ধর্ম ও জীবন

সুদ : ইসলাম কী বলে?

আব্দুল কারীম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৫৪:২৮ | সংবাদটি ১০০২ বার পঠিত

আধুনিক বিশ্বে বহুল পরিচিত ও আলোচিত বিষয়টি হচ্ছে 'সুদ'। সমাজে তার ক্ষয়-ক্ষতি, আয়-উন্নতি ও ভয়ংকর পরিণতি সম্পর্কে সকলের বিশদ পরিসরে জানা না থাকলেও আশা করা যায় কিঞ্চিৎ হলেও আছে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ ও পরিতাপের ব্যাপার হলো যে, সুদের এপিট-অপিট জানা সত্ত্বেও অনেক গাফিল-মুসলিম তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে আছেন। পুঁজিবাদী ও কমিউনিজমবাদী অর্থ ব্যবস্থার কু-প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে এবং তার ফাঁদে পড়ে তারা ইসলামি অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে সুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। কিন্তু ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষয়-ক্ষতি ও কঠিন পরিণতি জানা সত্ত্বেও আমলে না নিয়ে সুদচক্রের দুষ্ট-ফাঁদে পড়ে অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হয়ে আছেন। অনেকেই আবার লোকসান খেয়ে সুদের অতৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। আবার কেহ প্রবৃদ্ধির তাড়নায় দেউলিয়া হয়ে নিজের সর্বসত্তা সুদের তরে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
অথচ, সুদে সংশ্লিষ্ট বেশার্ধ মুসলমান জানে না সুদের পরিণতি কি! কিয়দংশ জানলেও আমলে নিচ্ছেন না; অনেকটা বে-পরোয়া হয়ে আছেন। সুতরাং, বর্তমান সময়ে আত্মভোলা মুসলমানদের ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে সতর্ক করতে হলে ও অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হলে আলোচিত বিষয়টি নিয়ে বিশদ আকারে পর্যালোচনার দরকার এবং সুদের এপিট-অপিট নিয়ে ক্ষয়-ক্ষতি, লাভ-লোকসান জানিয়ে দেওয়া দরকার। পরকালীন শাস্তি সম্পর্কে অবগত করা দরকার। আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর ফরমান পৌঁছিয়ে দেওয়ার দরকার।
কুরআন-হাদিসের ভাষ্যে, যারা সুদি কারবার করে, তারা যেন আল্লাহ ও তার রাসুল সা. এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাই, এ থেকে প্রত্যেক মুসলমান বেঁচে থাকতে ও জানতে হলে প্রথমে সুদের সংজ্ঞা ও তার প্রকার-প্রকরণ, অতঃপর বিধানসহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুদ কারবার প্রণয়ন সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে।
সুদ এর সংজ্ঞা :
সুদ একটি বাংলা একক শব্দ। যার আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘রীয়া’। উর্দু ও ফারসি ভাষায় সুদই বলা হয়ে থাকে। আবার, বাংলা ভাষায়ও তার একই ব্যাবহার। তার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে, ‘ওহঃবৎবংঃ ্ টংঁৎু’। ওহঃবৎবংঃ শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে মধ্যযুগীয় ল্যাটিন শব্দ ওহঃবৎবংং থেকে। যার অর্থ হচ্ছে, ঋণ দিয়ে মূলের চেয়ে বেশি নেওয়া। টংঁৎু ও ল্যাটিন শব্দ থেকে আগত। যার অর্থ হচ্ছে, প্রদত্ত ঋণ থেকে অর্জিত উপভোগ। অর্থাৎ, ঋণ দিয়ে মূলের চেয়ে বেশি গ্রহণ করা। ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ ড়ভ জবষরমরড়হং ধহফ ঊঃযরপ -এ বলা হয়েছে যে, ওহঃবৎবংঃ ্ টংঁৎু শব্দদ্বয় এক ও অভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আল-কুরআন ও সুন্নাহের ভাষায় সুদ এর অর্থ হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি, পরিবৃদ্ধি, পরিবর্ধন, পরিবর্ধক, সম্প্রসারণ ও স্ফীত। যেমনি মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত (বৃদ্ধি) হয়’।
আরবী অভিধান ‘লিসান আল-আরবে’ রীয়া এর অর্থ এসেছে বৃদ্ধি করা, বাড়তি ও অতিরিক্ত করা। সুতরাং, আমরা বিভিন্ন তথ্য-সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, রীয়া এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে মূলের বিনিময়ের মাঝে বৃদ্ধি করা। যেমন : এক টাকার বিনিময়ে দুই টাকা গ্রহণ করা। অপরদিকে, প্রত্যেক হারাম ও নিষিদ্ধ ব্যবসাকেও রীয়া বলে।
রীয়া এর শরয়ী বা পারিভাষিক অর্থ : নির্দিষ্ট কয়েকটি জিনিসে কম-বেশি করা। দু’ধরনের রীয়া এর ক্ষেত্রে এ-সংজ্ঞা প্রযোজ্য। যথা : রীয়া আল-নাসিয়া ও রীয়া আল-ফজল।
সুদ এর প্রকার : কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুদ হচ্ছে দু’ প্রকার। যথা: (১) রিবা আল-নাসিয়া (২) রিবা আল-ফজল।
রিবা আল নাসিয়া :
শাব্দিক অর্থে : কুরআন মজিদে উল্লেখিত সুদ রিবা আল নাসিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটিকে আবার রিবা আল- কুরআনও বলা হয়ে থাকে। নাসিয়া শব্দের মূল হচ্ছে ‘নাসায়া’। যার শাব্দিক বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে স্থগিত, বিলম্বিত বা প্রতীক্ষা।
পারিভাষিক অর্থে : ঋণের সেই মেয়াদকালকে নাসায়া বলা হয়ে থাকে, যা ঋণদাতা আসল ঋণের ওপর নির্ধারিত পরিমাণ অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে ঋণগ্রহীতাকে নির্ধারণ করে দেয়। সমষ্টিগত অর্থে রিবায়ে নাসিয়া হচ্ছে, ঋণের উপর সময়ের প্রেক্ষিতে ধার্যকৃত অতিরিক্ত অংশ। এই অতিরিক্ত অংশ সময়ের সাথে বৃদ্ধি পাওয়া। ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া সময় কখনো রিবা নয় বরং ঋণ পরিশোধের জন্য সময় থাকা প্রকৃত সম্মত; তবে ঋণের মূলের উপর ধার্যকৃত অতিরিক্ত উপভোগ্য হচ্ছে রিবা নাসিয়া। সে ঋণ নগদ অর্থে হোক কিংবা পণ্য আকারে হোক, তার ওপর ধার্যকৃত রিবা হচ্ছে রিবা নাসিয়া।
হানাফী উলামায়ে কেরাম রিবায়ে নাসিয়ার সংজ্ঞায় বলেছেন, ‘রিবা নাসিয়া হচ্ছে, মেয়াদ বা সময়গত বৃদ্ধি যা তাৎক্ষণিক বিনিময়ের চেয়ে বাকিতে বিনিময়ে প্রদত্ত বর্ধিত সময় বা মেয়াদ এবং দেনার পরিমাণের বৃদ্ধি, যখন ভিন্ন ভিন্ন জাতের ওজন বা পরিমাপযোগ্য পণ্য, অথবা কখনও জ্ঞান ও পরিমাপ করা হয় না এমন সমজাতের পণ্য বাকিতে ক্রয়- বিক্রয় করা হয় এবং দেনার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।
মনে করুন, ‘আনাস’ একজন ঋণদাতা এবং ‘আসাদ’ একজন ঋণগ্রহীতা। ‘আনাস’ যদি ‘আসাদকে' ৫০ টাকা এক বছরের জন্য এ শর্তে ঋণ দেয় যে, এক বছর পর আসাদ উক্ত ৫০ টাকার সাথে অতিরিক্ত আরো ১০ টাকা ফেরত দেবে, তাহলে ঐ অতিরিক্ত ১০ টাকাই হবে ‘রিবায়ে নাসিয়া’। এভাবে ঋণদাতা যদি ঋণগ্রহীতাকে ১ কিলোগ্রাম লবণ এ শর্তে ঋণ দেয় যে, এক মাস পর ঋণগ্রহীতা দেড় কিলোগ্রাম ফেরত দেবে তাহলে এ অতিরিক্ত আধা কিলোগ্রাম লবণ হবে ‘রিবায়ে নাসিয়া’। রিবায়ে নাসিয়া, রিবা আল জাহিলিয়্যা, রিবা আল জলি, স্পষ্ট প্রকট, রিবা আল মুবাশশির রিবা আল দুয়ুন, রিবা আল- করদ, রিবা আল কুরআন ইত্যাদি নামেও আহুত হয়ে থাকে।
বর্তমান যুগে ঋণের বিনিময়ে সুদের আদান- প্রদান ব্যাপকভাবে প্রচলিত। মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উছমানীর মতে, ‘ঋণ এর আসলের উপর চুক্তি অনুসারে ধার্যকৃত যে কোনো অতিরিক্ত উপভোগ্য হচ্ছে রিবা আল- নাসিয়া। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই রিবাকেই হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরো লিখেছেন, ‘ভোগ বা উৎপাদন যে উদ্দেশ্যেই হোক, নির্বিশেষে সকল ঋণ বা দেনার চুক্তিতে আসলের ওপর ধার্যকৃত, কম হোক, বেশি হোক, যে কোনো অতিরিক্তই হচ্ছে আল কুরআনে ঘোষিত হারাম ‘রিবা’। রিবায়ে নাসিয়া এর হুকুম হচ্ছে, হারাম। আর হারাম হওয়াটা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।
যেমনটি হাদিস শরীফে এসেছে, ‘আবু সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাইদ খুদরি রা. কে বলতে শুনলাম, ‘দিনার দিনারের বিনিময়ে এবং দিরহাম দিরহামের বিনিময়ে সমান সমান বিক্রি করতে হবে। যে কমবেশি করবে সে সুদ খাওয়ার অপরাধ করল। আমি তাঁকে বললাম, ইবনে আব্বাস রা. অন্য কথা বলছেন। তিনি (আবু সাইদ খুদরি রা.) বললেন, আমি ইবনে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি যা বলছেন তা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর মুখ থেকে শুনেছেন নাকি কুরআনে পেয়েছেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর মুখেও শুনি নাই বা কুরআনেও পাইনি। তবে উসামা বিন যায়েদ আমাকে বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘রিবা নাসিয়া বা বাকিতেই। (মুসলিম : ১৫৯৬)
রিবা আল-ফজল এর সংজ্ঞা :
রিবায়ে ফজল এর উৎপত্তি হয় হাতে হাতে বিনিময় থেকে। রিবা ফজল হচ্ছে, সাদৃশ্যপূর্ণ দু’টি জিনিসের হাতে হাতে তাৎক্ষণিক বিনিময়ে বাড়তি নেয়া, যেমন- স্বর্ণের বিনিময়ে বেশি স্বর্ণ, দিরহামের বিনিময়ে বেশি দিরহাম। এইভাবে একই জিনিসের বিনিময়ে একই জিনিস বেশি নেয়া। যেহেতু একই জিনিস সে জিনিসের অতিরিক্ত জসস দিল, তাই এখানে সুদি লেনদেনের মনোবৃত্তি কাজ করেছে।
অন্যকথায়, পণ্য বিনিময় কালেও সুদ হতে পারে। একই জাতীয় পণ্যের নগদ হাতে হাতে উপস্থিত বিনিময়ে কমবেশি করা হলে বেশিটা রীবায়ে ফজল।
ফোক্বাহে কেরামদের মতে, সমজাতীয় পণ্যদ্রব্য ও মুদ্রার লেন-দেন কালে এক পক্ষ চুক্তি অনুযায়ি অপর পক্ষকে শরিয়াহ সম্মত বিনিময় ব্যতীত যে অতিরিক্ত মাল প্রদান করা হয় তাকে রিবা আল ফজল বলে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, ‘পণ্য বা অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত পণ্য বা অর্থই হচ্ছে রিবা। যেমন, এক দিনারের বিনিমযে দুই দিনার। এখানে বিনিময় বলতে তিনি হাতে হাতে বিনিময়কে বুঝিয়েছেন। এ ছাড়া এক জাতের মুদ্রা, অর্থাৎ দিনারের সাথে দিনারের বিনিময়ের কথা বলেছেন।
হুজুর পাক সা. রিবা ফজলকেও হারাম ঘোষণা করেছেন। মনে করুন, এক কিলোগ্রাম উন্নতমানের খেজুরের সাথে দুই কিলোগ্রাম নিম্নমানের খেজুর বিনিময় করা হলে, নিম্নমানের খেজুরের ঐ অতিরিক্ত এক কিলোগ্রামই হবে রিবা আল- ফজল। অতএব, উক্ত আলোচনা ও হাদিস শরীফ থেকে প্রতিয়মান হলো যে, রিবায়ে ফজল হারাম বা নিষিদ্ধ।
ইসলামে সুদের বিধান :
সুদ মানবতার জন্য চরম এক অভিশাপ। অর্থনৈতিক শোষণের জন্য এক জঘন্যতম হাতিয়ার। হতদরিদ্র, অসহায়- নিপীড়িত মানুষদের জুলুমের এক কৌশলী কারবার। সুদি ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ভারসাম্যতাকে নসাৎ করে। মানুষে মানুষে বৈষম্য ও বিভাজন সৃষ্টি করে। গরীব ও অধিকার বঞ্চিত মানুষদের সমাজে অবহেলিত ও লাঞ্চিত করে। সমাজে নৈরাজ্য ও অশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সুদকে পরিস্কার ভাষায় হারাম ঘোষণা করেছেন এবং নবী-রাসূলগণ সুদি ব্যবস্থার উপরে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে জিহাদও ঘোষণা করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামুল্লাহে ইরশাদ করেন- ‘যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ‘বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন’। (সূরায়ে বাক্বারা : ২৭৫)
অন্যত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘হে মুমিনগণ, তোমরা সুদ খাবে না বহুগুণ বৃদ্ধি করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’। (সূরায়ে আল-ইমরান : ১৩০)
‘আর তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। (সুরায়ে রুম : ৩৯)
হাদিস শরীফে এসেছে, জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদদাতা, গ্রহীতা এবং এর লেখক ও সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। (মুসলিম শরীফ : ৭৫৯৭)
সারকথা, সোনা এবং রূপায় সুদের হুকুম বর্তানোর কারণ এর মূল্যমান সমৃদ্ধ হওয়া আর বাকি চারটি এ জন্যে যে পরিমাপ, ওজন ও ভক্ষণযোগ্য। যেমন-গম, যব, চাল ইত্যাদি। আর যা ওজন, মাপ বা ভক্ষণ কোনো জাতীয়ই নয় তদুপরি বিক্রি হয় অন্য জাতীয় জিনিসের বিনিময়ে সেটাতে কোনো সুদ নেই। এমনটিই বলেছেন অধিকাংশ উলামা। যেমন- (আংটির) পাথর, (খেজুরের) বীচি ইত্যাদি।
বক্ষমান প্রবন্ধে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, ‘সুদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে’ বিষয়ে পরিস্কার করার জন্য। কিন্তু জ্ঞানের দৈন্যদশায় আশানুরূপ হলো না। তদুপরি, যেটুকু প্রবন্ধে এসেছে, সেটুকুর উপর যেন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার এবং সুদ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করেন। আমিন ॥

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT