শিশু মেলা

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০১-২০১৮ ইং ২৩:৫৬:১১ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

ফুলের মতো ফুটবো
সাজিদ মাহমুদ
ফুলের মতো ফুটতে যে চাই
এ ধরণীর মাঝে
নামের মাঝে নয় পরিচয়
চাই যে দিতে কাজে।

ফুলের মতো ফুটবো আমি
খুশবু সুবাস নিয়ে
মানব মনে জায়গা নেবো
ভালোবাসা দিয়ে।

মানবতার জন্য জীবন
বিলিয়ে দেবো আমি
দেশের তরে জীবন দিয়ে
চাই যে হতে দামী।

করবো আমি
আকরাম ছাবিত
চাঁদনি রাতের গোল্লো চাঁদটা
করবো আমি চুরি,
দেখবো আমি চাঁদের কোণে
বসে থাকা বুড়ি।

আকাশ নদে ধরবো তারা
ছোট্ট চিকন জালে,
ঝিঁ ঝিঁ পোকা তারা হয়ে
খেলবে টিনের চালে।

উড়বো আমি পালক দিয়ে
মুক্ত আকাশ মাঝে,
পরীর সাথে বন্ধু হয়ে
কিংবা পাখির সাজে।

বৃষ্টি হয়ে ঝরবো আমি
এই সোনালি ভবে,
আমায় দেখে সূর্যেরও ভাই
দিগুন আলো হবে।

মাছের বেশে থাকবো আমি
ছোট্ট দীঘির জলে,
ফুলের সুবাস হব আমি
রাঙ্গা প্রভাত হলে।

মৌ-মাছিদের দলে থেকে
বসবো আমি ফুলে,
ফুলের মধু চুষে চুষে
আনবো ঘরে তুলে।

মানুষ রূপি
সৈয়দ আছলাম হোসেন
ভালো কাজে মন্দ বলে
এমন মানুষ যারা,
মানুষ রূপি পশু নাকি
এই দুনিয়ায় তারা।
স্বার্থ পেলে কাছে ডাকে
স্বার্থ গেলে শেষ,
এমন মানুষ এই সমাজে
চোখে লাগে বেশ।
ভাল কাজ করতে গেলে
লাগে তারা পিছু,
হাজার গোজব ছড়িয়ে দিয়ে
করতে চায় নিচু।
পরের ভালো সয়না তাদের
ভাবে শুধু মন্দ,
পরের লেখা চুরি করে
মিলায় তারা ছন্দ।
ক্ষমা করো দয়াল ওদের
ক্ষমা করে দাও,
ভালো কাজ করার মত
সাহস দিয়ে যাও।

বিবর্তনের বিড়ম্বনা
চন্দ্র শেখর দেব
বিশ্বাসের উঠে গেছে নাভিশ্বাস
জনম ভরেই পেলাম শুধু আশ্বাস
দেখে চোখে কথার ফুলঝুরি
জন্মিতেই কেন গেলাম না মরি।
ভন্ডামী আর ভালো লাগে না
শালা ভন্ডা কেন মরে না
সাধু বেটা পাইনা খোঁজে
রয়েছে তারা মুখ বুজে।
হেসে হেসে বাঁদুড় বলে
উল্টো লটকে আছি ডালে
সোজা হলে দেখি তোদের মাথা নাই
তোমরা না কি মানুষ, বড় লজ্জা পাই।
এটা শোনে সামনে গেল হেঁটে
বান্দর এবার তাকে ভেংচি কাটে
তুই আমার বংশের ছিলে স্বজাতি
কেন গেলি শহরে করলি বেইজ্জতি।
সামনের দুই পা, উপরে কেন
পিছনের লেজ কি গেছে হারানো
গায়ে কেন কাপড় পায়ে কেন জুতা
কি হলো বাছা তোর ওরে বেভুতা।
মাফ করো দাদীমা হয়ে গেছে ভুল
ইচ্ছে মতো শহরে দিয়েছি মাশুল
ভুলতো করিসনি করলি অপরাধ
তোদের নিয়ে জঙ্গলে চলছে বিবাদ।
আমাদের ফুটানি, নাই লালসা
শুনেছি আমাদের নিয়ে তারা করে তামাসা
বদলেছে গায়ের চামড়া বদলেছে চরিত্র
জোরে নাকি বলে তারা ফুলের মতো পবিত্র।

বসন্ত
মোহাম্মদ রুহেল
গাছে গাছে ফুল ফুটে
আল্লাহর দান,
পাখিদের কলরবে
প্রভাতের গান।
প্রজাপতি উড়ে বসে
ফুলে করে ভীড়,
পাখিরাও গড়ে তুলে
নিজেদের নীড়।
কোকিলের কুহু কুহু
সুমধুর শান্ত,
কৃষকের জয়গানে
এলো রে বসন্ত।

কন্ঠ মাঝে
বিমান বিহারী বিশ্বাস
ও রংগন,
আমায় একটুকু রং দাও
আমি অঙ্গে মাখব
দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখব।
ও চাঁদ,
আমায় একটুকু আলো দাও
আমি চাঁদের হাসি হাসব
তোমার মাঝে মিশে যাব।
ও সূর্য,
আমায় একটুকু জ্যোতি দাও
আমি জ্যোতির্ময় হব,
তোমায় নাচ দেখাব।
ও বৃষ্টি,
আমায় একটুকু ছুঁয়ে যাও
আমি ¯িœগ্ধ হব
তোমায় চেয়ে চেয়ে দেখব।
ও বাতাস,
আমায় পরশ বুলিয়ে দাও
তোমায় গান শুনাব,
তোমার মাঝে হারিয়ে যাব।
শুনেছি শালিক গানের পাখি
তাই বেড়াই তার খুঁজে
হার মানাব ঐ শালিককে
আমার কন্ঠ মাঝে।

পথোশিশু
অনন্ত পাল
পথোশিশু পথে ঘুমে
মাথা নেই বালিশে,
বড়লোকের দ্বারে গেলে
খায় কতো গালি সে।

বড়লোকের ছেলে-মেয়ে
থাকে কতো আদরে,
শীত পেলে ঢাকে তারে
কাশ্মীরি চাদরে।

এই শীতে পথোশিশু
তা দেয় আগুনে,
বড়লোকে কম্বলে
দিন কাটায় ফাগুনে।


বীরত্বগাঁথা
সেকেল আহমেদ

বলছি শোন গল্প সবি
ধরছি তুলে অল্প ছবি
উঠলে মনে বিঁধ করে যায়
রক্তমাখা তীর,
লাখে লাখে জীবন দিল
একাত্তরের বীর।
দেশের তরে প্রাণ হারিয়ে
বেঁচে থাকার ঘ্রাণ হারিয়ে
স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে
ছিন্ন করে বুক,
করল লড়াই বাংলা মায়ের
দেখতে হাসি মুখ।
পাকবাহিনী ধ্বংস করে
সব ঘাঁটি নির্বংশ করে
আনল কেঁড়ে জাতির কাছে
মুক্ত স্বাধীন দেশ,
বঙ্গাকাশে লাল সবুজের
উড়লো নিশান বেশ।
আসছি তাদের স্মরণ করে
পুষ্প দিয়ে বরণ করে
একটি বারও ভুলব নাকো
রক্ত ঝরার দিন,
কোনোদিনও শোধ হবে না
বীরসেনাদের ঋণ।

ঈমানদারী
মুন্সি আব্দুল কাদির

হৃদয়ে কি মোর
ইমানের নুর?
যা দেখে ভয়
পাবে অসুর।

কতটুকু ডুবে
আছি রবের প্রেমে?
জীবন চলেনা আজ
কোরআনের ফ্রেমে।

রাসুলের ভালবাসা
আছে কি গো ধ্যানে?
আমলের থলি খালি
ধনী নই জ্ঞানে।

মুমিনের প্রতি
আছে কতটুকু টান?
শত্রুতে পিরিতি কত!
কোথা তার মান?

কাঁদি কি গো খোদা তরে
শুধু আফসোস?
পাতি না যে দুটো হাত
হইনা বেহুস।

বন্দি আমি আজ
দুনিয়ার জালে
অর্থ জষ খ্যাতি
ধরা দিক ভালে।
 

 



শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT