ধর্ম ও জীবন

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০১৮ ইং ২৩:৫৭:০৪ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
হুদায়বিয়ার ঘটনার ন্যায় শত্রু কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার অবস্থাকে উক্ত বিধির ব্যতিক্রম বলে উল্লেক করার পেছনে যে মহৎ উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে, সেটি হলো কাজটিকে সহজ করে দেয়া। হজ্জ ও ওমরার নির্ধারিত আচার অনুষ্ঠানগুলোর প্রথম উদ্দেশ্য তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দীপনার সঞ্চার এবং ফরয এবাদাতগুলো যথাযথভাবে আদায় করা। এটা যখন সম্পন্ন হয়েছে এবং অতপর শত্রু, রোগব্যধি ইত্যাদির কারণে পথিমধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তখন হজ্জ ও ওমরাকারীকে তার হজ্জ বা ওমরার সওয়াব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ধরে নিতে হবে যে, সে যেন তা সম্পন্ন করেছে। তার কাছে যে জন্তুই থাকে, তা কুরবানী করে দিয়ে এহরাম মুক্ত হতে পারবে। সহজীকরনের এই নীতি ইসলামের মূল প্রাণশক্তি, এবাদাতের উদ্দেশ্য ও যাবতীয় আচার অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
প্রথম সাধারণ আদেশ থেকে, এই ব্যতিক্রমমূলক বিধি ঘোষণা করার পর আয়াতের পরবর্তী অংশে হজ্জ ও ওমরার নতুন বিধি ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘কুরবানী যথাস্থানে পৌঁছে যাওয়ার আগে তোমরা মাথা কামিও না।’
এই নিষেধাজ্ঞা সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য, যখন হজ্জ ও ওমরা সম্পন্ন করা হয় এবং এ ব্যাপারে কোনো বাধা বিপত্তি দেখা দেয় না। এক্ষেত্রে কুরবানী যথাস্থানে পৌঁছে যাওয়ার অর্থাৎ কুরবানীর জন্তু তার জবাইয়ের সানে মিনায় পৌঁছে যাওয়ার আগে মাথা কামানো যাবে না। কেননা মাথা মুন্ডানো হচ্ছে হজ্জ বা ওমরা বা উভয়টির এহরাম থেকে অব্যাহতি লাভের সংকেত।
৯ জিলহজ্জ আরাফার ময়দানে অবস্থান ও সেখান থেকে বিদায় হয়ে যাওয়ার পর দশ তারিখে মিনায় কুরবানী করতে হয়। এই কুরবানীর পরই এহরাম শেষ হয়ে যায়। মিনায় কুরবানীর জন্তু পৌঁছার আগে চুল ছাঁটা বা কামানোর কোনো অবকাশ নেই, তাই তার আগ পর্যন্ত এহরামও যথারীতি বহাল থাকবে।
কিন্তু এই সাধারণ নিষেধাজ্ঞারও ব্যতিক্রম আছে। সেটি হচ্ছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রুগ্ন থাকবে কিংবা তার মাথায় যন্ত্রণা থাকবে, (এবং সে জন্যে মাথা কামিয়ে ফেলে) তার ফিদিয়া হিসাবে রোযা রাখা অথবা সদকা দেয়া অথবা কুরবানী করা উচিত।’
বস্তুত কোনো রোগব্যধির জন্যে যদি মাথা কামানোর প্রয়োজন পড়ে, কিংবা চুল লম্বা হয়ে গেলে ও না আঁচড়ালে তাতে উকুন ইত্যাদি জন্মে কষ্টকর অবস্থার সৃষ্টি করে, তাহলে এহরামে সময় কুরবানীর যে জন্তু সাথে নিয়েছিলো তা তার জবাইয়ের স্থানে পৌঁছার আগে এবং হজ্জের সকল কাজ সমাধা করার আগে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে মাথা কামানো জায়েয হবে। কেননা ইসলাম উদারতার ব্যবস্থা।
তবে এই মাথা মুন্ডানোর জন্যে ফিদিয়া দিতে হবে। ফিদিয়া হলো ততোদিন রোযা রাখা, অথবা ছয়জন দরিদ্র লোককে এক ওয়াক্ত খাওয়ানোর মাধ্যমে (অথবা সেই পরিমাণ অর্থ) সদকা প্রদান অথবা একটি ছাগল যবাই করে তা বণ্টন করা। এই বিকল্প পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ একটি হাদিস থেকে পাওয়া যায়। বোখারি শরীফে উদ্বৃত এই হাদিসে হযরত কা’ব বিন আজরা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূল (সা.) এর কাছে গেলাম। তখন আমার মুখমন্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিলো। তা দেখে রাসূল (সা.) বললেন, ‘আমি যে অবস্থা দেখছি তা এই যে, এই উকুন তোমাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছে। তুমি একটা ছাগল সংগ্রহ করতে পারো না? আমি বললাম, না, তিনি বললেন, তাহলে তিন দিন রোযা রাখো, অথবা ছয়জন মেসকিনকে মাথা প্রতি আধা সা’ খাবার দাও এবং মাথা কামিয়ে ফেল।’ এরপর হজ্জ ও ওমরা সম্পর্কে একটা নতুন সাধারণ বিধি ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘এরপর যখন তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে, তখন তোমাদের যে ব্যক্তি হজ্জের সময় আসা পর্যন্ত ওমরার সুযোগ গ্রহণ করবে, সে যেন নিজের সামর্থ অনুসারে কুরবানী দেয়।’
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT