ধর্ম ও জীবন

ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ

আব্দুল কারীম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০১-২০১৮ ইং ০০:৪৬:০১ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

সুখে-দুঃখে কিংবা মসিবতে ধৈর্যধারণ করা অবশ্যই পূণ্যের কাজ। ধৈর্যধারণের ফলে মসিবত লঘু হয়, সহজ হয় এবং কখনো তা সমূলে দূরীভুত হয়। ধৈর্যধারণ এর ফলে কখনো কাজ-কর্মে বারাকাহ হয়, আখলাকে হাসানাহ বা উত্তম চরিত্র সৃষ্টি হয়, ব্যক্তি জীবনে প্রত্যেক ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন হয়।
আসুন! কুরআনে সবর নিয়ে যা আলোচনা আছে, শুনি, বুঝি ও আমলে নেওয়ার চেষ্টা করি।
আমরা কখনো আকস্মিক মসিবতে পতিত হই। ভয়ভীতি কিংবা ভয়ংকর জিনিসে ভীতসন্ত্রস্ত হই। ক্ষুধার্ত, অনাহার কিংবা সংকটাপন্ন হই। ছেলে সন্তান হারানোর ব্যথা কিংবা প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় বিভোর হই। কিন্তু কখনো ভাবি না, এসব তো মহান আল্লাহ থেকে পরীক্ষা। আমাদের সেই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। তবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সু-সংবাদ এর আশা করতে পারি।
আল্লাহ সুনহানাহু ওয়াতা'লা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।’
বিপদ-আপদ কিংবা মসিবতে ধৈর্যধারণ করা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আস্থাবিশ্বাস রাখার বহিঃপ্রকাশ। বান্দা যখন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা শুরু করবে, ঠিক তখন মসিবতে ধৈর্যধারণ করতে শুরু করবে। বান্দা যখন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, ঠিক তখন মসিবতে ধৈর্যধারণ শুরু করবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'লা ধৈর্যধারণকারীদের ব্যাপারে বলেন- ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণকারীদের ভালোবাসেন।’
বান্দা যতবেশী ঈমানের অধিকারী হবে, মসিবত ও পরীক্ষা তার উপর ততো বেশী হবে। পৃথিবীতে আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) সবচেয়ে বেশী ঈমানদার ছিলেন। তাই তাদের উপর বেশী পরীক্ষা গত হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই আপন পরীক্ষায় জয়লাভ করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা পবিত্র কুরআনে হযরত আইয়ুব (আ). এর ব্যাপারে বলেন- ‘নিশ্চিত, আমি তাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পেয়েছি।’
অতঃপর, আল্লাহ তায়ালা হযরত আইয়ুব (আ.) এর প্রশংসা করে বলেন- ‘তিনি কতইনা উত্তম বান্দা। নিশ্চিত, তিনি (আল্লাহর দিকে) প্রত্যাবর্তনকারী।’
বান্দার উপর যখন আল্লাহ তা'লার হুকুম পতিত হয়, তখন তার উপর ধৈর্যধারণ করার আল্লাহ তা'লা নির্দেশ দিয়েছেন।এবং পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘আপনি সবর করবেন। আপনার সবর আল্লাহর জন্য ব্যতীত নয়, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না এবং তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করবেন না।’
অবশ্যই যেকোন মসিবতে কিংবা কোন কিছুর হারিয়ে যাওয়াতে কিংবা কারো কথায় ব্যথিত হওয়া বান্দার জন্য শোভা পায়না। মনকে তুচ্ছ করার বা সংকীর্ণ করা যাবে না। অবশ্যই, এটাকে আল্লাহর হুকুম তথা পরীক্ষা হিসেবে ধরে নিতে হবে এবং সেই উত্তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ধৈর্যধারণ করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'লা ধৈর্যধারণকারীদের প্রশংসা করে বলেন- ‘তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’
মসিবতে ধৈর্যধারণ করাতে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কারের আয়োজন রয়েছে। আমরা অনেকে হয়ত বুঝতে পারি আবার অনেকে বুঝতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধারণকারীদের পুরস্কারের ব্যাপারে বলেন- ‘যারা সবর করে, আমি তাদেরকে প্রাপ্য প্রতিদান দেব তাদের উত্তম কর্মের প্রতিদান স্বরূপ যা তারা করত।’
অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'লা বলেন- ‘যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।’
তাছাড়া, সবর বা ধৈর্যধারণ এর সম্পর্ক অনেক আমলি বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে।যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'লা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেন, সবর এর সম্পর্ক নামাজের সাথে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।’
সবর এর সম্পর্ক সৎকর্মের সাথে। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে।
সবর এর সম্পর্ক তাক্বওয়া এর সাথে। যেমন আল্লাহ তা'লা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘নিশ্চয় যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।’
সবর এর সম্পর্ক কৃতজ্ঞতা এর সাথে। যেমন আল্লাহ তা'লা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।’
সবর এর সম্পর্ক হক্ব তথা সত্যতার সাথে। যেমন আল্লাহ তা'লা পবিত্র কুরআনে বলেন এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। সবর এর সম্পর্ক রহমত তথা অনুগ্রহ এর সাথে। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।’
সবর এর সম্পর্ক ইয়াক্বিন তথা বিশ্বাস এর সাথে। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন- ‘সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী।’
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে প্রত্যেক কিছুতে সবর করার তাওফিক দান করেন!

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT