সম্পাদকীয়

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০২-২০১৮ ইং ০২:২৮:৩০ | সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয় আজকের এই দিনে। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্নস্থানে আয়োজন করা হয়েছে র‌্যালি, আলোচনাসভা ইত্যাদি। প্রতি বছর বিশ্বে ১২ কোটির বেশি মানুষের দেহে ক্যান্সার সনাক্ত হয় এবং সাত কোটির বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। এর মধ্যে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে দিবসটি। যে রোগটি ছিলো দূরারোগ্য, বলা হতো ‘ক্যান্সার নেই আন্সার’। কিন্তু আজকাল এই ধারণা পাল্টে গেছে। এখন ক্যান্সার মানে অবধারিত মৃত্যু নয়। এরও ‘জবাব’ আছে। মানে ক্যান্সার আর ‘দূরারোগ্য’ নয়। এর চিকিৎসা আছে। আর বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করাও সম্ভব। আবার অনেক ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সবার মধ্যে এই ধারনার জন্ম দেয়া যে, ক্যান্সারেরও ‘আন্সার’ আছে। অর্থাৎ ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করা যায়।
নানা চড়াই উৎরাই, উত্থান পতন আর বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় মানুষের জীবনধারা। অসুখ বিসুখ হচ্ছে তেমনি একটি বিপত্তি। যা জীবনের গতি অনেক সময় আটকে দেয় মাঝপথে। কখনও জীবনের গল্প শুরু না হতেই জীবনকে স্তব্ধ করে দেয় কোনো ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার একটি ‘মরণব্যাধি’ হিসেবেই পরিচিত। অতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ ঘটার আগে মানুষ ক্যান্সার সম্বন্ধে অবগতই ছিলো না, চিকিৎসা তো দূরের কথা। গবেষণার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষ জানতে পারে ক্যান্সার সম্বন্ধে। ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু কারণ উদঘাটন করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, মানব দেহ তৈরি যেসব কোষ দিয়ে, সেগুলো প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে আবার নতুন নতুন কোষ জন্ম হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এর মধ্যেই কিছু অস্বাভাবিক কোষের জন্ম হতে পারে। যদিও এই অস্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে মানব দেহে। যদি কোন কারণে সেই কোষ ধ্বংস না হয় তবে তা থেকে নতুন ধারার কোষের জন্ম হয়। যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ থেকেই ক্যান্সারের জন্ম হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের জীবনাচারে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়। দেখা গেছে, দৈনন্দিন চলাফেরা, আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার, বিয়ে ও বাচ্চা নেয়ার সঠিক সময়, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, শিল্প কারকানা ও পরিবেশগত কিছু কারণ, অন্যান্য কিছু রোগ, ভাইরাস, জীবাণু এগুলোর সঙ্গে অনেক ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক ক্যান্সার বংশগত ও জন্মগত কারণে হয়ে থাকে। উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকলে এক তৃতীয়াংশ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যায় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। আর বাকি দুই তৃতীয়াংশ ক্যান্সার সরাসরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেও প্রতিকার করা সম্ভব। তবে তার জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে তো অবশ্যই, সামাজিকভাবেও যাতে সচেতনতা গড়ে ওঠে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
কোনো রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল তাই ক্যান্সার যাতে না হয় সেদিকেই নজর দিতে হবে বেশি। দেশের বেশির ভাগ রোগীর পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাদের পরিণতি বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গোনা। আর সম্পদশালীরা দেশে বা বিদেশে গিয়েও উন্নত চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও খুব একটা উন্নত হয়নি। আর চিকিৎসায় অনেক সময় ত্রুটিরও অভিযোগ ওঠে। দেশে ক্যান্সারের উন্নত ও স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। আজকের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, সর্বাত্মক সচেতনতা সৃষ্টি করে সকলের মধ্যে ক্যান্সারকে মোকাবেলা করার শক্তি জাগিয়ে তোলা। এতে সরকারের পাশাপাশি সচেতন মহলেরও দায়িত্ব রয়েছে। 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT