ইতিহাস ও ঐতিহ্য

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার পাখি

শাহেদ শুভ্র হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০২-২০১৮ ইং ২২:৩৬:৫৩ | সংবাদটি ১২৭৭ বার পঠিত

বাংলাদেশকে বলা হয় পাখির দেশ, গানের দেশ। গাছের ডালে ডালে পাখির কলকাকলিতে সবসময় মাতোয়ারা থাকতো গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি। একসময় পাখির সুমধুর ডাকে বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙলেও গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে আগের মতো আর পাখির ডাক শোনা যায় না। কালের আবর্তে বাংলার প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে পাখি। হাওর-বাঁওড়, বিল শুকিয়ে যাচ্ছে, এছাড়াও শুকিয়ে যাচ্ছে আমাদের জলাভূমি, নদী-খালগুলো। ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুর। এসব জলাভূমি, হাওর-বাঁওড় থেকে খাবার সংগ্রহ করে  বেঁচে থাকে পাখিগুলো। এছাড়াও বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। এসব গাছগুলো পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে থাকে। পাখির আবাসস্থল নির্বিচারে ধ্বংস ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক দেয়ার প্রভাবে এসব পাখি আজ বিলুপ্তপ্রায়। বিশেষ করে জাতীয় পাখি দোয়েল, ঘুঘু, বাবুই, মাছরাঙা, টুনটুনি, শালিক, বাওয়াই, ফ্যাসকো, কোকিল, কাঠঠোকরা, ডাহুক, বটর, প্যাঁচা, টেইটেরা, গোমড়া, চিলসহ আরো অনেক পাখি আর সচরাচর দেখা যায় না। শোনা যায় না এসব পাখির মধুর ডাক। উড়তে দেখা যায় না আর মুক্ত নীল আকাশে। বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা এসব পাখি হয়তো চোখেই দেখেনি, অনেকেই এসব পাখির নামও জানে না। ফলে তরুণ প্রজন্মের কাছে এসব পাখি হয়ে যাচ্ছে গল্প আর ইতিহাস। এমনকি আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল পাখিকেও ছবি অথবা বই দেখে চিনতে হয় শিশু-কিশোরদের। এ প্রজন্মের অনেক শিশু-কিশোর কখনো দেখেনি মুক্ত আকাশে উড়ন্ত এসব নামকরা পাখি, শোনেনি এসব পাখির ডাকও। বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহী পাখিগুলো এভাবেই মানুষের অজান্তেই হারিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।
দেশের স্থানীয় পাখি ছাড়াও শীতকালে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে বাংলাদেশে শুধুমাত্র আশ্রয়ের জন্য আসে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। যাদের নাম দিয়েছি আমরা অতিথি পাখি। এই পাখিগুলোর কল-কাকলিতে মুখর হয়ে থাকে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এরা সাধারণত আশ্রয় নেয় জলাভূমি, বিল, পুকুর, হাওর, নদী তীরবর্তী জায়গায়। এদের উপস্থিতিতে এসব জায়গার সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় এদের দেখতে। এই পাখিগুলো সম্পর্কে মানুষের এতো আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আসছে কিছু অসাধু চক্র। এরা পাখিগুলোকে বিক্রির উদ্দ্যেশে অবৈধভাবে শিকার করে। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে দেয়া হয় অতিথি পাখিগুলোকে। সামান্য লাভের জন্য আমাদের জীববৈচিত্র্যের যে কত বড় ক্ষতি হচ্ছে এই বোধোদয় এসব অসাধু মানুষের ভেতর নেই। এদের হাত থেকে পাখিগুলোকে রক্ষার জন্য সব ধরনের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাখি শিকার রোধে আইনের প্রয়োগ এবং শাস্তিপ্রদান দৃষ্টান্তমূলক হলে অপরাধীরা পাখি শিকারে নিরুৎসাহিত হবে।
জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলার আগেই পাখিদের জন্য আমাদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হবে। পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে ধীরে ধীরে একসময় আমাদের সুপরিচিত পাখিগুলো এদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। যেটা আমাদের কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • গ্রামের কথা
  • প্রাচীন গড় কিভাবে গৌড় হল
  • চায়ের দেশ পর্যটকদের ডাকে
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন সিলেট অঞ্চলের পত্রপত্রিকা
  • স্মৃতি ও চেতনায় বঙ্গবন্ধু
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • Developed by: Sparkle IT