স্বাস্থ্য কুশল

ডায়রিয়া রোগে ভেষজ চিকিৎসা

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০২-২০১৮ ইং ০০:৩৩:০৩ | সংবাদটি ২৪৭ বার পঠিত

বারবার পায়খানা হওয়া বা স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত তরল দাস্তের মত পায়খানা হওয়াকে উদরাময় বা ডায়রিয়া বলে। উদরাময় বা ডায়রিয়া একটি বহুব্যাপৃত রোগ। প্রায় প্রত্যেকেরই কোন না কোন সময়ে এ রোগ হয়ে থাকে। এ রোগে অতিরিক্ত পানিশূন্যতার কারণে প্রতি বছর অনেক জীবন নষ্ট হয়। তাই এ রোগ হলে ঘন ঘন খাবার স্যালাইন খাওয়ানো দরকার। নিম্নে এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একক ও পরিচিত ভেষজ নিয়ে আলোকপাত করা হল :
১। দারুচিনি : দারুচিনি, মৌরি ও সাদা জিরা সমপরিমাণ নিয়ে হাল্কা আগুনের তাপে ভেজে নিতে হবে। তারপর চূর্ণ করে ২ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে পানি সহ খেতে হবে। প্রয়োজনে ২-৩ ঘণ্টা পর আরেক মাত্রায় সেবন করুন। তবে দাস্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে ঔষধ সেবন বন্ধ করে দিতে হবে।
২। সাদা জিরা : সাদা জিরা ও বেলশুঠ সমপরিমাণ নিয়ে চূর্ণ করে নিতে হবে। ৩-৪ গ্রাম চূর্ণ দিনে ২ বার পানি সহ সেবন করতে হবে।
৩। জামের কলি : ১০ গ্রাম জামের কলি নিয়ে ৬০ মি.লি. পানি সহযোগে পিঁষে ছেকে নিন। তারপর দিনে ২ বার সেবন করুন।
৪। জাম বীচির শাঁস : জাম বীচির শাঁস ও আমের আটির শাঁস সমপরিমাণ নিয়ে চূর্ণ করে নিন। ২ গ্রাম করে দিনে ২ বার সেবন করলে ডায়রিয়া ভাল হয়ে যায়।
৫। আম গাছের ছাল : আম গাছের ছালের উপরের স্তরটা ফেলে দিয়ে সেই ছাল গরুর দুধের দই এর সাথে বেটে খেলে দাস্ত বন্ধ হয়ে যায়।
৬। হরিতকি : হরিতকি চূর্ণ করে দধির সাথে মিশিয়ে পেষ্ট করে খেলে উপকার হয়।
৭। পেয়ারা পাতা : কাঁচা পেয়ারা পাতা চিবিয়ে রস খেলে ডায়রিয়া দ্রুত আরোগ্য হয় ।
পাতলা পায়খানা সেই সাথে বমিও হয়। এরূপ হলে পেয়ারার কচি পাতা ৪/৫ টি, ২/৩ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে নিন। তারপর সেই পানি ছেঁকে পানিটা খেলে বমি বন্ধ হবে। আর বার বার খেলে একদিনেই পায়খানা কমে যাবে।
৮। পুদিনা : সতেজ পুদিনা পাতার রস মধু ও চুনের পানি মিশিয়ে খেলে দারুন উপকার হয়। ইহা দিনে ৩ বার সেব্য।
৯। মেথি : ১ চামচ মেথি সিদ্ধ করে মাঠার সাথে খেলে খুব উপকার হয়।
১০। মিষ্টি আলু : বার বার পায়খানা হলে মিষ্টি আলুর রস নিংড়ে ছেঁকে নিতে হবে। সেই রস ১ চা চামচ সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে ১৫/২০ মিনিট পর পর কয়েকবার খাওয়ালে দাস্ত কমে যাবে।
১১। লাউ : লাউয়ের রস লবন সহ ১ গ্লাস পরিমাণ প্রতিদিন খেতে হয়।
১২। আদা : শুকনো সতেজ আদা গুড়ো করে বিট লবনের সাথে ১/৪ ভাগ মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
১৩। গাজর : ডায়রিয়ায় গাজরের স্যুপ খুব উপকারী।
১৪। হলুদ : ১ চা চামচ তাজা হলুদের রস অথবা ১ চা চামচ শুকনো হলুদের গুড়া মাঠার সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।
১৫। তিল বীজ : ২ চামচ তিল বীজ সামান্য ভেজে, গুড়ো করে ১ চামচ মাঠার সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার করে ৫/৬ দিন খেতে হবে ।
১৬। আপেল : আপেলের রস, টমেটোর রস ও অন্যান্য শর্করা জাতীয় রস ডায়রিয়ার উপকারী।
১৭। লবঙ্গ : সশব্দে পায়খানা, পেটফাঁপা ও পেটের ভিতর ভুটভাট শব্দ হয়, সে সময় লবঙ্গ একটু ভেজে, চুর্ণ করে সিকি গ্রাম সকালে ও বিকালে দু’বেলা অল্প গরম পানিসহ খেলে ভাল হয়ে যাবে।
১৮। কলা : কলা ও রসুন ডায়রিয়ায় উপকারী।
১৯। কুল : কাদা কাদা দাস্ত এরূপ অবস্থায় ১০-১৫ গ্রাম শুকনো কুল তিন কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এককাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ঐ পানির সাথে একটু সাদা দই এবং ২/১ চা চামচ ডালিমের রস মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
২০। ডাবের পানি : কঁচি ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকায় তা ডায়রিয়াজনিত পানি শূন্যতায় কার্যকরী।
২১। বহেড়া : আধা গ্রাম বহেড়া চূর্ণ ও ২৫ মিলিগ্রাম কর্পূর এক সাথে পানিতে মিশিয়ে সকাল বিকাল খেলে ডায়রিয়া ভাল হয়।
২২। জিরা : জিরা চূর্ণ করে ২ ঘন্টা পরপর আধা চা চামচ করে সেবন করলে ডায়রিয়া ভাল হয়।
২৩। জায়ফল : জায়ফল চূর্ণ ২-৩ গ্রাম মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার সেব্য।
২৪। কুঁচিলা : লেবুর রসে কুঁচিলার ছাল ভিজিয়ে রেখে সেই নির্যাস খেলে গুরুতর ডায়রিয়া সেরে যায়।
২৫। নিম : নিম বাকল থেকে ২-৩ গ্রাম নির্যাস বের করে ভাতের মারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশুদের ডায়রিয়া ভাল হয়ে যায়।
২৬। কাঁটানটে : কাঁটানটের মূলের রস দিনে ২-৩ বার খেলে ডায়রিয়ায় উপকার হয়।
২৭। আমরুল : ৫০ মিলি পরিমাণ আমরুলের কঁচি পাতার রস দিনে ২ বার করে তিন দিন খেতে হবে।
২৮। পুঁইশাক : পুঁইশাক পাতার রসের সাথে ডালিম বীজের রস মিশিয়ে দিনে ২ বার খেলে ডায়রিয়া সেরে যায়।
২৯। খেজুর : ডায়রিয়া থেকে মুক্তির জন্য খেজুরের রস খুব উপকারী। তবে তা খেতে হবে সূর্য উঠার পূর্বে।
৩০। লজ্জাবতী : লজ্জাবতী শিকড় চুর্ণ বা শিকড়ের রস দিনে ২ বার খেলে উপকার হয়।
৩১। ডুমুর : ডুমুর গাছের কান্ড কাটার পর যে আঠা বের হয় সেটা খেলে ডায়রিয়া ভাল হয়।
৩২।  কদবেল : কঁচি কদবেল পেষ্ট করে দিনে ২ বার করে ৩ দিন খেতে হবে।
৩৩। সফেদা : কঁচি ফল যেগুলো মাটিতে ঝড়ে পড়ে সেগুলো পেষ্ট করে ৩ দিন খেতে হয়।
৩৪। বেল : ৩-৫ গ্রাম কঁচিবেল চূর্ণ ৬ ঘন্টা পরপর ঠান্ডা পানি সহ সেব্য।
৩৫। কঁচি আমপাতা : কঁচি আমপাতার রস ও মাটির নীচের ছাল দিয়ে পেষ্ট করে দিনে ২ বার সেবন করলে ডায়রিয়া ভাল হয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT