ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কোরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০১-২০১৮ ইং ০০:৩৬:২৯ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
হজ্জ ও ওমরা সংক্রান্ত আলোচনা :
এই আলোচনার পর হজ্জ, ওমরা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। প্রথমে চন্দ্রমাসসমূহ সম্পর্কে, এই চন্দ্রমাসগুলো যে মানুষের জন্যে ও হজ্জের জন্যে সময় নির্দেশক, সে সম্পর্কে বক্তব্য রাখা হয়েছে। তারপর আলোচনা করা হয়েছে নিষিদ্ধ মাসসমূহে যুদ্ধ বিগ্রহ ও মাসজিদুল হারাম সম্পর্কে। আর সর্বশেষে আলোচনা এসেছে হজ্জ ওমরা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ সম্পর্কে। সুতরাং এ বিষয়গুলোর ভেতরে একটা সুসমন্বিত ধারাবাহিকতা সুস্পষ্ট। ১৯৬নং আয়াত থেকে ১০৩নং আয়াত লক্ষ করুন।
হজ্জ সংক্রান্ত এই আয়াতগুলোর কবে নাযিল হয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য নেই। কেবল একটি মাত্র রেওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, হজ্জে যাওয়ার পথে কোনো বাধা পেয়ে হজ্জে যেতে অসমর্থ হলে সহজলভ্য জন্তু কুরবানি দেয়ার বিধান সম্বলিত ১৯৬ নং আয়াতটি নাযিল হয় ৬ষ্ঠ হিজরীতে হোদাইবিয়া নামক স্থানে। অনুরূপ হজ্জ ফরয হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখও আমাদের জানা নেই, চাই তা সূরা বাকারার আলোচ্য ১৯৬নং আয়াত দ্বারাই ফরয হোক কিংবা সূরা আলে ইমরানের ১৯৪ নং আয়াত দ্বারা।
এ দুই আয়াতের কোনোটিরই নাযিল হওয়ার সময় সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। ‘যাদুল মায়া’দ নামক গ্রন্থে ইমাম ইবনে কাইয়েম বলেছেন যে, ৯ম কিংবা ১০ম হিজরীতে হজ্জ ফরয হয়েছিলো। তিনি যুক্তি দেন যে, রাসূল (সা.) ১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জ সম্পন্ন করেন এবং সেটা তিনি হজ্জ ফরয হবার পরই করে থাকবেন, চাই তা ওই বছরেই হয়ে থাক কিংবা পূর্ববর্তী বছরে। কিন্তু এটা তেমন সবল যুক্তি নয়। কেননা রাসূল (সা.) অন্য কোনো কারণেও ১০ হিজরী পর্যন্ত হজ্জকে মুলতবী করতে পারেন।
বিশেষত যখন আমরা দেখতে পাই যে, তিনি ৯ম হিজরীতে হযরত আবু বকর (রা.) কে হজ্জের আমির নিয়োগ করে পাঠান, তখন এ যুক্তি মোটেই ধোপে টেকে বলে মনে হয় না। হাদিস থেকে ও কথাও জানা যায় যে, রসূল (সা.) তবুক অভিযান থেকে ফেরার পর হজ্জ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়লো যে, মোশরেকরা চিরাচরিত নিয়মে হজ্জে যোগদান করে থাকে এবং তাদের অনেকে নগ্ন হয়ে কাবা শরীফ তওয়াফ করতে অভ্যস্ত।
তাই তাদের সাথে একত্রে হজ্জ করা তিনি পছন্দ করলেন না, এই সময় সূরা তাওবা নাযিল হলো। রাসূল (সা.) সূরা তাওবার বক্তব্য অনুসারে হযরত আলী (রা.) কে মক্কায় পাঠিয়ে ঘোষণা করিয়ে দিলেন যে, মোশরেকদের সাথে সমঝোতা ও সহাবস্থানের সমাপ্তি ঘটেছে। কুরবানীর দিন লোকেরা মিনায় সমবেত হলে হযরত আলী সেখানে ঘোষণা করলেন যে, ‘কাফেররা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং এ বছরের পর আর কোনো মোশরেক হজ্জ করার এবং নগ্নাবস্থায় কেউ কাবা শরীফের তাওয়াফ করার সুযোগ পাবে না। আর যার সাথে রাসূল (সা.) এর কোনো চুক্তি আছে, তার সাথে তিনি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চুক্তি রক্ষা করবেন।’
সুতরাং তিনি পবিত্র কাবা শরীফ মোশরেক ও নগ্ন তওয়াফকারীদের কবল থেকে ‘মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হজ্জ স্থগিত রাখলেন। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT