স্বাস্থ্য কুশল

শিশুদের শীতকালীন রোগ থেকে বাঁচাতে যা করবেন

সৈয়দা রওশন আরা পারভীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০১-২০১৮ ইং ০০:০৪:০৪ | সংবাদটি ২৩৯ বার পঠিত

শীতকালে নাক দিয়ে পানি ঝরা, , হাঁচি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ জাতীয় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ সময় সামান্য জ্বর, ঠান্ডা লাগা অতি সাধারণ অথচ ছোঁয়াচে রোগ। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের কারণে এ রোগের আবির্ভাব ঘটে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নাক দিয়ে পানি ঝড়া, , হাঁচি, কাশি, নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, শরীর ব্যথা, সামান্য জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়। অনেক সময় ছোট শিশুদের ফুসফুসে ইনফেকশন হয়ে ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়াও হতে পারে। মধ্য কানের প্রদাহও হতে পারে। আর বড়দের হতে পারে সাইনোসাইটিস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাইনো ভাইরাস দিয়ে শ্বাসনালির সংক্রমণে সর্দি হয়। অন্যান্য ভাইরাসের মধ্যে আছে, কোরোনো ভাইরাস, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস প্রভৃতি। রাইনো ভাইরাসের একশোরও বেশি প্রকারভেদ রয়েছে। এ জন্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পরিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে উঠে না। ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর কয়েকদিনের মধ্যেই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে রোগ ভালো হয়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার মধ্যে মারাত্মক হলো নিউমোনিয়া। নিউমোনিয় হলো ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ। সংক্রমণ এবং এর পরবর্তী প্রদাহ থেকে এ রোগ হয়। সংক্রমন হতে পারে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ইত্যাদি দিয়ে। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মৃত্যুর ১৮ শতাংশই হয় নিউমোনিয়ার কারণে। এ সময় আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে শিশুরা সর্দিজ্বর, কাশি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতকালে বাতাসে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়। যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘিœত করে ভাইরাসের আক্রমনকে সহজ করে। তাই শীতকাল বিভিন্ন রোগ জীবাণু বিশেষত: ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
শীতের এ সময়টাতে নানা ধরনের অসুখ বিশুখ মানুষকে বেকায়দায় ফেলে দেয়, যেমন- ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, খুসখুসে কাশি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীর ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, গলা ব্যথা, জ্বর সহ বিভিন্ন সমস্যা। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে সুস্থ লোকের দেহে খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। রোগীরা যখন হাঁচি, কাশি দেয়, নাক ঝাড়ে, ভাইরাসগুলো তখন বাতাসে ক্ষুদ্র কনিকারুপে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো শ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে ঢুকে যেতে পারে। রোগী যখন তার হাত দিয়ে নাক ঝাড়ে, হাত বা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দেয়, তখন হাত দ্বারা রুমালে ভাইরাস লেগে যায়। এ ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে কয়েক ঘন্টা। ভাইরাস লেগে থাকা হাত দিয়ে রোগী যখন সুস্থ কাউকে স্পর্শ করে, তখন সুস্থ লোকটিও সংক্রমিত হয়।
যারা নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয় : যেসব শিশুদের বয়স দুই বছরের নিচে তারা নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়।  কারণ এ সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। যেসব শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো হয়নি, বিশেষ করে শালদুধ এবং এসব শিশুদের এই সময় চালের গুড়া খাওয়ানো হয়েছে, তারা অপুষ্টিতে ভোগে। এসব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং যে কোন রোগে তাড়াতাড়ি আক্রান্ত হয়। গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়, এর প্রধান কারণ ঘনবসতি ও বায়ু দূষণ। যাদের সামনে ধূমপান করা হয়। যে সব শিশুদের রোগ প্রতিরোধক টিকা দেওয়া হয়নি , বিশেষ করে নিউমোনিয়ার টিকা, তাদের নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ :  নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর, দ্রুত নি:শ্বাস এবং শ্বাস-প্রশশ্বাসের হার (কম বয়সী শিশুদের শ্বাস নেওয়ার হার (দুই মাসের মিনিটে ৬০ বারের বেশি, ২ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের মিনিটে ৫০ বারের বেশি এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর মিনিটে ৪০ বারের বেশি শ্বাস –প্রশ্বাস নিলে তাকে শ্বাসকষ্ট বলা হয়) বেশি থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকের পাজরের নিচের অংশ ভিতরের দিকে দেবে যায়।
নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায় : শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সবার আগে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করুন। জন্মের পর এক ঘন্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ দিতে হবে এবং পূর্ণ ছয় মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ পান করান।  বার বার হাত ধুবেন, বিশেষ করে শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে। ঘরে, বিশেষ করে শিশুর সামনে ধূমপান করবেন না।
রান্না ঘর ও শোয়ার ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন, যাতে করে ঘরের ধোঁয়া ঘরে আটকে না থাকে। এক বছরের মধ্যে সময় মতো শিশুর সব টিকা, বিশেষ করে নিউমোনিয়ার টিকা দিতে হবে।
শীতকালে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা বেশি প্রয়োজন। এ সময় ধুলাবালি ও রোগ জীবানুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয় ফলে অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।
চিকিৎসা : নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু খাবার ও পানি যেন পরিপূর্ণভাবে পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা বুকের দুধ খায়, তাদের বুকের দুধ কোনমতেই বন্ধ করা যাবে না। বার বার শিশুকে বুকের দুধ দিতে হবে। নাক দিয়ে পানি পড়া কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিষ্টামিন এবং ব্যথা ও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। শ্বাসকষ্টের জন্য সালবিটামল দেওয়া হলেও আসল হলো যথোপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক। সুস্থ হয়ে গেলেও অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। নাক ঝাড়ার পর হাত ধুঁয়ে ফেলা, নাক ঝেড়ে যেখানে সেখানে নাকের ময়লা না ফেলা, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল বা হাত দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা। শিশুর ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়াসহ যেকোন জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  •   হৃদরোগীদের খাবার-দাবার
  • ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
  • মুখে ঘা হলে করণীয়
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন
  • নীরব রোগ হৃদরোগ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • শিশুর উচ্চতা কমবেশি কেন হয়
  • গরমে পানি খাবেন কতটুকু ডা. তানজিয়া নাহার তিনা
  • অধূমপায়ীদের কি ফুসফুসের রোগ হয়?
  • বিষন্নতা একটি মানসিক রোগ
  • ঘাতক ব্যাধি এইডস : ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ
  • স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন পুরুষও
  • মেপে খান মাংস
  •  গরমে ঘামাচি থেকে রক্ষা পেতে
  • Developed by: Sparkle IT