সম্পাদকীয়

মৎস্য উৎপাদনে লাগসই প্রযুক্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০২-২০১৮ ইং ২৩:২০:৩৪ | সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

লাগসই প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের আওতায় আসছেনা দেশের হাওর-বাওর-বিল। ফলে  বাড়ানো সম্ভব হচ্ছেনা মাছের উৎপাদন। দেশের প্রায় সর্বত্রই প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছের চাষ হচ্ছে। দেশে  জনসংখ্যার অনুপাতে বছরে মাথাপিছু ১৮ কেজি হিসেবে মাছের মোট চাহিদা হচ্ছে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিকটন। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে এর প্রায়  অর্ধেক। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের বিল হাওরগুলোতে লাগসই প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মাছের  চাষ করলে উৎপাদন বেড়ে যাবে কমপক্ষে দ্বিগুন।
নদ-নদী হাওর-বাওর, বিল জলাশয় অধ্যুষিত আমাদের এই বাংলাদেশ। জালের মতো ছড়িয়ে আছে যেমন ছোট বড় নদী, তেমনি আছে বিল-জলাশয়-হাওর। সরকারি হিসেব মতে ৫ হাজার ৪শ’ ৮৮ হেক্টর জলাশয় এবং ৬ শতাধিক হাওরের মধ্যে মাত্র ২৯টি সরকারের মৎস্য উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় এসেছে। বাকিগুলো  প্রভাবশালীদের কাছে বিভিন্ন সময় নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেয়া হয়। দেখা গেছে, মৎস্যজীবী  নয়, এমন ব্যক্তিও ইজারা পেয়ে থাকে। ফলে ইজারা গ্রহীতারা অনেক সময়ই হাওর-বাওরকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। এতে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি তো হয়-ই না, বরং হাওর-বিলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাওর-বিল ইজারা নিয়ে তা ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মতো ঘটনাও ঘটছে। অর্থাৎ  বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আমাদের  হাওর-বিল-জলাশয় ভরাট হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য।
একদিকে, হাওর-বিলের পরিমাণ সঙ্কোচিত হচ্ছে, অপরদিকে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে না পরিকল্পিতভাবে। ফলে মাছের উৎপাদন বাড়ছেনা প্রত্যাশিতভাবে। জানা গেছে, চীন ও ভিয়েতনামে প্রতি হেক্টর জলাশয়ে মাছ উৎপাদন হচ্ছে কমপক্ষে দশ মেট্রিকটন। সেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র এক মেট্রিকটন।বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগসই প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিল, বাওর, পুকুরসহ জলাশয়ে মাছে চাষ করা হলে প্রতি হেক্টরে কমপক্ষে পাঁচ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। শুধুমাত্র ৬শটি বাওরেই ব্যবস্থাপনা উন্নত করে পরিকল্পিতভাবে মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হলে মাছের কোনো ঘাটতি থাকবে না। কিন্তু সেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অথচ সেই উদ্যোগ নিলে মাছের ঘাটতি তো পূরণ হবেই সেই সঙ্গে হাওর-বাওরের পার্শ্ববর্তী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।    
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দরকার আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মৎস্য চাষ। অবশ্য তার আগে হাওর, বিল, জলাশয়, নদী, খাল, পুকুরগুলোকে ভরাট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র যেগুলো দখল করে রেখেছে তা উদ্ধার করতে হবে। মরে যাওয়া জলাশয়, পুকুর, ডোবা, বিল সংস্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে এগুলোকে লাগসই প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। স্মারণ করা যেতে পারে, ১৯৬০ সাল পর্যন্ত হাওর-বাওর-জলাশয় গুলোতে কোন তদারকি ছিলো না সরকারের। তখন এগুলোতে মৎস্য উৎপাদন হতো খুব সামান্য। কিন্তু এর পর থেকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় এগুলোকে নেয়া হলেও মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সময়োপযোগী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৎস্য উৎপাদনে সুবাতাস বইছে। সরকারী পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই মাছের উৎপাদন বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এই ধারা অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT