সাহিত্য

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০১-২০১৮ ইং ২৩:২৮:১৬ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

মুহাম্মাদ রাইহান
মানুষ
জন্মের পাপে জীবনের দ-প্রাপ্ত আসামী এক
শহরের পথঘাট, অলিগলি সম্পর্কে শূন্য ধারনা
আপনাদের সঙ্গেই নির্বাসিত জীবনের খুচরো লেনদেন
এই যে দেখুন, হাতভর্তি সওদাপাতি, মুদিদোকান থেকে
কিনেছি চাল-ডাল-তেল
একজন দেখিয়ে দিয়েছে কাঁচাবাজার, সেখান থেকেই    
দুঃসাধ্য মূল্যে মাছ-মাংশ-শীতকালীন সবজি।
দুর্মূল্যে কিনেছি গৃহসজ্জার সরঞ্জাম।
স্বল্পমূল্যের শপিংমল খুঁজে বের করতে তেমন-একটা কষ্ট হয় নি।
ম্যাপ ঘেঁটে বের করেছি শহরের বড়ো হাসপাতাল।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কিনতে পেরেছি কিছু আরোগ্য।
হাসপাতাল-ফেরার পথেই পেয়ে গেলাম মসজিদ,
গোটাকয়েক সেজদার বিনিময়ে কিনে নিয়েছি ¯্রষ্টার আশীর্বাদ।
হাত পেতে দাঁড়িয়ে ছিলো এক ভিক্ষুক, তার শূন্য পাত্রে
খুচরো কয়েকটি কয়েন ছুঁড়ে তুলে নিয়েছি ¯্রষ্টার বাড়তি কৃপা।
এবার একজন মানুষের বড্ড প্রয়োজন,
কোথায় পেতে পারি দয়া করে ঠিকানাটা বলবেন?




পলিয়ার ওয়াহিদ
আদমের একাকী অসুখ
মহাজীবনের স্বপ্নে প্রতিদিন মহুয়া আমারÑ তবু সে ফুরিয়ে গেল! এ যেন বিশুদ্ধ ইচ্ছেশক্তির সমর্পণ। কতো ছুঁই অথচ গলে না। আজ আমাদের উৎসবের দিনÑ কিন্তু সে যেন জুড়িয়ে যাওয়া বরফের মেয়ে! আমার কেবল একাকী নির্জন অসুখ। যার লক্ষণরেখা বরাবরÑ নৈঃশব্দ্যের হামাগুড়ি। আমার ধুতরোফুলের মতো হাসিতে সে পাগল হয় না আর! তার চিত্ররূপময় হাসিতে খোলে না মুগ্ধতার জানালা। নক্ষত্রের নাকফুলে সে যেন গৃহবন্দী। আমিও হাঁটছি তার গভীর তলদেশে! তার খনিজ গমের সিন্দুকে চোখ রেখে বলেছিÑ স্বর্গীয় উচ্ছাসের কথা। তবু  তার তীব্র ও নরম সাহস আমাকে করে তোলে জড়োসড়ো। আমি তার চোখে পরিয়ে দিয়েছি জীবন দেখার চশমা অথচ কিছুতেই যেন মেটে না তার শরীরি উদ্বেগ! সে যেন স্বর্গ থেকে বিচ্যুত হাওয়া! তাই তার মুখে লেপ্টানো উদ্ভন্ত আদমের রেখা! আমার সহজ প্রেমÑ নৈরাশ্যময় তিক্ততায় ভরা। সে কি ফেলে এসেছে আয়নার ওপারে বাস্তবের মুখোশ? যে কারণে জীবনের শরীরে তার বড্ড অনীহা। কিন্তু আমি তার সুক্ষ্মতাপ্রিয় প্রতিভায় মুগ্ধ আদম। তার ভঙ্গুর হৃদয়ে পরাতে চাই অমরাবতীর অঙুরি। কারণ আমি সেই স্বর্গত্যাগী আদম যার একাকী অসুখে পুড়ে গেছে পৃথিবীর যাবতীয় শষ্যের পেট! হাওয়া খেয়ে বেঁচে থাকা এ এক দারুণ বাসর।    


হুসাইন মুহাম্মদ ফাহিম
বিনীত নিবেদন
পথহাঁটি-
হৃদয়ভর্তি পাপের অন্ধকার।
শীতসন্ধ্যায় ঘুঙুর পায়ে রাজারগল্লিতে
নেমে আসে ধ্যানের উপদ্রব।
রাতের উপাসনায় গরহাজির আমি
প্রেমকে ইবাদত জেনে কবিতা লেখি।
হিসাবের হালখাতায় পূণ্য নেই প্রভু!
অপরাধে ঘর্মাক্ত গায়ে তবু কামনা করি
আরশের ছায়া।

লিপস্টিকের বদলে চুম্বন
ফায়যুর রাহমান
ফুলের পাহারাদার হতে পারতে
হতে পারতে নারীর সঙ্গীত কিংবা গানের পাখি;
হওনি।
জামা-জুতোর লোভে মানুষের গোলাম হবে বলে
ক্যারিয়ার নিয়ে কেবলই ছুটেছো...
যেমন শুকনো হাড্ডি নিয়ে ছোটে কুকুর।   

তুমি তো জানো, পাখিদের জামা-জুতোর প্রয়োজন নেই
প্রয়োজন নেই জমিজিরাত অট্টালিকার
কিন্তু তোমার লাগে সোফা-ফ্রিজ-বিউটিপার্লার-বিসিএস-বৌভাত
লাগে লিপস্টিক-স্নো-কনডম-গর্ভপাত।

তুমি লিপস্টিকের বদলে চুম্বন ব্যবহার করতে শেখোনি
ফুলের ভেতরে আত্মার রঙ খুঁজে পাওনি
শিশুর হাসিতে স্বর্গের ঐশ্বর্য দেখোনি
গাছের ডালে ঘুঘুর নিরব প্রেম অবলোকন করোনি।

তুমি ভালোবাসিবার সময়কে হত্যা করেছ পেটের দায়ে
সম্মানের লোভে।
তুমি একটা লোভী, চোর
মিথ্যুক, স্বার্থপর, প্রেমিক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT