প্রথম পাতা

সরকার অতীতের সফলতা-ব্যর্থতাকে মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

ডাক ডেস্ক ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০১৮ ইং ০২:৩৪:২৪ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার তাঁর সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেনে, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। আমাদের অতীতের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভুল-ক্রুটিগুলো সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সকল বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে।
শেখ হাসিনা ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কি ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানান।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে।
সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠুও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোন পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না।’
তাঁর পুরো বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সম্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই।
তিনি বলেন, যদি আপনাদের এটাই প্রত্যাশা হয় তাহলে সবসময়ই আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকুন্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।
এমনি পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ বছর দুঃসহ যন্ত্রনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি ’ ।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর- এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে।
তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।
২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।
আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন।
৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?
তিনি বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!
প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন
  • আওয়ামী লীগের শোক র‌্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
  • এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে
  • দোয়ারাবাজারে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ২
  • নবীগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নিহত
  • দেশপ্রেমিক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হলে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হবে
  • বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
  • অসাধারণ হওয়ার চেষ্টা করবেন না
  • গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আরও ৩ শিক্ষার্থী গ্রেফতার
  • বর্তমান সরকার এক-এগারোর চেয়েও খারাপ : মির্জা ফখরুল
  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করা হবে ------ওবায়দুল কাদের
  • বঙ্গবন্ধুর প্রতি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
  • বাবার ভ্যানগাড়ী নদী থেকে তোলা হলো না আলালের
  • এবার হজ্বে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন সিলেটের ৩৩ যাত্রী
  • সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আজ
  • জকিগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ
  • লামাবাজারে শিক্ষক দম্পতিকে অজ্ঞান করে জরুরি জিনিসপত্র লুট
  • বিদ্যুতের দাবিতে বন্দরবাজারে ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ
  • এ দেশের মানুষকে কেউ দাস বানিয়ে রাখতে পারবে না: ড. কামাল
  • তামাক সেবন কমেছে বাংলাদেশে: জরিপ
  • Developed by: Sparkle IT