সম্পাদকীয় যে নিজের দোষগুণের জন্য অন্তর থেকে অনুতাপ করে, সে নির্দোষ ব্যক্তিরই মতো।-আল হাদিস

গুঁড়ো দুধে ‘সিসা’

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৪৮:০৪ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

গুঁড়ো দুধে সিসার উপস্থিতি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমদানী করা বিভিন্ন ব্রান্ডের গুঁড়ো দুধে সিসার উপস্থিতি সম্পর্কে সুনিশ্চিত হতে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করার এই উদ্যোগ নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। দেশের একাধিক ল্যাবরেটরির পাশাপাশি দেশের বাইরেও এই পরীক্ষা করা হবে। এই লক্ষে দশ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই দল চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের এবং আমদানী করা বিভিন্ন ব্যাচের গুঁড়ো দুধ সংগ্রহ করবে। এর পর দেশের ও বিদেশের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। এই পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে দুই মাস পর। আর তখন এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে দেশে বাজারজাত করা গুঁড়ো দুধ পরীক্ষা করে ভয়াবহ মাত্রায় ভারী ধাতু ও সিসার উপস্থিতি প্রমাণিত হয়। সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বৈঠকে এই ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গুঁড়ো দুধ নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম কান্ড ঘটে চলেছে। একে অনাচারও বলা যায়। দেশে জিনিসপত্রের দাম নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। এই পণ্যমূল্য বৃদ্ধিকে অনেকেই ‘আতংক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কখন কোন দ্রব্যের দাম বাড়ে, তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। আর দাম বৃদ্ধির মাত্রাও অস্বাভাবিক। কীসের ভিত্তিতে দাম বাড়ছে কেউ জানে না। হয়তো দীর্ঘদিন ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই মেনে নিতে ‘বাধ্য’ হয়েছেন। কিন্তু কোন কোন সময় কোন কোন পণ্যের দাম এমনভাবে বেড়ে যায়, তা মেনে নিতে কষ্ট হয় ভোক্তা-ক্রেতাদের। গুঁড়ো দুধও তেমনি একটি পণ্য; যার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আমাদের দেশে। অথচ বিশ্ব বাজারে যখন দাম কমলো তখন আমাদের দেশে দাম কমেনি। শুধু দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই নয়, গুঁড়ো দুধের কারণে অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীনও হতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
গুঁড়ো দুধ মূলত আমদানী পণ্য। চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানী করা হয় বিদেশ থেকে। বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিকটন গুঁড়ো দুধ আমদানী করা হয়। এ ছাড়া, দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় সাত হাজার মেট্রিকটন গুঁড়ো দুধ উৎপাদন করছে। যেহেতু আমদানীকৃত দুধই বেশি ব্যবহার করছেন এদেশের ভোক্তারা, তাই এর মান কিংবা দাম দুটোই নির্ভর করছে যে দেশ থেকে আমদানী করা হচ্ছে ওই সব দেশের ওপর। অর্থাৎ বিদেশ থেকে বেশি দামে কিনলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। তেমনি বিদেশে এই দুধে কোন কেমিক্যাল মেশালে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া ধরা পড়বে না। অথচ দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত গুঁড়ো দুধে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক ‘সিসা’ পাওয়া গেছে।
গুঁড়ো দুধে পাওয়া গেছে সিসা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। অথচ এই সিসা মিশ্রিত দুধ আমদানী করা হচ্ছে বিদেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে। শুধু গুঁড়ো দুধই নয় আরও অনেক আমদানীকৃত খাদ্য পণ্যেও পাওয়া যায় ক্ষতিকর অনেক পদার্থ। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা নিরীক্ষায় তা ধরাও পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে ‘নানা কৌশলে’ এইসব পণ্য ঠিকই বাজারে বিক্রি হয়। একবার অভিযুক্ত হওয়ার পর একই দ্রব্য একই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পুনরায় পরীক্ষায় ‘নির্ভেজাল’ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইকে ফাঁকি দিয়ে অনেক ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারে বিকিকিনি হচ্ছে। গুঁড়ো দুধসহ আমদানীকৃত সব খাদ্যদ্রব্য এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য যাতে কোন ধরণের কেমিক্যাল মিশ্রন ছাড়া ভেজালমুক্ত হয়েই বাজারে সরবরাহ করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেই দায়িত্ব সরকারের।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT