সাহিত্য

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০১৮ ইং ০৩:১৩:০১ | সংবাদটি ১৬৪ বার পঠিত

আমি মুক্তিযোদ্ধা নই!
শুভংকর দাস
এসেছিলো একাত্তুর বলেইতো আমরা
স্বাধীনতা পেয়েছি-
এসেছিলো একাত্তুর বলেইতো
সম্ভ্রম-সম্পদ সব খুইয়েছি
হারিয়েছি অগ্রজ দীপংকর আর
অনুজা সঞ্চিতা।
কুলাঙ্গার হায়েনারা শূন্যতা এনেদিলো
আমাদের স্বপ্নীল জীবনে
কিন্তু,
আমি মুক্তিযোদ্ধা নই।
দু’হাত তুলে আকুতি করেছিলো
জলপাই, রংয়ের সাজানো কামানের সম্মুখে
ঠায় দাঁড়িয়ে। বলেছিলো-
কুলাঙ্গার, গুলি চালা ঝাঝরা করে দে বুক
রক্তাক্ত হয়ে যাব, তবু যাসনে ওদিক
কাপড়ের আড়ালে
ওখানে আমার গর্ভবতী স্ত্রী, আছে
দাই আর আত্মীয় কতেক
মেয়ে হলে নাম দেব ‘মুক্তি’ আর ছেলে হলে ‘স্বাধীন’।
কুলাঙ্গার কথা রাখেনি-
শীতল করে দিল দেহটা
শূন্যতা এনে দিলো স্বাভাবিক জীবনে
সবকিছু ছাই হলো শ্মশানের আগুনে
তবু আমি মুক্তিযোদ্ধা নই
একাত্তুর পেয়েছি
স্বাধীনতা পেয়েছি
রণাঙ্গনে থাকিনি
তবু,
আমি মুক্তিযোদ্ধা নই!

সন্ধ্যাটা ধার নিয়েছি
মুহাম্মাদ রাইহান
জন্মমাত্র পাগল আমি
মজ্জাগত আমার জোছনার অসুখ
অন্ধকার আমার প্রতি লোমকূপে সেঁটে থাকে
দুরারোগ্য ব্যাধির মতো
সন্ধ্যার হেয়ালি হাওয়া গায়ে লাগলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে
নিত্য সহচর পাগলামি
পোড়া চোখে লেগে থাকে নক্ষত্রের খড়কুটো সৌন্দর্য

ভালো থাকতে আমার চাই খাবলা খাবলা জোছনা
দলাদলা অন্ধকার
আলো-আঁধারের চটকানো শরাব
অঞ্জলি ভরে আমি পান করি সন্ধ্যার লাল
আর উর্বশী বর্ষার মুখখোলা মলম নিয়ম করে গায়ে না মাখলে
সুস্থ থাকতে পারি না আমি কোনো বর্ষাতেই

অথচ দেখো, কী গহীন বিস্তার নিয়ে
এখন আমায় ঘিরে রাখে ব্যস্ততার কাঁটাবন
হ্যাজাকের লালচে আলোয় সন্ধ্যাভর হাত-পা ছুঁড়তে থাকি
ফাঁদবন্দি হরিণের মতো
জোছনার ঝাঁকঝাঁক ঘাঁই হরিণ লাফিয়ে বেড়ায়
উঠোন থেকে উঠোনে
দারুণ সজ্জিত তিমিরেরা ডেরা পাতে
যুবতী বৃক্ষের নবজাতক পাতায়
অথচ আমার দৃষ্টি বেঁধে রাখে ইটপাথরের সঙ্গমে
বেড়ে ওঠা কর্কশ স্থাপত্যলীলা

বাল্বের ধবধবে বিষ গিলতে গিলতে জীবন্মৃত আমি
আজকের সন্ধ্যাটি ধার নিয়েছি
আমার প্রিয়তম নদীটির কাছে ফিরে যাবো বলে
যেখানে গলেগলে সন্ধ্যা নামে লাজুক বড়বাঘার বাজুবন্ধ অবধি
আজকের সন্ধ্যায় ফিরে যাবো
সোঁদাগন্ধে ভরা মেঠোপথের মানচিত্র বেয়ে
অন্তরঙ্গ অভিসারে কাটাবো লালিমার ললিত লগণ
চন্দ্রের শরীর থেকে খুঁটে নেবো জোছনাজাত চিত্রকল্প

জাফরানের কালিতে লিখে গলায় দিয়েছি কবিতার তাবিজ
অতএব দূরে থাকো ব্যস্ততার ভূত
দূরে থাকো প্রেয়সীরা, বন্ধুরা
দূরে থাকো প্রথা আর নিয়মের চোখরাঙানি
আজকের সন্ধ্যায় আমি শুধুই মুখস্থ করবো কুয়াশার ব্যাকরণ
পাতা থেকে ঝরেপরা শিশিরের টুপটাপ অন্তমিল।

কতোদিন হয় সৌন্দর্যহীন, কবিতাবিহীন একা পড়ে আছি,
আজকের সন্ধ্যাটুকু আমায় দাও, আমি আমাকে নিয়ে বাঁচি।

মানুষ
আবুযর রেজওয়ান
সুরমার তীরে দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্যে ছিলাম উন্মত্ত
নদীকে আমি দেখেছি, অনেক পুরনো পরিচয়
হৃদ্যতা কিংবা আকর্ষণ
কোনোটাই ছিলো না
আজকাল মানুষের সাথে প্রেম করতে গিয়ে
নদীও আমার প্রেমে পড়ে
প্রেমে পড়ে পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীকূল
ফসলের মাঠ, পর্বত, উপত্যকা, মরুদ্যান, গিরিশৃঙ্গ
আর মানুষ পরিজাত প্রকৃতির কাছে
দুর্ভাগ্য প্রেমিককূলের, সব সম্পর্ক ছিন্ন না করে
শত্রুতাই যদি বাকী রাখত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT