শিশু মেলা

দুষ্ট কাকের মিষ্টি বাড়ি

ইছমত হানিফা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০১-২০১৮ ইং ০০:২৫:২৯ | সংবাদটি ১৪৪ বার পঠিত


লিটু নামের একটা দাঁড় কাক, সে বাস করে চৌধুরী বাড়ির বড় মেহগিনি গাছে। ওর প্রতিবেশী আছে আরও হাজার খানেক কাক। সব কাকই খুব বুদ্ধিমান। তবে লিটু সবচেয়ে চালাক। কাক সমাজে তাই লিটুর বেশ কদর। সবাই ওকে বেশ সমীহ করে চলে। লিটু উড়ে বেড়ায়, মানুষ দেখে, প্রকৃতি দেখে। ওর মন খারাপ হয়, মানুষ জাতির ওপর রাগ আসে, যে কোনো পাখির ডাক শুনলে ও, আাঁ করে চিৎকার দিয়ে উঠে, মন দিয়ে শুনে। পাখির গান হলে নীরবে শুনতে থাকে। আর একটা কাক ডাকলেই তেড়ে আসে, দূরহ দূরহ বলতে থাকে। যেন কাক ওদের জনমের শত্রু। এভাবে দিন যায় মাস যায়, লিটুর মনে প্রশ্ন জমা হয় শুধু গান না জানার কারণে কাকদের কেউ পছন্দ করে না। অথচ এই কাকের দল পরিবেশের কত উপকার করে। যখন ওরা কোনো ফল খায়, সেই ফলের বীজও খেয়ে ফেলে। মলত্যাগের সময় বীজ অন্য জায়গায় পড়ে, সেইখানে চারা গজায় একটা সময় ঐ চারা মহীরূহ বৃক্ষে পরিণত হয়। এটাতে ফুল ফোটে, ফল ধরে মানুষ জাতি তৃপ্তি নিয়ে খায়। অন্য পশু, পাখি প্রজাপতির দল এ থেকে নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে। কাক সমাজ জন্মের শুরু থেকে পাখি কুলের বিরাট উপকার করে আসছে। যে পাখিগুলো বাসা বানাতে পারে না তারা কাকের বাসায় ডিম পাড়ে, কাক সেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্ছা ফোটায়, কোকিল এর বংশ রক্ষা হয়। পাখির প্রজাতি বাড়ে। আর এই মহৎ কাজ করে যে কাক জাতি তাদের কেউ মনে রাখে না। এ নিয়ে লিটুর মনে অনেক ক্ষোভ জমে, ও শুধু ভাবে কেন এমন হবে, সবাই কেন এতো অকৃতজ্ঞ, তাদের দেখলেই কেন বিরক্ত হয়। তারাও পরিবেশের অংশ। লিটু ওড়ে আর ভাবে যেমন করে হোক সবাইকে বুঝাতে হবে। কারণ উপকারীর উপকার স্বীকার করতে হয়। উপকারীর প্রতি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকতে হয়।
লিটুর সভাপতিত্বে সব কাকদের নিয়ে উত্তরের খোলা মাঠে কাকদের বিরাট বড় সভা বসলো যার উদ্দেশ্য যেমন করে হোক কাকদের গান শিখতে হবে। এমনভাবে শিখতে হবে যেন সবাই কাকের গান শোনে। একটু বয়স্ক কাকরা বললো এটা অসম্ভব, কাকদের গলায় কোনো সুর নেই। কিন্তু কাকের যুব সমাজ এ কথা পাত্তা না দিয়ে বলল, চাইলে, পৃথিবীতে সবই করা সম্ভব। কেন মানুষ জাতিও এখন আমাদের মত কর্কশ কন্ঠে চিৎকার করে মাথা ঝাকিয়ে শরীর দুলিয়ে গান করে, আমরাও পাখা ঝাপটিয়ে গাইবো। কিন্তু গান শিখাবে কে। সবাই বলল যেহেতু লিটু প্রস্তাব দিয়েছে, তাহলে গান শেখানোর দায়িত্বও লিটুকে নিতে হবে। লিটু রাজি হল, বলল ঠিক আছে, আমি সারাদিন সবাইকে গান শিখাবো, তবে একটা শর্ত আছে। যেহেতু গান শিখাতে গিয়ে আমাকে বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে থাকতে হবে, তাই আমি খাবার যোগাড় করতে পারবো না। তাই যারা গান শিখতে আসবে, তারা আমার জন্য খাবার নিয়ে আসবে, আর সেই খাবার হতে হবে মিষ্টি, কারণ গলা মিষ্টি করতে হলে বেশি করে মিষ্টি খেতে হবে। লিটুর কথায় সবাই রাজি হল। পরদিন থেকে সবাই সেই ভোর থেকে লিটুর জন্য খাবার নিয়ে আসতে লাগলো। পুরো বাসা মিষ্টি দিয়ে ভরে গেল। কাকের দল মিষ্টি খায় আর গান গায়। এক সময় তারা গান শিখে গেল, আর তাদের গান অনেকে মন দিয়ে শুনলো। অনেকে নকল করে গাইতে শুরু করলো। কাক সমাজ সুখে শান্তিতে থাকলো।  
কাকেরা গায় গান
নদীর ¯্রােতে জাগে টান
সৃষ্টির সবই সুন্দর
যদি ভাবো সব আপন, নয় কেউ পর।॥॥॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT