সম্পাদকীয়

ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০২-২০১৮ ইং ০১:০২:৩৩ | সংবাদটি ১৪৫ বার পঠিত

গত সপ্তাহেই ঘটে গেলো মৃদু  ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন স্থানে। এতে  অবশ্য কোন ক্ষয়ক্ষতির  ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রায় সময়ই হচ্ছে ভূমিকম্প-মৃদু কিংবা মাঝারী ধরণের। এই ভূমিকম্প শেষ নয়। আগামীতেও হবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে দেশে ভয়াবহ  ভূমিকম্প হওয়ারও আশংকা  রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ   ভূমিকম্প প্রবণ বলয়ের মধ্যে অবস্থিত। অতীতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভূমিকম্প   সংঘটিত হয়েছে দেশে। যা অনেক এলাকায় ভৌগলিক পরিবর্তনও  ঘটিয়েছে। জনসম্পদের ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। ভূমিকম্প ঠেকানো যাবে না। তবে এ ব্যাপারে  সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। যাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায় অনেকটাই।
বিভিন্ন  সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে   জানা যায়, ১৯৩৫ সালে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইঞ্জিয়া’র  মাধ্যমে সিসমিক জোনিং  ম্যাপ  প্রণয়ন করা হয় এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ অনুরূপ আরেকটি মানচিত্র তৈরী করে। যার মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি হিসেবে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। তিনটি অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো সিলেট-ময়মনসিংহের বৃহদাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকা। কম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। বর্তমানে যে ভূ- খন্ডে বাংলাদেশ অবস্থান করছে সেই ভূ-ভাগে অষ্টাদশ  শতাব্দীতে দু’বার এবং ১৯১৮ সালে একবার বড় ধরণের ভূমিকম্প সংঘটিত  হয়। দীর্ঘ  বিরতির পর  ১৯৬০ সালের পর থেকে দেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা  বাড়তে  শুরু করে । বর্তমান শতাব্দীতে এই প্রবণতা  আরও বেড়েছে।   
এই সব কিছু পরে, আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে সামনে। দেশের ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সম্প্রতিকালে ঘন  ঘন মৃদু ও মাঝারী মাত্রার ভূমিকম্প ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আভাস  দিচ্ছে। তাদের মতে, ভূমিকম্প ফিরে আসে। মূলতঃ ভূতাত্ত্বিক-চ্যুতিগুলো  সক্রিয়  হয়ে ওঠায় এই সব ভূমিকম্প ফিরে আসে। বেঙ্গল আর্থকোয়েক নামে পরিচিত ১৮৮৫ সালে রিখটার  স্কেলে  সাত মাত্রায় একটি ভূমিকম্প  হয়েছিলো ধলেশ্বরী চ্যুতির কারণে। আবারও একই অঞ্চলে ১৩০ বছর পর বড় ধরণের ভূমিকম্প হতে পারে।  এ সম্ভাবনা  ৯৫ ভাগ। এছাড়া ১৭৭৬ সালে  সংঘটিত বেঙ্গল আরাকান ভূমিকম্পের প্রত্যাবর্তনের সময় ২৫০ বছর অথাৎ ২০১২ সাল। তারপরেও ভূমিকম্প কোথায় কীভাবে আঘাত হানবে সেটা আগে থেকে অবগত হওয়া কঠিন। সে কারণে এই দুর্যোগ সম্পর্কে  জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সবচেয়ে জরুরী ।
ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে রয়েছে বাংলাদেশ। কিছু কিছু এলাকা রয়েছে ভয়াবহ ঝুকির মধ্যে।  এই  অঞ্চলের  মধ্যে রয়েছে সিলেটও। কিন্তু সিলেটসহ ঝুকিপূর্ণ অন্যান্য  এলাকায় ভূমিকম্প-ঝুকিকে মাথায় না রেখে তৈরী করা হচ্ছে সুউচ্চ ভবন-অট্টালিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন শহরে নির্মিত বেশীরভাগ  ভবনই  মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প বহন যোগ্য নয়। এইরূপ  ক্ষেত্রে  ভূমিকম্পের দুর্যোগ এসে পড়লে জীবন ও সম্পদের  বিপুল ক্ষতির সমূহ  সম্ভাবনা। তাই ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতা সবচেয়ে  জরুরী। বিশেষ করে, ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্পের বিষয়টি  মাথায় রেখেই  নক্সা তৈরী করা উচিত। ভবন নির্মাণের  সময় সরকার প্রণীত  বিল্ডিং  কোড যাতে অনুসরণ করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।  সংশ্লিষ্ট ডিজাইনার,  প্রকৌশলী ও স্থপতিদের  এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ  প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করার ওপর বাধ্য-বাধকতা  আরোপ করা যেতে পারে।  সর্বসাধারণকেও ভূমিকম্পের ব্যাপারে সর্বাত্মক সচেতন হতে হবে।  

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT