সম্পাদকীয়

বিপন্ন নদী-সংকটাপন্ন প্রাণবৈচিত্র্য

বিধান চন্দ্র দাস প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০২-২০১৮ ইং ২৩:৩৪:৫৯ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

বাংলাদেশের নদী এখন ভয়ানকভাবে বিপন্ন। সংখ্যা, আয়তন ও গুণমান সব দিক থেকেই। তাই অবশ্যম্ভাবীরূপে নদীর প্রাণবৈচিত্র্যও এখন ভীষণভাবে সংকটাপন্ন। একসময় যেসব নদী ছিল প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, আজ সেসব নদী পরিণত হয়েছে প্রায় প্রাণশূন্য সংকীর্ণ গ্রোতধারায় কিংবা বিষাক্ত নর্দমায়। একসময়ের বিস্মৃত অতল জলরাশি ভরা নদী এখন দেখা যায় অবিস্তীর্ণ অগভীর বালিয়াড়ি ভরা এক শীর্ণকায় গ্রোতস্বিনী হিসেবে। আবার কোনো কোনো জায়গায় নদী সম্পূর্ণভাবে মুছে গিয়ে তৈরি হয়েছে ফসলের ক্ষেত কিংবা স্থাপনা। ফলে নদীর প্রাণবৈচিত্র্যের সেই ঐশ্বর্যময় জৌলুস আর আগের মতো নেই। জলজ অনেক প্রাণ প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর বহু প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার প্রহরও গুনছে।
একাদশ শতকে বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার নদী ছিল। পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে সেই নদীর সংখ্যা অর্ধেকে অর্থাৎ ৭০০তে নেমে আসে। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সেই সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে ৩৫০-এর মতো দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। আর বর্তমানে বাংলাদেশের সব নদ-নদী, ক্ষুদ্র জলগ্রোত, খাঁড়ি, খাল ইত্যাদির সম্মিলিত দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কিলোমিটার। এই পরিসংখ্যান থেকে সহজেই ধারণা করা যায় যে বাংলাদেশ থেকে বহু নদী হারিয়ে গেছে। আর হারিয়ে যাওয়া সেসব নদীর সঙ্গে হারিয়ে গেছে অনেক জলজ জীব।
পরিতাপের বিষয়, বড় কিছু প্রাণী ছাড়া হারিয়ে যাওয়া সেসব জলজ জীবের অনেক নামই আমাদের অজানা। মেরুদ-ী, সে-ও অতি অল্পসংখ্যক সন্ধিপদ কিছু প্রাণী ছাড়া, নদীতে বসবাসকারী অসংখ্য জলচর প্রাণীর কোনো পরিসংখ্যান আগেও করা হয়নি, এখনো নেই। আমাদের দেশে অমেরুদ-ী প্রাণীদের ওপর উল্লেখযোগ্য কিংবা নির্ভরযোগ্য জরিপের বড়ই অভাব। ফলে আমরা জানি না, নদীগুলো বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কোন কোন জীব আমাদের দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে কিংবা বিদায় নেবে।
কিছু গবেষণার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে যে কয়েক দশক ধরে আমাদের দেশে কিছু মাছ বিরল হতে হতে দেশ থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রায় ৫৪টি মাছকে অতি ও মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ইত্যাদি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশে এখন শতাধিক মত্স্য প্রজাতি সংকটাপন্ন। এসবের মধ্যে, বালিতোরা, নান্দিনা, তিলা খোকসা, নিপাতি, দারকিনা, মাইটাভাঙা, ভোল, কাজুলি, নলুয়া চান্দা, পিপলা শোলসহ আরো অনেক নাম উল্লেখ করা যায়। নদীতে বসবাসকারী সন্ধিপদ প্রাণীদের মধ্যেও কয়েকটি প্রজাতি সংকটাপন্ন বলে গবেষকরা বলছেন; যদিও নদীজ সন্ধিপদ প্রাণী প্রজাতির অতি অল্পই এ পর্যন্ত আমরা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। ধারণা করা যায় যে সন্ধিপদসহ বিরাটসংখ্যক নদীজ অমেরুদ-ী প্রাণী বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে কিংবা অচিরেই বিদায় নিতে চলেছে। মিঠা পানির কুমির বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশের নদীতে ঘড়িয়াল, বড় কাইট্টা, ধুর কাছিম, কড়ি কাইট্টা অতি বিপন্ন প্রাণী। এ ছাড়া নোনা পানির কুমির ও ১৩টি কাছিম/কাইট্টা বিপন্ন কিংবা সংকটাপন্ন সরীসৃপ বলে জানা গেছে। জলচর স্তন্যপায়ীদের মধ্যে ভোঁদড়/উদবিড়ালের তিনটি প্রজাতি অতি বিপন্ন এবং তিন প্রজাতির শুশুক (ইরাবতিসহ) বিপন্ন/সংকটাপন্ন বলে বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে যে নদীগুলো আছে তার অনেক কটি কোনো রকমে বেঁচে আছে। বেশ কটির নাব্যতাও হ্রাস পেয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মহানন্দা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ থেকে শুরু করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রূপসা, পশুর, শিবসা প্রভৃতি নদীতে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়।  গ্রোত কমে যাওয়া, পলি পড়া, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ (পোল্ডার তৈরিসহ), নদী দখল ও নদীর পারে বসতবাড়ি থেকে শুরু করে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ মূলত নদী ধ্বংসের জন্য দায়ী। তবে নদীজ জীববৈচিত্র্যের জন্য সব থেকে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীদূষণ। ঘর-গৃহস্থালির বর্জ্য, কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার এবং কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পানিকে করে তুলছে দূষিত।
গত বছরের ৭ জুন ইউরোপের একটি বিখ্যাত জার্নালে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে গঙ্গা-পদ্মার পানির সঙ্গে বছরে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার টন প্লাস্টিকদ্রব্য প্রবাহিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর থেকে গঙ্গা-পদ্মায় কঠিন বর্জ্য দূষণের একটি ভয়াবহ চিত্র অনুমান করা যায়। বাংলাদেশের নদীগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকদ্রব্য প্রতি মুহূর্তে জমা হয়ে নদীদূষণ ঘটাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। নদীতে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকদ্রব্য যাওয়ার কারণে নদীর গ্রোত ও পলি আটকে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থ নদীজ প্রাণীর জন্য নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে। যেসব রাসায়নিক দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয় কিংবা এগুলোর রং করা হয়, তা থেকে অনেক সময় কিছু রাসায়নিক পানিতে মিশে পানিদূষণ ঘটায়। নদীতে থাকা বিভিন্ন ধরনের প্রাণী, বিশেষ করে অমেরুদ-ীজাতীয় ছোট ছোট প্রাণী এসব রাসায়নিকের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া ছোট ছোট প্লাস্টিক টুকরা অনেক জলজ প্রাণী খায় এবং ক্ষতির শিকার হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ কিছু রাসায়নিক কিছু প্রাণীকে তা খাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। বিভিন্ন জলজ প্রাণীর পেট থেকে প্লাস্টিকদ্রব্য পাওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায়।
বাংলাদেশে শিল্প-কলকারখানা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এসবের দূষণ ব্যবস্থাপনা মানসম্মত না হওয়ায় তা পানিদূষণের অন্যতম উৎস হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় ছয় হাজার টেক্সটাইল, ট্যানারি ও পোশাক তৈরির কারখানা, এক হাজার কাগজ ও কাগজ দ্বারা উৎপাদিত নানা ধরনের দ্রব্যের কারখানা, দুই হাজার রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য প্রস্তুতের কারখানা এবং প্রায় আড়াই হাজার অধাতু খনিজজাত দ্রব্য উৎপাদনের কারখানা আছে। এসব কারখানার উল্লেখযোগ্য সংখ্যা দেশের ছোট-বড় নদীর ধারে কিংবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল, বিল কিংবা নর্দমার পাশেই অবস্থিত। আর এসব কারখানা থেকে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো বিষাক্ত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পানিকে করে তুলছে বিষাক্ত।
এ ছাড়া বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ টন রাসায়নিক সার জমিতে প্রয়োগ করা হয়। এসব রাসায়নিক সারেরও এক উল্লেখযোগ্য অংশ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ের মাধ্যমে নদীর পানিতে মিশে পানিকে করে তোলে দূষিত। এ ছাড়া পোকা-মাকড় মারার জন্য প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার বেশ কিছু অংশ নদীতে মিশে দূষণ ঘটাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের জলযান থেকে নির্গত তেল ও তেলজাতীয় পদার্থের মাধ্যমেও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। অনেক জায়গায় হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষাক্ত বর্জ্যও নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। সত্যিকথা বলতে কি, এত সব দূষকের উপস্থিতিতে নদীজ প্রাণবৈচিত্র্যের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের কয়েকটি নদীর পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে সেগুলোর কোনো কোনোটিতে মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতু, যেমন সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, তামা, আর্সেনিকসহ নানা রকম অজৈব ও জৈব দূষকের উপস্থিত রয়েছে। গত বছর ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের চারটি নদীর (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা) পানিতে জলজ প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর দূষক পাওয়া যায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় নদীর মাছ ও কাঁকড়ার দেহ থেকেও ক্ষতিকর ভারী ধাতব পাওয়া গেছে। সাধারণত নদীতে মিশে যাওয়া ভারী ধাতবসহ অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ জলজ জীবদেহে জৈব-বর্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাণীদের ক্ষতি করে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় অনেক জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন। লোপ পায় প্রজননক্ষমতা। একসময় তারা হারিয়ে যায় সেসব নদী থেকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে একসময় পদ্মা নদীতে প্রায় ১৮০ ধরনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিপুল পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু আজকাল পদ্মা নদীতে মাছের সেই বৈচিত্র্য ও পরিমাণ আর নেই বললেই চলে। এখন পদ্মা নদীতে মাত্র কয়েক ধরনের মাছ খুব অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। নদীদূষণ এর অন্যতম কারণ। একটি গবেষণায় পদ্মা, করতোয়া, যমুনাসহ আরো কয়েকটি নদীর পানি ও নদীর তলদেশের মাটিতে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর ভারী ধাতব পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে দূষিত নদীজ মাছের কিডনি, লিভার ও মস্তিষ্কে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত মাত্রার থেকেও বেশি মাত্রার দূষিত পদার্থ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো সময় নদীর পানি অনেক বেশি দূষিত হয়ে পড়লে জলজ এক বা একাধিক প্রজাতি গণমৃত্যুরও শিকার হয়।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এই বৃদ্ধি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে ওই সব নদীতে বসবাসকারী লালা পানিতে (ব্রাকিস ওয়াটার) অভ্যস্ত জীববৈচিত্র্যের জন্য জীবন ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদী বরাবর বেড়িবাঁধ (পোল্ডার) দেওয়ার কারণে এ অঞ্চলের অনেক নদীতে পলি জমে নদীতল উঁচু হয়ে গেছে। উজান থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মিষ্টি পানি এসব নদীতে না আসার কারণে নদীগুলোতে দিন দিন লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে লালা পানির অনেক প্রজাতি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এখন পর্যন্ত মোট ১৩৯টি পোল্ডার তৈরি করে বিভিন্ন নদী বরাবর প্রায় ১২ লাখ হেক্টর জমিকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোর প্রাণবৈচিত্র্য বিগত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশের নদ-নদীর বিপন্ন অবস্থার জন্য বাংলাদেশের আমরাই যে শুধু দায়ী, তা বলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক নদী ভারত (৫৪টি) ও মিয়ানমারের (তিনটি) সঙ্গে সংযুক্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দুটি নদী পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র হিমালয়ের যথাক্রমে গঙ্গোত্রি (গাড়োয়াল, উত্তরাখ-, ভারত) ও অ্যাংকোসি (বুরাং, তিব্বত, চীন) হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রধান হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হওয়ার পর হিমালয়ের আরো অনেক ছোট-বড় হিমবাহ বিগলিত স্রোতধারার সঙ্গে মিশে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্রের পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সারা বিশ্বের হিমবাহগুলোর মতো হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত ছোট-বড় সব হিমবাহর আয়তনও কমে আসছে। ফলে হিমালয় থেকে নেমে আসা পানির পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে। গঙ্গোত্রি হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি আমি আশির দশকে সেখানে গিয়ে প্রথম দেখি ও শুনি। সে সময় অবশ্য বৈশ্বিক উষ্ণতার কথা শোনা যেত না। হিমবাহগুলো থেকে বিগলিত পানির পরিমাণ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে হিমালয় অঞ্চল থেকে নেমে আসা নদীগুলোর পানি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের মাত্রা ও পরিমাণ। সেই কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ উজান থেকে প্রয়োজনমতো পানি পাচ্ছে না। ফলে দেশের অভ্যন্তরের অনেক নদী মৃতপ্রায় হয়ে উঠছে। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও বরফের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেখানে উপত্যকা ক্ষয়জনিত সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। আর এর ফলে হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোতে পলির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী বরাবর বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি, খনি, নগর ও উন্নয়নকেন্দ্রিক কর্মকা-জনিত বর্জ্যের পরিমাণ। আর আমরাও তাতে যোগ করে চলেছি প্রতিনিয়ত নানা ধরনের জৈব ও অজৈব দূষক। পরিচালনা করছি নদীবিরোধী নানা ধরনের কর্মকা-। কাজেই অসম্মিলিতভাবেই আমরা নদী ধ্বংসের জন্য দায়ী।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো একটি দেশে নদীর সংখ্যা, আয়তন ও গুণমান কম হলে তার অভিঘাত শুধু সেই নদীতে বসবাসকারী জীবকুলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। তার অভিঘাত নদী ছাড়িয়ে স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় সেখানকার খাদ্যশৃঙ্খলে। ফলে পাল্টে যায় সেখানকার বাস্তুতন্ত্র। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় নদীজনিত এসব অভিঘাত কমবেশি প্রকট হতে শুরু করেছে। কাজেই দেশের উন্নয়নকে স্থায়ী করতে হলে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে নদীর যতœ নিতে হবে।  
লেখক : অধ্যাপক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT