সম্পাদকীয়

গ্যাসের অপচয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০২-২০১৮ ইং ২২:৩১:৩৯ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

অপচয় হচ্ছে গ্যাসের। ঘরে ঘরে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে গ্যাস সংকট। গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। আর সরকার গৃহস্থালী কিংবা অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে। সিলেটসহ দেশের সর্বত্র এখন যাদের ঘরে গ্যাস সংযোগ রয়েছে তারাও স্বাভাবিক গ্যাস প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পদ। এর মজুদ সীমিত। অদূর ভবিষ্যতে মজুদ শেষ হয়ে যাবে। সংকট মোকাবেলায় ইতোপূর্বে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানীরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। তারও কোন অগ্রগতি নেই। সব মিলিয়ে জ্বালানী গ্যাস নিয়ে একটা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
জ্বালানী সংকট শুধু আমাদের দেশে নয়। এই সংকট এখন বিশ্বব্যাপী। এই প্রেক্ষাপটে এর ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানী যেমন বায়োগ্যাস ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কোন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ গ্যাস সংকট সৃষ্টি হবে। আমাদের দেশে গ্যাস অপচয়ের একটা বড় উদাহরণ হলো প্রায় ঘরেই রান্নার কাজ শেষ হওয়ার পর শুধুমাত্র একটা ম্যাচের কাঠি বাঁচানোর জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। গ্যাসের এই অপচয় রোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে সর্বমহলে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী নীতি এবং জ্বালানী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের কথা ইতোপূর্বে শোনা গিয়েছিলো। যাতে জ্বালানী অপচয় একটি অপরাধ ও শাস্তিযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সেই ব্যাপারেও অগ্রগতি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম জ্বালানী ঘাটতির কারণে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আলোচনা। কিন্তু টেকসই সমাধান এখন পর্যন্ত বের হয়নি। বিকল্প পন্থা হিসেবে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানীর চিন্তাভাবনা করা হয়। ২০০২ সালে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর জন্য ২০০২ সালে পাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে ভারতও এই পাইপ লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই গ্যাস ভারত পর্যন্ত শুধু নয় অন্য দেশগুলোতেও সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা করা হয়েছিলো। তুর্কমেনিস্তানে ২০ ট্রিলিয়ন মিটারের বেশি গ্যাস মজুদ আছে। সার্কের কোন দেশে অতিরিক্ত গ্যাস বা অন্য জ্বালানী নেই, যাতে পরস্পর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারে। এ জন্য কেউ কোন জ্বালানী আমদানী করলে তার ভাগ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দেয়া যেতে পারে।
‘জ্বালানী গ্যাস বিপর্যয়’ রোধে সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র উদ্ভাবনসহ গ্যাস অপচয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে গৃহস্থালীর কাজে গ্যাস-এ মিটার ব্যবহারের ব্যবস্থা করলে অপচয় অনেকটাই রোধ হবে। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারও বাড়ানো দরকার বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত দিয়েছেন। আর বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে সরকারিভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা দরকার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এতে জ্বালানী সংকট নিরসনের পাশাপাশি মূল্যবান বৃক্ষ সম্পদ রক্ষা পাবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT