সম্পাদকীয় গুণীদের কথা মন দিয়ে শোনা এবং বিজ্ঞানের শিক্ষা অন্যদের মনে সঞ্চারিত করা ধর্মাচার অনুষ্ঠানের চেয়ে উত্তম। - আল হাদিস

হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০২-২০১৮ ইং ০০:২৬:২৭ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় অর্থের বিনিময়ে। ব্যাপারটি হয়তো সবার কাছে পছন্দনীয় নয়। তবে ভুক্তভোগীদের জন্য এটা তো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। আর এমনিতে যারা ভাবেন এরকম যে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হবে বিনামূল্যে তাদের জন্য খবরটি খুব সুখকর নয়। সে যাই হোক, বাস্তবতা হলো সরকারি হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় অর্থ। আর সেই অর্থের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা। সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। আর এ নিয়ে প্রায় সময়ই হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। জানা গেছে, ইউজার ফি এর নামে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে কাড়ি কাড়ি অর্থ। এছাড়া, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী প্রতি সরকারি ফি ও শয্যাভাড়াসহ স্বাস্থ্য খাতে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়তি ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতালে রোগীরা আসে বিনামূল্যে কিংবা কমমূল্যে সেবা গ্রহণের জন্য। কিন্তু তারা হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা পায় না। প্রথমত বৈধভাবে কিছু ফি তো দিতেই হয়, সেই সঙ্গে রয়েছে নানা কারসাজিতে অধিক ফি আদায়। আর তাই রোগীরা সব বৈধ-অবৈধ ফি পরিশোধ করতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই নি¤œ আয়ের রোগীরা কমমূল্যে চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। ফলে তারা শিকার হচ্ছে অপচিকিৎসার। অথচ রোগীদের কাছ থেকে অধিক ফি আদায় সরকারী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নীতির পরিপন্থী। এতে দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হয়। পাশাপাশি এই সুযোগ দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে থাকা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রাপ্তিই সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি বাবদ বিভিন্ন হারে টাকা নেয়া হচ্ছে। সাধারণত যন্ত্রপাতি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ‘দোহাই’ দিয়ে সরকারি বিধির আওতায় আদায় করা হচ্ছে অর্থ। যাকে সার্ভিস চার্জ হিসেবেও গণ্য করা হয়। এ ব্যাপারে অনেকের বক্তব্য হচ্ছে, সরকার জেনেশুনেই রীতিমতো একটা অনাচারকে-দুর্নীতিকে লালন করছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা পায় না কাক্সিক্ষত সেবা। বরং তারা অনেক সময় অপচিকিৎসা ও ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছে। অথচ রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অর্থ।  
রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পায় না সরকারি হাসপাতালগুলোতে। নানা সমস্যা বিরাজ করছে হাসপাতালগুলোতে। চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবসহ রয়েছে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্তব্য কাজে অবহেলা একটা অতি পুরনো অভিযোগ। সরকারি চিকিৎসকরা হাসপাতালের ডিউটির চেয়ে প্রাইভেট চেম্বার ও ক্লিনিকেই সময় দিতে বেশি উৎসাহী। তাই রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে শরণাপন্ন হচ্ছে। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছেই যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের ৮০ ভাগ রোগী এখনও অনভিজ্ঞ হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। সুতরাং সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে হাসপাতালে রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। আর সেটা হলে রোগীরা অনেক সময় কোন ধরনের ফি দিতেও কার্পণ্য করবে না।   

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT