সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ: কিশোর অপরাধ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০১৮ ইং ০৩:০৮:৪৭ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

নানা অপরাধ-অপকর্ম ঘটে চলেছে সমাজে। এই অপরাধীদের কাছে রীতিমতো জিম্মি নিরীহ সাধারণ মানুষ। এই অপরাধীদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু-কিশোর। দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছে শিশু-কিশোর অপরাধী। এদের মুক্ত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নেয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। অথচ এ ব্যাপারে সরকারের আইন রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি শিশু। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের নীচের বয়সী সবাই শিশু। আমাদের দেশে শিশু আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু কর্তৃক সংঘটিত যে কোনো অপরাধ কিশোর অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত শিশু-কিশোরদের কিশোর অপরাধী বলা হয়।
বিভিন্ন সময় প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশের শহরাঞ্চলে যতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে অনেক সময়ই জড়িত যাকে কিশোর বয়সীরা। এছাড়া বড় বড় অপরাধীরা অপরাধ সংগঠনের জন্য শিশু কিশোরদের রিক্রুট করে থাকে। এদের হাতে ধরিয়ে দেয় অস্ত্র। এই অপরাধীদের একটা বড় অংশ আবার মাদকাসক্ত। আর এটাই সত্যি যে, মাদকের নেশায় একবার যে বুঁদ হয়েছে, তার পক্ষে এমন কোনো অন্যায় কাজ নেই, যা করা সম্ভব হয় না। মাদকাসক্ত ও পেশাদার অপরাধী হয়ে যাওয়া এই ছেলেদের বিরাট অংশ বেড়ে উঠছে রাস্তায়। এদের নেই কোনো চালচুলো। ছন্নছাড়া এই ছেলেদের সহজেই অভিভাবক হয়ে যায় বড় বড় সন্ত্রাসীরা। এরা অসহায় কিশোরদের ব্যবহার করে নানা অপকর্মে। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ভদ্র ঘরের কলেজ ও স্কুল পড়–য়া ছেলেরাও অনেক সময় বেপথে পরিচালিত হচ্ছে। শহর গ্রাম সর্বত্রই চোখে পড়বে এমন দৃশ্য।
কিশোর অপরাধীদের আর দশটা অপরাধীর মতো বিবেচনা করা ঠিক নয়। তাদেরকে শিশু-কিশোর হিসেবেই বিবেচনা করে তাদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর আচরণ করতে হবে। তাদেরকে দিতে হবে সংশোধনের সুযোগ। কারণ, তারা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। বলা বাহুল্য একজন শিশুকে অপরাধ চক্র থেকে উদ্ধার করলে একজন অপরাধীর সংখ্যাই কমবে। জন্মগতভাবে কোনো নাগরিক অপরাধী নয়। পরবর্তী সময়ে পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সে অপরাধী হচ্ছে। আমাদের দেশে কিশোর অপরাধ নিরসনে আইন রয়েছে। আইনের মূল বিষয় হচ্ছে ঃ অপরাধের সঙ্গে জড়িত শিশুর প্রতি সহানুভূতিপূর্ণ মানবিক আচরণ করা, তার অপরাধমূলক মনোবৃত্তি সংশোধন করে তাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা, তাকে সমাজের বোঝা হিসেবে না ভেবে কর্মশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিচার করা এবং সংশোধনের ব্যবস্থা করা।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শাস্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবার নয়। উন্নত বিশ্বে বড় বড় অপরাধীদেরও সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়। সেসব দেশে কারাগারগুলোই অনেক ক্ষেত্রে সংশোধনাগার হিসেবে কাজ করে থাকে। আমাদের দেশে সেরকম পরিবেশ নেই। শিশু ও কিশোররা কোনো ধরনের অপরাধ করলে, তা সংশোধনের অযোগ্য নয়। একটুখানি মনোযোগী ও যত্নশীল হলে কিশোর অপরাধীদের শুধরানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের সমাজে এই সংশোধনের বিষয়টি উপেক্ষিত। কিশোর সংশোধনাগার থাকলেও সমাজে সেগুলো আদৌ কোনো ভূমিকা রাখছে না। তবে কিশোর অপরাধ দমনে প্রথমেই জরুরি আইনের প্রয়োগ। এর পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা। সর্বোপরি কিশোর অপরাধীদের অপরাধমূলক মনোবৃত্তি সংশোধন করে তাকে সমাজে কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে শিশু থেকে একজন অপরাধী সন্ত্রাসী সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা লোপ পাবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT