প্রথম পাতা

পৌষ সংক্রান্তি আজ, চলছে বিভিন্ন স্থানে মাছের মেলা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০১৮ ইং ০৩:৪২:৩৯ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত

ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি আজ। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে এ উৎসব উদযাপিত হয় পিঠা-পুলি আর ঘুড়ি ওড়ানোসহ বিভিন্ন আচার-আয়োজনে। গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এদিন ঘরে ঘরে চলে বাহারি পিঠা-পুলি আর মিষ্টান্ন তৈরির ধুম। চলে ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতা। যদিও কালের বিবর্তনে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব কিছুটা স্তিমিত হয়ে গেছে।
পৌষ সংক্রান্তি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উদযাপন করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদির সাথে প্রতিটি বাড়িতে তৈরী হয় পিঠা-পুলি ও মিষ্টান্ন। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেট মহানগরীসহ বিভাগের সকল স্থানে আজ রোববার উদযাপিত হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি উৎসব।
এ উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। নগরীর বন্দরবাজারস্থ লালবাজারে গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী মাছের মেলা। লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এ মেলার আয়োজন করে। প্রথম দিন থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকার কুশিয়ারা নদীর পাড়ে প্রায় ২শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার রাত থেকে। শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে প্রায় দুইশত বছর পূর্ব থেকে চলে আসছে এ মাছের মেলা। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলাটি শুরু হলেও এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় তিনদিনব্যাপী এই মেলা। হাওর ও নদীতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির তরতাজা মাছ কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সৌখিন ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছেন মেলায়।
মাছের মেলা হলেও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী, খেলনাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্যের দোকান স্থান পাচ্ছে এখানে। রয়েছে শতাধিক মাছের দোকান। ৫শ’/হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছ উঠেছে মেলায়। চলবে আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত।
মেলার আয়োজকরা জানান, মেলায় এ বছর প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার স্থানীয় নদী ও হাওরের মাছ বেশি।
বিক্রেতারা এর কারণ হিসেবে জানান, সম্প্রতিককালের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন হয়েছে বেশী। যার কারণে মেলায় বিক্রেতারা স্থানীয় নদী ও হাওরের মাছ নিয়ে আসতে পারছেন প্রচুর।
আয়োজকরা জানান, মেলার ১ম দিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়েছে। আজ শেষ দিনে ক্রয়-বিক্রয়ের এ হার আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। মেলায় আসা দর্শক ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, শ্রীমঙ্গল থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, শ্রীমঙ্গল নতুনবাজারে  প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দিনব্যাপী ঐতিহাসিক মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এ মেলাটির আয়োজন করা হয়ে থাকে। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই মাছের মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর লোক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। মেলা চলবে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত। মেলায় বোয়াল, বাগাই, বড় আকৃতির আইড়, চিতল, গজার, রুই, কাতলসহ দেশীয় নানা প্রজাতির আকর্ষণীয় মাছ নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। এছাড়াও পুটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চান্দা মাছ উঠেছে ব্যাপক হারে। মেলাটির প্রধান আকর্ষণ মাছ হলেও এতে কৃষিউপকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ভোগ্যপণ্য, আখ, শিশুদের খেলনাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সরেজমিনে মেলায় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩ শতাধিক বিক্রেতা অংশ নিয়েছেন শ্রীমঙ্গলস্থ নতুনবাজারে মাছের মেলায়। বড় বড় মাছের সাথে দেশীয় নানা প্রজাতির ছোট মাছও নিয়ে এসেছেন অনেক বিক্রেতা। বেচাকেনাও চলছে ধুমছে। প্রত্যেকটি দোকানের সামনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন আবারও কেউ কিনছেন এবং কেউ কেউ দেখে দেখে তৃপ্ত হচ্ছেন। মাছ ছাড়াও তারা মেলায় উঠা হরেক রকমের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের খাবার, শিশুদের জন্য খেলনা আর নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রসাধনীসহ সাজ গোজের জিনিস কিনছেন।
একজন দোকানী জানান, বিভিন্ন নদী ও হাওর থেকে মাছ আসে এখানে। এ মেলাকে লক্ষ্য করে চলে মাছ ধরারও উৎসব।
তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই এ মেলায় মাছ নিয়ে আসি। বাজারের তুলনায় মেলায় মাছের দাম বেশি হলেও সবাই আনন্দের সাথে মাছ কিনেন।
মেলায় ঘুরতে আসা নিজাম চৌধুরী জানান, এখানে শুধু মাছ কেনাটাই বড় কথা নয়। বাপ-দাদার মুখে বড় বড় মাছের গল্প শোনা ছাড়া দেখা হয়নি। এখানে এসে বড় বড় মাছগুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে নিলাম।
তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে তাদের গল্পগুলো অবিশ্বাস্য মনে হতো। কিন্তু এখানে এসে সেই ভুলও ভেঙে গেল।
স্থানীয়রা জানান, এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিবছরের ন্যয় এ বছরও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
আমাদের কমলগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার শমশেরনগর, ভানুগাছ বাজার, আদমপুর বাজার ও মুন্সীবাজারে বসেছে মাছের মেলা। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় মেলা। এতে দেশীয় বিভিন্ন জাতের বড়-ছোট মাছ সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। পৌষ পার্বন উপলক্ষে বড় আকর্ষণ থাকে বাজার থেকে পছন্দ মত বড় আকারের মাছ কিনে খাবার তৈরী করা। এসব মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মাছের দোকানের সামনে ছোট আকারের মাছ সাজিয়ে রাখা হলেও সংগ্রহে রাখা হয়েছে নানা জাতের বড় আকারের মাছ। চিতল, রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, আইড়, ব্রিগেট, বাঘ মাছ, রূপচাঁদা, গ্রাসকার্পসহ নানা জাতের সামুদ্রিক মাছ। এর মাঝে কিছু বিলীনপ্রায় প্রজাতির মাছও সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। চড়া মূল্য হাকলেও ক্রেতারা সহনীয় দামেই কিনতে পারছেন এসব মাছ। মেলায় ১৫ কেজি ওজনের একটি বাঘ মাছের দাম নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার টাকা। ১০ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছের দাম ছিল ১৫ হাজার টাকা। ১০ কেজি ওজনের একটি রুই মাছের দাম ছিল ১২ হাজার টাকা। ক্রেতা সঞ্জয় দাম গুপ্ত, সুজিত দেবনাথ ও সমরজিৎ বর্মা জানান, এ উৎসবে বাজারে নানা জাতের বড় আকারের মাছ উঠে। এটি দেখারও একটি বিষয় থাকে। দাম বেশী হলেও পরে দরাদরি করে কিনে নিতে হয়।
মাছ বিক্রেতা মানিক মিয়া, মারুফুর রহমান মুকুল, আমির হোসেন জানান, দাম বড় কথা নয়। মূলত ক্রেতাদের আকর্ষিত করে এমন বড় আকারের মাছ সরবরাহ করা হয় মাছ মেলায়। যদিও বেশ চড়া দাম বলা হলেও ক্রেতারা দরাদরি করে পড়ে সহনীয় পর্যায়ে হলে কিনে নিচ্ছেন। আর পরিবহন ব্যয় ধরে সামান্য লাভ হাতে রেখেই অবশেষে দাম কমিয়ে মাছ বিক্রি করছেন তারা।
মাছের আড়ৎদার আব্দুল মিয়া বলেন, আগের চেয়ে এখন দেশীয় মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। সাধারণত বাজারে এত বড় আকারের মাছ উঠে না। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাওর, বাওর, বিল ও বড় নদী থেকে ধরে আনা বড় আকারের মাছ এ বিশেষ দিনের জন্য সরবরাহ করতে হয়। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তারা বাজারের নানা জাতের বড় আকারের মাছ সরবরাহ করেছেন। মাছ মেলায়  গভীর রাত পর্যন্ত এ বিক্রয় চলবে বলে আড়ৎদার জানান।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বিভিন্ন স্থানে ড. মোমেনের নির্বাচনি সভা ও গণসংযোগ
  •   মহান বিজয় দিবসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি
  • ভোটকক্ষে ছবি তোলা যাবে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি
  •   শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার চেষ্টা করবো
  •     ওসমানী বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বার জব্দ
  • ড. কামাল এখন বেপরোয়া চালকের মতো : কাদের
  •   ড. কামাল হোসেনের দুঃখ প্রকাশ
  • মহান বিজয় দিবস আজ
  • প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরসূচি পরিবর্তন ॥ আসছেন ২২ ডিসেম্বর
  • বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি
  • ছুটির দিনেও প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা
  • প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে আসছেন ২১ ডিসেম্বর
  • জাতীয় পার্টির ১৮ দফার ইশতেহার
  • পুলিশকে বেআইনি নির্দেশ না মানতে পরামর্শ ড. কামালের
  • জামায়াত নিয়ে প্রশ্নে কামাল বললেন ‘খামোশ’
  • চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন আর নেই
  • ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
  • সিরিজ জয়ে অভিষিক্ত সিলেট ভেন্যু
  • সিলেট-২ আসন প্রার্থীতা ফিরে পেলেন মুহিব-সরদার
  • বিজয়ের মাস
  • Developed by: Sparkle IT