শিশু মেলা

বাবু চাচার বুলু

খালেদ উদ-দীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০১-২০১৮ ইং ২৩:৪৪:৩৩ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

ছোট চাচাকে আমরা বাবু চাচা ডাকতাম। বাবু চাচা আমাদের বন্ধুর মতো। তার থাকা মানে হৈ চৈ, গল্পের আসর। বাবু চাচা অনেক গল্প জানে। প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প বলতে পারেন। একটা গল্প আর একটা গল্পের চেয়ে মজার। যেদিন বাবু চাচার ছুটি থাকে, সেদিন আমরা বলি আজ গল্প আর খেলার দিন। কত মজা, কত রকমের নতুন নতুন খেলা আমরা খেলি। কখনও কখনও চাচা আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। একবার তো আমি ছবি আঁকায় প্রথম হয়েছিলাম। বাবু চাচা খুব খুশি হয়ে পার্কে গিয়েছিলেন। আসার পথে খুব চমৎকার একটি পাজল কিনে দিলেন।
আমাদের বাবু চাচার খুব সুন্দর একটি বিড়াল ছিল। একদিন কোথা থেকে যেন এই বিড়াল ছানা নিয়ে এসেছিলেন। সাদা রঙের কোমল বিড়াল ছানা। চোখ দুটি বড় বড় করে কেমন যেন তাকিয়ে থাকে। বাবু চাচা বিড়াল ছানাটিকে অনেক যতœ করেন। বাটির মধ্যে একটু দুধ রাখলে বিড়াল ছানা কী সুন্দর করে খায়। বিড়াল ছানাটিও বাবু চাচাকে খুব পছন্দ করে বলে মনে হয়। হাত দিয়ে ইশারা করলে কাছে যায়। কুলে উঠে চুপচাপ বসে থাকে।    
একদিন বাবু চাচা আমাদের সকলকে ডাকলেন। বললেন আজ বিড়াল ছানার বয়স তিন মাস হলো। আজ বিড়াল ছানার নাম রাখা হবে। আমি বললাম, বিড়াল ছানার নাম আরও আগে দিলে না কেন? বাবু চাচা বললেন, তিন মাস হলে বিড়ালদের নতুন নাম দিতে হয়। অবশেষে সকলের সাথে আলোচনা করে বিড়াল ছানার নাম রাখা হল বুলু।
আমরা সকলে পরের দিন থেকে লক্ষ করলাম বুলু ডাকলে ছানাটি তাকায়, কোন কোন সময় কাছেও আসে। চাচা ডাক দিলে দৌড়ে গিয়ে কুলে উঠে বসে। দিনে দিনে বুলু আমাদের সবার সাথে মিশে গেল। চাচা বাসায় না থাকলে আমরা কেউ যদি দুষ্টামি করে ধমক দিই তাহলে বুলু মিয়াঁউ বলে ঘরের এক কোনে গিয়ে নিরবে বসে থাকে। তখন বুলুর জন্য আমাদের খুব মায়া হয়। বুলু রাতের বেলা বাবু চাচার সাথে তার বিছানায় ঘুমায়। বুলু মাজে মাঝে দুষ্টামিও করে। হঠাৎ পায়ে আঁচড় দেয়। দেখতে দেখতে বুলু অনেক বড় হয়েছে। এখন বুলুকে অনেক সুন্দর লাগে।
আমাদের বাসার অনেক দিনের পুরনো বুয়া হঠাৎ করে একেবারে দেশের বাড়ি চলে গেলে, অনেক খুঁজাখুঁজির পর নুতন এক বুয়া নিয়ে আসা হয়েছে। বুয়ার সাথে তার ছোট এক ছেলে থাকে। তার নাম রাসেল। সে খুব দুষ্টু। এটা নাড়ে। ওটা ফেলে দেয়। সারাদিন ছটফট করে। আমাদের বয়সি হলেও সে অনেক দুষ্টামি করত। তার মা তাকে অনেক মারত। তার পরও দুষ্টামি থামে না। আমাদের সকলের খুব আদরের বুলুর সাথেও সে লাগত। বুলু তাকে খুব ভয় পেত। তাকে দেখলে দৌড়ে পালাত। বাবু চাচা রাসেলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে যদি বুলুর সাথে লাগে তা হলে তাকে ঘরে আসতে দিবে না। বাবু চাচা বাসায় না থাকলে রাসেল যদি বুলুকে একা দেখে, তাহলে বুলুকে ধমক দেয়। কখনও কখনও হাতে কাঠি নিয়ে দৌড়ায়।
একদিন হঠাৎ বাবু চাচার চোখের সামনে বুলুকে কাঠি দিয়ে দৌড়াতে দেখে বাবু চাচা তার মাকে গিয়ে বললে তার মা তাকে অনেক বেশি মারেন এবং রাসেলও অনেক কান্নাকাটি করে। তারপর থেকে রাসেল একদম নিরব। আর কোনো দুষ্টামি করে না। চুপচাপ বসে থাকে। আমরাও খুশি।
একদিন বিকেল বেলা চাচা অফিস থেকে ফিরে খুব হৈ চৈ শুরু করলেন। আমরা সবাই চাচার রুমে পেলাম। বুলুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সবাই খোজাখুঁজি শুরু করলাম। এঘর, ওঘর বারান্দা, কোথাও বুলু নেই। রাসেলও বাসার মধ্যে নেই। তার মা কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। আমাদের বাড়িতে বিরাট কলরব। সন্ধ্যার সময় চুপিচুপি বাসায় এসে রাসেল ঢুকল। সবাই রাসেলকে অনেক কথা জিজ্ঞেস করল। সে একদম চুপ কোনো কথা বলে না।
পরের দিন বাসার সীমানা দেয়ালের পাশে বুলুকে মরা অবস্থায় পরে থাকতে দেখা গেল।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT