ধর্ম ও জীবন

ওমরের শাসন ও ন্যায়বিচারের সোনালী যুগ

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০১-২০১৮ ইং ০০:৪৪:১৭ | সংবাদটি ২০৫ বার পঠিত

ইসলামের ইতিহাসের ভিত্তিযুগ হিসেবে পরিচিত খিলাফতে রাশেদা। সে যুগের অর্জনগুলি ছিল সকল অঙ্গনে, সকল ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ। পরবর্তীযুগের মুসলিমগণ দিকনির্দেশনা, উৎসধারা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার জন্য সেসব কীর্তির দিকে মুখ ফেরায়। তাদের মধ্যে খলীফা উমর রা. ছিলেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উমর রা. এর খিলাফতকাল ছিল আদর্শ ও বাস্তবতার প্রতীক। তিনি কুরআন ও হাদীসের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতেন এবং জনগণের সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রীয় কার্যাদি পরিচালনা করতেন। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই জনগণের সাথে পরামর্শ ব্যতিরেকে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। সাধারণ নাগরিকদের ন্যায় অতি সাধারণ ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। তিনি প্রকাশ্যে রাজপথে একাকী চলাফেরা করতেন; কোন দেহরক্ষী তো দূরের কথা, নামে মাত্র পাহারাদাও কেউ ছিল না। প্রতিটি মানুষই অবাধে খলীফার নিকট উপস্থিত হতে পারতেন। বিচার প্রার্থনার জন্য কোন অর্থের প্রয়োজন হত না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে কোন ধরনের আপোষ করতেন না। ন্যায় বিচারও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিজ আত্মীয়-স্বজন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শাস্তি প্রয়োগ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না; এক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ ছিল শতভাগ।
ইসলামে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব: ইসলামী বিচার ব্যবস্থা একমাত্র কল্যাণকর ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা। শান্তি ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সা. মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে সেখানে ইসলামী বিচার ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং তৎকালীন জাহিলী যুগে একটি সুশীল ও অপরাধমুক্ত সমাজ উপহার দেন। এ ধারা অব্যাহত থাকে খিলাফতে রাশিদার পরবর্তী যুগ পর্যন্ত। বর্তমান মানব সভ্যতায় রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করা। আর এ অধিকার ও কর্তব্য পালনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব ও অস্তিত্ব অপরিহার্য। তাই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বিচারব্যবস্থার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
রাসূলের সা. এর ইন্তিকালের পর খোলাফায়ে রাশিদীন তাঁর রেখে যাওয়া দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেন এবং বিচার ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠা করেন। যেমন, আবু বকর রা. লোকদের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ফায়সালা প্রদান করেন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচারকও নিযুক্ত করেন। তিনি আনাস ইব্ন মালিক রা. কে বাহরাইনের বিচারক নিযুক্ত করেন। উমর রা. কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিযুক্ত করেন। অবশ্য এক বছর তাঁর আদালতে কোন মামলা দায়ের হয়নি। উমর রা. এর আমলে আবু মূসা আশআরী রা. কে বসরার বিচারক এবং আব্দুল্লাহ ইব্ন মাস’উদ রা. কে কুফার বিচারক নিযুক্ত করেন। সাথে সাথে বিচারকর্য পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে উমর রা. আবু মূসা আশআরী রা. এর উদ্দেশ্যে একটি ফরমান পাঠান যাতে বলা হয়েছে-
“আল্লাহর বান্দা উমর ইবনুল খাত্তাব আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে আবু মূসা আশআরী নামে- আসসালামু আলাইকুম। অতঃপর বিচার একটি অপরিহার্য কর্তব্য ও চির অনুসৃত পন্থা। সুতরাং তোমার নিকট কোন মামলা পেশ করা হলে ভালভাবে বিষয়টি বুঝে নিবে। কারণ সত্য প্রকাশ করে কোন লাভ হয় না, যদি বাস্তবে তার প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হয়। তোমার দরবারে এবং লোকদের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করবে। যেন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি তোমার নিকট থেকে পক্ষপাতিত্বের আশা না করে এবং কোন দুর্বল ব্যক্তি তোমার সুবিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা না করে। কোন অসহায় যেন তোমার ভয়ে ভীত না হয়। ফরিয়াদীর ওপর তার দাবি প্রমাণ করার দায়িত্ব এবং অস্বীকারকারী আসামীর জন্য শপথ গ্রহণই যথেষ্ট। মুসলমানদের আপোষ মীমাংসা বৈধ। কিন্তু এমন মীমাংসা নয়, বা বৈধকে অবৈধ করে  এবং অবৈধকে বৈধ করে। গতকাল যে বিষয়ে তুমি বিচার করেছ তার পুর্নবিচারে কোন দোষ নেই। আজ আবার নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা করে তুমি সত্যে উপনীত হও, তাহলে নির্দ্বিধায় সত্যের দিকে ফিরে যেতে পারো। কারণ, সত্যই শাশ্বত। কোন বস্তুই তাকে বাতিল করতে পারে না। মনে রেখ, মিথ্যাকে আঁকড়ে থাকার চেয়ে সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই অধিক শ্রেয়।”
যে সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহে কোন দিক নির্দেশনা নেই এবং তোমার অন্তর দ্বিধাদ্বন্ধে আবর্তিত হতে থাকে সে বিষয়ে ভাল করে বুদ্ধি খাটাও এবং চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাও, অতঃপর জেনে নাও কুরআন ও হাদীসে অনুরূপ কোন দৃষ্টান্ত মেলে কিনা, অতঃপর বিষয়টিকে ঐ দৃষ্টান্তের উপর অনুমান কর। তারপর তোমার মতে যে সমাধান আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়, তাঁর সন্তুষ্টির অধিকতর নিকটবর্র্তী এবং সত্যের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যশীল, তা গ্রহণ করো। যে ব্যক্তি তোমার নিকট এসে দাবী করে যে, তার অবস্থানের স্বপক্ষে সত্যতা রয়েছে, তবে ঐ মুহুর্তে প্রমাণ পেশ করতে সে অক্ষম। এমতাবস্থায় তাকে এতটুকু অবকাশ দাও, যেন সে প্রমাণ উপস্থিত করতে সক্ষম হয়। ইতোমধ্যে সে যদি তার প্রমাণ উপস্থিত করে তবে তার ভিত্তিতে সে তার হক আদায় করে নেবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে রায় প্রদাণ করতে তোমার কোন বাধা নেই। এতে করে তার আপত্তি পেশ করারও কোন সুযোগ থাকবে না। বরং তার অদূরদর্শিতা প্রমাণিত হবে।
মুসলিমরা ন্যায় পরায়ণ। তাদের একের সাক্ষী অপরের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য। অবশ্য শরীআতের বিধানমতে শাস্তিপ্রাপ্ত, মিথ্যা সাক্ষ্যদানে অভ্যস্ত এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম। মানুষের গোপন বিষয়গুলোর দায়দায়িত্ব আল্লাহ নিজের উপর রেখেছেন। তোমার দায়িত্ব শুধু উপস্থিত প্রমাণের ভিত্তিতে ফায়সালা প্রদান করা। স্পষ্ট ও সুদৃঢ় প্রমাণ কিংবা স্বীকারোক্তিমূলক শপথ ব্যতীত হদ্দ বা বিধিবদ্ধ দন্ড প্রদান করা যায় না। আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলমানদেরকে হদ্দ জারীর কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। আদালত কক্ষে ক্রোধ, সংকীর্ণতা ও অস্থিরতা থেকে নিজেকে রক্ষা কর। লোকেরা মামলা নিয়ে এলে কষ্ট ও বিরক্তিবোধ করো না। কেননা এটাই তো সত্যকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করার স্থান। একাজে তোমার জন্য রয়েছে আল্লাহর নিকট বিরাট পুরস্কার আর পরকালের উত্তম সঞ্চয়।
নাফি রা. বলেন, উমর রা. যায়িদ ইব্ন সাবিত রা. কে বিচারক পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁর বেতন নির্ধারণ করেন। একবার উমর রা. ও উবাই ইব্ন কা’ব রা. এর মধ্যে একটি বাগান নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। তাঁরা উভয়ে যায়েদ ইব্ন সাবিত রা. এর নিকট উপস্থিত হলেন। উমর রা. বললেন, উভয় পক্ষকেই বিচারকের কক্ষে হাজির হওয়া জরুরী। যায়েদ ইব্ন সাবিত রা. তাঁর জায়গা হতে সরে গিয়ে উমর রা. কে সেখানে বসতে অনুরোধ জানালেন। উমর রা. বললেন, যায়েদ, তুমিতো শুরুতেই অবিচার করলে। তুমি আমাকে আমার সঙ্গীর সাথে বসাও। অতঃপর উভয়েই যায়েদ ইব্ন সাবিতের সামনে বসলেন। উবাই তাঁর দাবী পেশ করলেন। উমর রা. অস্বীকার করলেন। বিচারক উবায়ের নিকট সাক্ষী তলব করলেন। তিনি বললেন, আমার কোন সাক্ষী নেই। যায়িদ উমর রা. কে বললেন, আপনাকে শপথ করতে হবে। অতঃপর উবাই রা. কে লক্ষ্য করে বললেন, আমীরুল মুমিনীনকে শপথ করতে বাধ্য করো না। উমর রা. যায়েদ ইব্ন সাবিত রা. কে বললেন, তুমি কি সবার মামলা এভাবে ফায়সালা করো? তিনি বললেন, না। তাহলে তুমি অন্যদের মাঝে যেভাবে ফায়সালা করে থাকো, আমাদের মধ্যেও সেভাবেই ফায়সালা করো। তখন যায়েদ ইব্ন সাবিত উমর রা. কে শপথ করার আদেশ দিলেন। উমর রা. বললেন, সেই আল্লাহর শপথ যার মালিকানায় আমার প্রাণ, এ বাগানে উবাইয়ের কোন অধিকার নেই। এভাবে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়ে গেল। এঘটনার প্রেক্ষিতে উমর রা. একটি ঐতিহাসিক উক্তি করেন, যা বিচারকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একটি উত্তম উদাহরণ। তা হলো, “যতক্ষণ যায়িদের কাছে একজন সাধারণ মুসলিম এবং উমর সমান না হয়, ততক্ষণ যায়িদ বিচারক পদের যোগ্য হতে পারে না।
উমর রা. নিয়োগের পূর্বে বিচারকদের ন্যায়নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা ভালভাবে যাচাই করে নিতেন এবং নিয়োগের পরেও কর্মতৎপরতা ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। বিচারকদের জন্য যুক্তিসঙ্গত বেতন নির্ধারণ করতেন। জনগণের প্রতি সাধারণ নির্দেশ ছিল, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ও বিচারকদের ও বিচারকদের দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে নির্ভয়ে তা জানাতে হবে।
উমর রা. এর ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত: উমর রা. এর যুগ ছিল ন্যায়বিচারের সোনালী যুগ। কেননা তাঁর সময়ে সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত ছিল। ন্যায়বিচারের কারণেই উমর রা. এর শাসন বিশাল দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিচারের ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী কোন ধর্মের তাঁর সময়ে সেটি বিবেচ্য বিষয় ছিল না। যেমন: মিসরের অমুসলিম অধিবাসীদের এক ব্যক্তি মদীনায় এসে উমর রা. এর কাছে মিসরের গভর্নর আমর ইবনুল আসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। ফরিয়াদী অভিযোগ করল, আপনার গভর্নরের ছেলে আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে লাঠিপেটা করেছে। উমর রা. এ অভিযোগ শোনামাত্র গভর্নর ও তার ছেলেকে মদীনায় ডেকে পাঠালেন এবং যথাযথ বিচারের পর ফরিয়াদীর ছেলেকে দিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিশোধ গ্রহণ করালেন এবং সতর্ক বাণী উচ্চারণ করলেন, “তুমি কবে থেকে মানুষকে গোলাম বানাতে শুরু করলে? অথচ তারা মায়ের পেট থেকে স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করেছিল।”
নিজ পুত্র বা স্বজন বলে বেশি সুবিধা নিয়ে নেবে উমর রা. এর যুগে তা চিন্তাও করা যেত না। কেউ তখন এসব নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পেত না। তাঁর খিলাফতকালে খলীফা জুমু’আর খুতবা দিতে মিম্বরে দাঁড়ানোর সাথে সাথে এক মুসল্লী জানতে চাইলেন, খলীফার জামা এতো লম্বা হলো কিভাবে? কারণ বায়তুল মাল থেকে সকলের যে কাপড় বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা দিয়ে অত লম্বা জামা বানানো যায় না। প্রশ্নকর্তা যখন জানলেন, খলীফার ছেলের ভাগে যে কাপড় পাওয়া গেছে সেটা খলীফাকে দেয়ার ফলেই তাঁর পক্ষে লম্বা জামা বানানো সম্ভব হয়েছে। তখন প্রশ্নকর্তা সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, হ্যাঁ এখন খুতবা শুরু করুন। আমরা শুনবো। খলীফা বললেন, যদি সন্তোষজনক জবাব না পেতে তাহলে কি করতে? তখন প্রশ্নকর্তা বললেন, তখন আমার এই তলোয়ার এর সমাধান দিতো। একথা শুনে খুশী হয়ে খলীফা বললেন, ‘হে আল্লাহ! যতদিন পর্যন্ত এরূপ সাচ্চা ঈমানদার বান্দা জীবিত থাকবে, ততদিন ইসলাম ও মুসলিমের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।
একবার প্রকাশ্য জনসভায় এক ব্যক্তি খলীফা উমর রা. এর নিকট মামলা দায়ের করল যে, এক কর্মচারি আহেতুক আমাকে একশত বেত্রাঘাত করেছে। এরপর উমর রা. এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, এই জনসভায় উক্ত কর্মাচারিকে তুমি একশত বেত্রাঘাত করে প্রতিশোধ নাও। এরূপ কঠোর নির্দেশ শুনে আমর ইবনুল আস রা. দাঁড়িয়ে বললেন, এহেন অবস্থায় কর্মাচারিদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে। জবাবে উমর রা. বললেন, তাই বলে তো আমি দোষী ব্যক্তিকে শাস্তিদান থেকে বিরত থাকতে পারি না। অতঃপর আমর ইবনুল আস রা. অনুরোধ করে প্রত্যেকটি বেত্রাঘাতের পরিবর্তে দুটি করে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে বাদীকে সন্তুষ্ট করেন।
প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা বনাম উমর রা. এর বিচার ব্যবস্থা: বর্তমান বিচার ব্যবস্থা ও উমর রা. এর বিচারব্যবস্থার মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বর্তমান প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় আইন কাঠামোয় অস্বচ্ছলতা, আইনের সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিচার বিভাগের  উপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বসহ অসংখ্য জঞ্জাল আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে আছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে জনগণ ন্যায়বিচারের পরিবর্তে জুলুমের শিকার এবং বঞ্চিত হচ্ছে। হত্যার অপরাধীও খালাস পেয়ে যায় সহজেই; আবার নিরপরাধ ব্যক্তি বছরের পর বছর কারান্তরীণ হয়ে নির্যাতিত হয়।  পক্ষান্তরে উমর রা. এর শাসনামলে বিচার ব্যবস্থায় ছিল সুস্পষ্ট ও ত্রুটিমুক্ত আইন-কানুন, নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থার সুষ্ঠুকাঠামো, বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীয়করণ, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা, সহজলভ্য বিচার প্রাপ্তি। বিচারকদের আল্লাহর নিকট ও জনগণের নিকট জবাবদিহিতার ভয় কাজ করত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করার ফলে রাষ্ট্রের সকল জনগণ পেত ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত ছিল তাদের মৌলিক অধিকার। সে সময়ে ছিল না কোন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব। প্রবাহনাম ছিল শান্তির সুশীতল বাতাস।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT