শিশু মেলা

পাপুলের আজব মোটর সাইকেল

এম আশরাফ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০২-২০১৮ ইং ০০:০৫:৪২ | সংবাদটি ৩৩ বার পঠিত

পাপুলের মামা মোটর সাইকেল কিনলেন। ঝক ঝকে তক্তকে মোটর সাইকেল। মেরুন কালারের প্রাধান্য। সিট কালো, টায়ার কালো। টায়ারের মাঝখানে রিং গুলো রূপালী। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে পাপুল। কী সুন্দর। পা দানিতে পাড়া দিয়ে উঠে বসে সিটে। হ্যান্ডেল ধরে। ডান হাতে এক্সেলেটর উঠা-নামা করে। কোনো শব্দ হয় না। সামনে চাবি খুঁজে কিন্তু চাবি নেই। নিশ্চয়ই মামা নিয়ে গেছে মোটর সাইকেল অফ করে। পাপুল ভাবে চাবিটা পেলে স্টার্ট দিয়ে দেখতাম কেমন শব্দ করে।
পাপুলের মামা ঘর থেকে বের হলেন। কোথাও যাবেন মনে হয়। পাপুল মোটর সাইকেল থেকে নেমে ঝাপটে ধরে মামাকে। বলে মামা মামা আমি যাব তোমার সাথে। আমাকে লও। মামা বলেন আরে না। আমি এখন অনেক দূরে যাব। পাপুল নাছোড়বান্দা। মামা আমাকে নিতেই হবে। আমি মোটর সাইকেল চড়ব বলে কান্না কাটি শুরু করে দিল। মামা বললেন ঠিক আছে ঠিক আছে বাবা ওঠো। আমি মোটর সাইকেল স্টার্ট দেই। পাপুল চোখ-মুখ মুছতে মুছতে পা দানিতে পা দিয়ে মামাকে আঁকড়ে ধরে পেছনে বসল। মোটর সাইকেল স্টার্ট হয়ে পাপুল ভয় পেয়ে মামাকে আরও জোরে ধরল। মামা এদিক ওদিক ঘুরে দু’তিন মিনিটের মধ্যে আবারও বাসায় এসে পাপুলকে নামাতে চাইলেন। কিন্তু সে নামতে চায় না, আরও চড়বে বলে। অবশেষে জোর করে মামা তাকে নামিয়ে বিকেলে এসে আবার মোটর সাইকেল চড়াবেন বলে কোনো রকমে কাজে বেরুলেন।
পাপুল সারা দিন মামার অপেক্ষায় থাকে। কবে আসবেন। বাসার পাশের রাস্তা দিয়ে কোনো মোটর সাইকেলের শব্দ পেলে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়, এই বুঝি মামা এল? কিন্তু না। যখন মোটর সাইকেল শব্দ করে অন্য রাস্তায় চলে যায় তখন সে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ঘরে ফিরে। মামা যখন ফিরলেন তখন অনেক রাত। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাপুল ঘুমিয়ে পড়েছে।
পাপুল দেখে মোটর সাইকেলের চাবি মামার হ্যান্ড ব্যাগে যতœ করে রাখা। অতি সন্তর্পণে ব্যাগ খুলে চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। বাসার সামনে মোটর সাইকেল রাখা। বাঃ কী সুন্দর মোটর সাইকেল। যেন পঙ্খীরাজ ঘোড়ার মত। গল্পের পঙ্খীরাজ ঘোড়া যেমন কঙ্কাবতীকে নিয়ে আকাশে ওড়ে যায় এবং মাইলের পর মাইল পার হয়, তেমনি মামার মোটর সাইকেলও মনে হয় ওড়ে যাবে। পাপুল দেখল কোথাও কেউ নেই। সে লাফ দিয়ে মোটর সাইকেলে উঠল। চাবি যেখানে লাগানো থাকে ঐ খানে চাবি বসিয়ে একটু নাড়া দিতেই স্টার্ট হয়ে গেল। আর যায় কোথায়? পাপুল এক্সেলেটরে বাড়ি দিতেই চলতে লাগল মোটর সাইকেল। বাসার পাশের রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে কখন প্রধান সড়কে পৌঁছে গেছে খেয়াল নেই। প্রধান সড়কের দু’পাশে চলছে সারি সারি গাড়ি। ট্রাক, বাস, মিনিবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, সাইকেল, ঠেলা গাড়ি ইত্যাদি। পাপুল রোড ধরে চলছে তো চলছেই। সামনে দেখল প্রচুর ট্রাফিক জ্যাম। হাত ঘুরিয়ে কী রকম কী করেছে আর অমনি মোটর সাইকেল উড়তে শুরু করল। ওড়ে গিয়ে যেখানে ট্রাফিক নেই ফাঁকা রাস্তা ওখানে গিয়ে নামল এবং আবারও হনহনিয়ে চলতে লাগল। পাপুল ভাবে এটাতো আজব গাড়ি। আমি যা ইচ্ছে করি সেটাই সে শুনে। তাহলে অন্য ট্রাফিক জ্যামে উড়তে মনস্থ করব। যেই কথা সেই কাজ। সামনের মোড়ে দেখল ব্যাপক ট্রাফিক জ্যাম। মনে মনে ভাবল এবার আকাশে উড়ব। আর যায় কোথায়? মোটর সাইকেলটি সেই যে দিল ওড়া। আর থামে না।
বড় রাস্তা দেখে ডান হাতে এক্সেলেটর বাড়ি দিল। মনে মনে মনস্থ করল নামবে, কিন্তু এটা নামতে চায় না। উঠছে তো উঠছেই। পাপুল মনে মনে ভয় পেল। এখন যদি আর না নামতে পারি তাহলে মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারব না। এই মোটর সাইকেল কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কে জানে?
কিছুক্ষণ পর মোটর সাইকেল নামতে শুরু করল। চেয়ে দেখল সামনে একটা বাগান। অনেক ছেলে মেয়ে রঙিন পোষাক পরে খেলছে আর গান গাইছে। কী আশ্চর্য! কেমন যেন রঙিন রঙিন লাগছে সবকিছু। মোটর সাইকেলটি আস্তে করে নামল বাগানের পাশে। আর অমনি অচেনা অনেক ছেলে-মেয়ে এসে তাকে ঘিরে ধরল। ছিপছিপে লম্বা মতন একট মেয়ে এসে বলল- হ্যারে পাপুল তুই এসেছিস। আয় আমার সাথে। সে অবাক হয়ে তাকে ফলো করল। মধুর মধুর গানের শব্দ যেখান থেকে ভেসে আসছিল পাপুলকে নিয়ে সেদিকেই গেল মেয়েটি। দেখল সবাই পরিপাটি হয়ে গান গাইছে। খালি গলায় গান। কোন বাদ্য যন্ত্র বাজছে না। কিন্তু সুর অসম্ভব সুন্দর। শিল্পীর মোহনীয় কন্ঠে যেন যাদু ভরা। পাপুল তন্ময় হয়ে শুনছে। আর তারও সে রকম গান গাইতে ইচ্ছে করল। আর অমনিতেই তার মুখ দিয়ে মধুর কন্ঠে গান বেরুতে থাকল। সবাই তাকে মারহাবা মারহাবা বলতে শুরু করল। তার স্কুলে যখন কেউ গান গায় তখন সবাই হাত তালি দেয় কিন্তু এখানে সবাই মারহাবা বলছে সে সত্যিই দারুন অনুভব করল। সকল বাচ্চাদের পোশাক পরিচ্ছদ মানানসই। মেয়ের মাথায় স্কার্ফ পরা আর ছেলেদের মাথায় জাফরানী টুপী। সবার স্বাস্থ্য সুন্দর তুলতুলে। ওদের দেখে খুব মায়া হল। পাপুলের মুখের, গান শেষ হতে না হতে সবাই মারহাবা মারহাবা বলে আর বলে ঙহব সড়ৎব, ঙহব সড়ৎব.
পাপুল আবার কোনো গান ধরবে মনে মনে ভাবছে। এরই মধ্যে চলে গেল বিদ্যুৎ। সবই অন্ধকার লাগছে। গান ধরতে যাবে কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না। মোটর সাইকেলের চাবি খুঁজল, কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না। প্যান্টের পকেট, শার্টের পকেট সবই খুঁজল কিন্তু কোথাও চাবি পাচ্ছে না। এখন মোটর সাইকেল স্টার্ট দিতে না পারলে বাড়ি ফিরবে কি করে? এদিকে মোটর সাইকেল রাখার স্থান খুঁজে পাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুজি করার পরও যখন চাবি পেল না তখন তার মাকে ডাকতে লাগল। কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরুচ্ছে না। কী অদ্ভুত। অগত্যা পাপুল জোর করে চিৎকার করল-মা। পাশেই শোয়ে থাকা পাপুলের মা ধড়মড় করে জেগে ওঠে লাইট জালালেন। কিরে পাপুল কী হয়েছে। পাপুল এ পাপুল। লাফ দিয়ে পাপুল বিছানায় উঠে বসল। মাকে সামনে পেয়ে জড়িয়ে ধরল। মা বললেন কী রে কি হয়েছে? স্বপ্ন টপ্ন দেখেছিস? কাঁপতে কাঁপতে পাপুল বলল হু।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT