ধর্ম ও জীবন

ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়িদ আসআদ মাদানী

আব্দুস সালাম সুনামগঞ্জী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৫৬:৪৭ | সংবাদটি ২০৫ বার পঠিত

আল্লাহ তা’আলা মানব জাতির হিদায়তের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী রাসূলকে আলোর দিশারী করে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে উম্মতকে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বর্বরতার যুগে আগমন করে অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে হেদায়তের আলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আপন মিশনকে পূর্ণতা দান করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা প্রাপ্ত হন’ আজ আমি তোমাদের জন্য দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা-৩)
বিদায় হজ্জের ভাষণে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম এবং কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল উম্মতে মুসলিমাকে তিনি নির্দেশ দান করেন হিদায়াতের আলো সারা বিশ্বে পৌঁছে দেয়ার জন্য। রাসুলুল্লাহর নির্দেশ পেয়ে অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সেখান থেকেই দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েন এবং আমৃত্যু দীনের মেহনত করে পুরো বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করে যান। তাঁদের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত দেড় হাজার বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ভাটা পড়েনি দাওয়াতি এ মিশনের। উল্লেখিত এ সময়ে আল্লাহর অনেক প্রিয় ও নির্বাচিত বান্দাগণ দীন প্রচারের কাজে নিজেদের জীবন আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত আপন স্ত্রী সন্তান থেকে দীনকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে মানুষের হিদায়তের জন্য কাজ করে যান। তাদের তালিকা এত দীর্ঘ যে, এর জন্য বিরাট আকারের পুস্তিকার প্রয়োজন। তন্মধ্যে অন্যতম একজন হলেন, রাসূলের বংশধর বৃটিশ খেদাও আন্দোলনের বীর সেনানী শাইখুল আরব ওয়াল আজম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ: এর সুযোগ্য সন্তান ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.।
জন্ম : তিনি ৪ঠা জিকা’দা ১৩৪৬ হি. মোতাবেক ২৭শে এপ্রিল ১৯২৮ ইং সনে হিন্দুস্তানের মুরাদাবাদ জিলার বাছরায়ু নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা : তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ও তরবীয়ত আপন পিতা-মাতা থেকে গ্রহণ করেন এবং হযরত মাওলানা কারী আসগর আলী সাহপুরী রহ. থেকে নীচের ক্লাশের কিতাবাদির অধ্যয়ন সম্পন্ন করে ১৩৬১ হি. সনে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং ১৩৬৮ হি. সনে সেখান থেকে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন বড় কৃতিত্বের সাথে। তাঁর উস্তাদগণের মধ্য হতে শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ., হযরত মাওলানা এজাজ আলী রহ. আল্লামা ইবরাহীম বালয়াবী রহ. ক্বারী তৈয়্যব সাহেব রহ., হযরত মাওলানা ইদরীস কান্দলবী রহ. উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি মদীনা শরীফে অবস্থানের উদ্দেশ্যে হিন্দুস্থান ত্যাগ করেন। কয়েক বছর সেখানে কাটিয়ে পুনরায় হিন্দুস্তানে এসে ১৩৭০ হি. সনে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৩৮২ হি. সন পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষকতার দায়িত্ব অত্যন্ত সুনামের সাথে পালন করেন।
কিন্তু আল্লাহ যেহেতু তাঁর এ বান্দা থেকে হিন্দুস্তান ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীনের বহুমুখী খেদমতে নিবেন, এজন্য তাঁকে শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে দীনের অন্য খেদমতের দিকে মনোনিবেশ করান। ফলশ্রুতিতে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ এর উত্তর প্রদেশের প্রধান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৬৩ ইং সনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি যে পরিমাণ পরিশ্রম ও সাধনা করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করেছেন তার বিবরণ এত দীর্ঘ যে এ প্রবন্ধে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়টি পরিষ্কার যে তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর দলে এক নবজাগরণের সৃষ্টি হয়। অতঃপর ১৯৭২ ইং সনে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান নির্বাচন করা হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। পাশাপাশি তিনি এ সময়ে বেশ কয়েকবার ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টে রাজ্য সভার সদস্যও ছিলেন। তিন মেয়াদে ১৮ বছর ভারতের সংসদ সদস্য ছিলেন। বড় বড় দাঙ্গা বন্ধ করেছেন, ইসলাম ও মুসলমানদের অনেক কাজ করেছেন। হযরত ফিদায়ে মিল্লাত রহ. তাঁর দীনি কাজের পরিধি শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে সীমাবদ্ধ রেখেছেন তা নয় বরং তিনি দীনি কাজ বিস্তৃত করেছেন সারা বিশ্বে। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুবার সফর করেছেন এবং সেখানকার লোকদেরকে দীনের উপর চলতে এবং তাদের সন্তানদেরকে দীন শিখানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। দীনের কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এত স্পষ্ট হতো যে তিনি সত্য বলতে কখনো কারো পরওয়া করতেন না বরং যা সঠিক ও উপকারী তা নির্দ্বিধায় বলে যেতেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে তিনি সেখানকার মুসলমানদেরকে প্রতিটি শহরে ইসলামী স্কুল চালু করার পরামর্শ দিতেন। সেখানকার এক মজলিসে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এ কথা ঘোষণা দেন যে, ‘যদি এদেশে অবস্থানরত অবস্থায় তোমাদের ঈমানের সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে অথবা যদি তোমাদের সন্তানেরা দীন থেকে দূরে সরে যায় তাহলে তোমাদের জন্য এ সকল দেশে অবস্থান করা হারাম এবং তোমাদের জন্য হিজরত করা ফরজ।’
ফিদায়ে মিল্লাত রহ. এর বাংলাদেশ প্রীতি : শাইখুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ: এর দীর্ঘদিন স্বপরিবারে সিলেট অবস্থানের ফলে মাদানী পরিবারে বাংলাদেশের প্রতি এক ধরনের আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। যার কারণে পরবর্তীতে মাদানী পরিবার হিন্দুস্তানে চলে যাবার পরও বাংলাদেশে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতেন। ফিদায়ে মিল্লাত রহ: এর বড় সাহেবজাদা হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী দা: রা: বলেন ইউরোপ আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশে হযরত সহসাই সফরের সম্মতি জ্ঞাপন করতেন না। কিন্তু বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে তিনি নিজে আমাদের উদ্বুদ্ধ করতেন। যদি আমরা কখনো বাংলাদেশে তিন দিনের সফরের কথা বলতাম তবে তিনি আমাদেরকে কমপক্ষে এক সপ্তাহের প্রস্তুতির কথা বলতেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়েও তাঁর বড় অবদান রয়েছে।
উম্মতের প্রতি ফিদায়ে মিল্লাতের দরদ : হযরত ফিদায়ে মিল্লাত রহ: সর্বদা উম্মতের চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। উম্মতে মুসলিমার সুখ-শান্তি ও সফলতার জন্য তিনি দেশের পর দেশ ছুটে বেড়িয়েছেন। ইউরোপ, আমেরিকা ও লন্ডনের প্রচন্ড ঠান্ডা, আরবের মরুভূমির প্রচন্ড গরম, পাকিস্তানের প্রতিকূল পরিবেশ বাংলাদেশের বন্যাসহ কোন পরিবেশই হযরতকে সফর থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এজন্য হিন্দুস্তানের শত শত দাঙ্গা, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলীদের হামলা, বাংলাদেশে এনজিও মিশনারীদের অপতৎপরতাসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।
হযরত ফিদায়ে মিল্লাত রহ. বাংলাদেশ সফরের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল এদেশের জনগণ বিশেষ করে উলামায়ে কেরামকে খ্রিস্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন করা। এদেশে খ্রিস্টানদের অপতৎপরতা হযরতকে ভাবিয়ে তুলেছিল। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে খ্রিস্টানদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পঞ্চাশ লক্ষে। অথচ গুরুতর এ বিষয়টি সম্পর্কে তৎকালীন উলামায়ে কেরাম ছিলেন সম্পূর্ণ অনবহিত। এজন্য এ বিষয়ে সকলকে সচেতন করার জন্য ১৯৯৭ ইং সনের রমযান মাসে হযরত বাংলাদেশে ইতিকাফ করার নিয়ত করেন এবং ঢাকার চৌধুরী পাড়া মাদরাসা মসজিদে ইতিকাফ করেন। হযরতের সাথে দুই হাজার দেশি-বিদেশী মেহমান ইতিকাফ করেন। সে সময় তিনি পার্শ্ববর্তী মালিবাগ মাদরাসায় উলামায়ে কেরামকে একত্রিত করেন, প্রায় এক হাজার উলামায়ে কেরাম তার ডাকে সাড়া দিয়ে একত্রিত হন। সেখানে তিনি উলামায়ে কেরামদেরকে খ্রিস্টানদের অপতৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সক্রিয়ভাবে মুসলমানদেরকে সতর্ক করা ও তাদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করার আহবান জানান। আমিও সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ফিদায়ে মিল্লত রহ. বাংলাদেশে এসে এখানকার মুসলমানদের ঈমান আমল রক্ষা করার বিষয়ে কাজ করেন।
আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মকান্ড : রাজনীতির মাঠে হযরতের পদচারণা এবং বাতিলের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকার সাথে সাথে তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রেও ফিদায়ে মিল্লাত রহ. এর ছিল বড় অবদান। তিনি ১৩৬৮ হিঃ রমজান মাসে স্বীয় পিতা শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর হাতে বাইয়াত হন। পিতার সান্নিধ্যে থেকে তাসাউফ ও সুলূকের সকল স্তরে উন্নীত হন এবং বাতেনী ইলম অর্জনে ধন্য হন। ১৩৬৩ হিজরীতে শাইখুল ইসলাম রহ. এলাহাবাদ জেলে থাকাকালে চিঠি মারফত নির্দেশ প্রদান করে ফিদায়ে মিল্লাতকে গাঙ্গুহ পাঠান। এছাড়া সুলূক ও তাসাউফে আরো তরক্কী ও উন্নতির জন্য হযরতকে লোহারীতে অবস্থিত মিয়াজী নুর মুহাম্মদ ঝানঝানভীর রহ. হোজরাখানায়ও চিল্লা করিয়ে ছিলেন।
শরীয়ত ও সুন্নতের শতভাগ পাবন্দির পাশাপাশি তিনি নিজ পিতার ফুয়ুজ ও বারাকাতর গহীন সমুদ্রে বিচরণ করেছিলেন। শাইখুল ইসলামের জীবদ্দশায়ই বেশ কিছু ঘটনা ও চিঠিতে ফিদায়ে মিল্লাত এজাযতের যোগ্য ছিলেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যা মৌন ইজাজত বলে বুঝা যায়। পিতার ইন্তেকালের (১৯৫৭ ইং) পরপরই শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহ. ফিদায়ে মিল্লাতকে খিলাফত প্রদান করেন। এছাড়া হযরত মাওলানা আব্দুল কাদির রায়পুরী রহ. এবং শাইখুল ইসলামের সকল খলীফা ঐক্যমত্য হয়ে ফিদায়ে মিল্লাতকে ‘ইজাজতে বায়আত’ প্রদান করে শাইখুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত করেন।
ফিদায়ে মিল্লাতের হাতে লক্ষ লক্ষ লোক বাইআত গ্রহণ করে। তিনি প্রায় তিনশত ব্যক্তিকে বাইয়াত করার অনুমতি প্রদান করেন। এনালায়েকরেও হযরত ঢাকা চৌধুরী পাড়া মাদ্রাসা মসজিদে এতেকাফরত অবস্থায় ১৯৯৭ ইং সনে বাইআতের অনুমতি প্রদান করেন।
বিবাহ : ছাত্র জীবনে ১৩৬৩ হি. সনে তিনি আপন চাচা হযরত মাওলানা সাইয়িদ আহমদ রহ. এর কন্যাকে বিবাহ করেন। এ সংসারে তাঁর আহমদ আসাদ নামে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৭০ হি. সনে সেই স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহ করেন দ্বিতীয় স্ত্রী থেকে তাঁর নয় ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
ইন্তেকাল : হযরত ফিদায়ে মিল্লাত রহ. ৭ই মুহররম ১৪২৭ হি. মোতাবেক ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০০৬ ইং সনে হিন্দুস্তানে চিকিৎসারত অবস্থায় এ্যাপেলো হাসপাতালে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ যিকির করতে করতে মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে পরজগতে চলে যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
৮ই মুহাররম ১৪২৭ হি. মোতাবেক ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০০৬ ইং দারুল উলুম দেওবন্দে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে ইমামতি করেন শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ. এর সুযোগ্য সন্তান হযরত মাওলানা তালহা সাহেব দা. বা.। জানাজা শেষে মাকবারায়ে কাশেমীতে হযরত শাইখুল হিন্দ ও শাইখুল ইসলামের (রহ:) কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। জানাযাস্থল থেকে কবরস্থানের দূরত্ব পাঁচ মিনিটের রাস্তা। কিন্তু লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুসারী ও শুভাকাঙ্খীদের ভিড়ে সেই রাস্তা পাড়ি দিতে প্রায় দুই ঘন্টা লেগে যায়। কবরস্থানে পৌঁছার পর তাঁর ছোট ভাই মাওলানা আরশাদ মাদানী ঘোষণা করেন, শুধুমাত্র কুরআনের হাফেজগণই হযরতের দেহ মোবারক দাফন করবেন। সেই অনুযায়ী তিনি নিজে এবং সাহেবজাদাগণ ভাগিনা মাওলানা সালমান মনসুরপুরী হযরত ফিদায়ে মিল্লাতকে চিরদিনের জন্য অন্তিম শয়নে শায়িত করেন।
আল্লাহতায়ালা তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং আমাদেরকে তাঁর অনুকরণে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT