সম্পাদকীয়

নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠিত হোক

হুসাইন মুহাম্মদ ফাহিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০১৮ ইং ০০:১৮:৫৫ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত


ভাবতেই গা শিউরে উঠে। পাঁচ বছরের শিশুটি, যে এখনো পৃথিবীকে পুরোপুরিভাবে চিনতে পারেনি, যার কাছে এখনো বোধগম্য হয়ে ওঠেনি ‘লাল-নীল’ আলোর মহিমা, সেও জীবনের যাত্রা শুরু করতে না করতেই ধর্ষণের স্বীকার। হৃদয়হীন জিঘাংসার মুখোমুখি তার বেড়ে ওঠা থমকে দাড়াচ্ছে, থেমে যাচ্ছে অবলীলায়।
শুধু কি পাঁচ বছরের শিশু? পাশবিক অত্যাচারে নির্বিকার হয়ে পড়ছে অসংখ্য নারীজন্ম। সন্ধ্যাবর্তী তুমুল বৃষ্টির অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে অভিভাবক মুখগুলো। শহর থেকে নিয়ে গ্রাম, এভাবে প্রান্তরে প্রান্তরে বিরাজ করছে চাপা কান্না। অসাবলীল পোশাক কিংবা পর্দাহীনতার দায়ে ক্রমে ক্রমে ধর্ষণের হার মারাত্মক পর্যায়ে বেড়ে চলছে। এছাড়া পথে পথে উত্যক্ত হওয়ার ব্যাপার তো অহরহ।
এভাবে আর কতকাল চলবে? কতকাল চলতে পারে? দিনে দিনে আমাদের মানসিকতা এত যে বিকারগ্রস্ত হচ্ছে, তা কেনো? আমরা কি এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না? উত্তরণের কি আদৌ কোন পথ নেই? এইসব প্রশ্ন ভোরের গায়ে মেঘরঙ ছড়িয়ে দেয়। জীবনের বিকেলগুলো ফিকে করে ফেলে।
প্রথম আলো বলছে, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। এ ছাড়া ১১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। গত মাসে সর্বমোট ১০৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। গত মাসে পরিষদের এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মোট ১ হাজার ৭৩৭টি ধর্ষণসহ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা বলে বলা হয়েছিল। অথচ গত বছর ১২ মাসে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৪৫৩টি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অভাব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন নারী নির্যাতন বাড়ার পেছনে দায়ী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।’
এইসব হাহাকার আমাদের বিবেকের বন্ধ্যাত্ব খুলতে পারে না। মানুষ রূপের আড়ালে ওঁতপেতে থাকা হিং¯্র আত্মা ছুঁতে পারে না। ভাবনার দোয়ারে কড়া নাড়তে পারে না। কেনো? আজ যে মেয়েটি ধর্ষিত হলো, সে হয়তো আপনার সম্পর্কে কিছু নয়। কিন্তু সেও তো কেউ একজনের বোন। মা। দরিদ্র কিংবা বিলাসী বাবার রাজকন্যা।
থাক, কিছুক্ষণের জন্য ভাবুন সে আপনার বোন। আপনার বোনকে কেউ ধর্ষণ করছে, অথবা আপনি নিজেই! ভাবতে পারেন? বোধ হয় পারছেন না, পারবেন না। এই ভাবনায় আকাশ কেঁপে উঠবে। যমীন আপনাকে অভিশাপ দিবে। এমনকি বিবেক, আপনাকে তাড়িয়ে ফিরবে। তবে কেনো ভাই! চোখের সামনে মেয়ে দেখলেই স্ফীতি মাপছেন! দ্বিধাহীন কামনায় ধ্বংসের পথে এলিয়ে পড়ছেন!
আজ যে লোকটি একটি মেয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হলো, সমবেদনায় দরদ বিগলিত হলো, একদিন সুযোগ পেলে দেখা যাবে সেও আরেকজনের আব্রুতে আঘাত করছে। এভাবে প্রত্যেকের মানুষ চেহারায় আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি হিং¯্র আত্মা। বৈরী পরিবেশ এবং সুবিধার জঞ্জালে তা ফুটে উঠে, অকপটে।
অপরদিকে পরিবেশ অনুকুল না হলে এবং শাসনের সুচারুপনা বহাল থাকলে কেউ ভেতরের নোংরামি কিংবা হিং¯্রতা প্রদর্শনের সাহস পাবে না। এর জন্য কি রক্ষণশীলতা প্রয়োজন? অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়, রক্ষণশীলতার মাধ্যমে অপ্রতিরোধ্য এই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে। এছাড়া সঠিক বিচার এবং ধর্ষণের বিপরীতে কঠিন শাস্তিটি নির্বিঘেœ বাস্তবায়ন করতে হবে। মেয়ে মায়ের জাত, প্রতিটা মেয়ে নিরাপদ হোক। সমাজে নারীর উপযুক্ত সম্মান প্রতিষ্ঠিত হোক। এবং ধর্ষকবৃন্দ! ভাবুন, কমপক্ষে একবার। অতঃপর বিব্রত হোন। অপরাধের তাপে এবং অনুশোচনায়।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT