেই শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে প্রচলিত সর্বস্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় এবং সমাজ কাঠামোর প্রতিটি স্তরে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নিতে হয় রাষ্ট্র ও সমাজকে। শিক্ষা তো মানবতার জন্যই। মানুষ হচ্ছে এ সমাজ ও রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সৎকর্মের দ্বারা গড়ে তোলা সম্ভব নিরাপদ বসবাসযোগ্য এক সুন্দর রাষ্ট্র ও সমাজ।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গল্পকার।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • কীর্তিগাথা ক্রিকেটে অদম্য টাইগাররা
  • তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক
  • দেশী মাছের আকাল ও সংরক্ষণ
  • Developed by: Sparkle IT