সম্পাদকীয়

পাহাড়-টিলায় ফসল চাষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৮ ইং ০০:৫৫:১৯ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত


ধংস করা হচ্ছে পাহাড়-টিলা উজাড় করা হচ্ছে বনাঞ্চল, বিনষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এইসব ঘটনা ঘটছে সুদূর অতীত থেকে। পরিবেশবিদসহ কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ এসব নিয়ে ভাবছেন। পরিবেশ বিধ্বংসী এইসব কর্মকা- রোধের দায়িত্ব যাদের, তারা নীরবতা পালন করছে। তবে এক্ষেত্রে একটা সুসংবাদ হলো, পাহাড়ে ফসল চাষ করা সম্ভব। দেশে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ানোই মূল বিষয়। যে কারণে দেশের অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাহাড় টিলায়ও ফসল চাষ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত দিয়েছেন। তবে এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধ করতে হবে।
আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। কমছে ফসল উৎপাদন। বর্তমানে যে হারে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে সেটা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরে দেশে কোনো আবাদি জমি থাকবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে। সুতরাং আবাদি জমির পরিমাণ যাতে বাড়ানো যায় সেই পরিকল্পনাই গ্রহণ করতে হবে। এই আলোকে পাহাড়ি জমিতে ফসল চাষের পরিকল্পনা নেয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু কিছু পাহাড়ি এলাকায় বর্তমানে ফসল চাষও করা হচ্ছে। দেশের আবাদি জমি এক লাখ ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটারের মধ্যে এক দশমাংশ হচ্ছে পাহাড়ি জমি। এই জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিবেশ সম্মত উপায়ে মাল্টিপল ভিত্তিতে চাষাবাদ করলে দেশে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
আমাদের আবাদি জমির বেশির ভাগই সমতল বা হাওর এলাকায় অবস্থিত। বিভিন্ন মওসুমে বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপন্ন হয় এসব জমিতে। প্রধান উৎপাদিত ফসল হচ্ছে ধান। এছাড়া, জমিতে নানা জাতের শাকসবজি-ফলমূলও চাষ করা হয়। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনে সকল মওসুমের ফসলেরই অবদান রয়েছে। অথচ এই আবাদি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে নানা কারণে। এ জন্য জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবতেই হবে। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
পাহাড়ি জমিতে অনেক ধরনের ফসলের চাষ করা যায় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে উদ্যান তাত্ত্বিক ফসল চাষ করা যায়। বিশেষ করে আনারস, আম, পেয়ারা, জলপাই, কলা, পেঁপের মতো অর্থকরি ফলমূল-সবজি চাষ করা যায়। পাহাড়ি ঢালু জমিতে আদা-হলুদের মতো মসলা জাতীয় ফসলও চাষ করা যায়। এছাড়া, পাহাড়-টিলায় বিভিন্ন ধরনের ধান চাষ করা যায় কি-না সেটাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। সিলেট অঞ্চলে রয়েছে প্রচুর পাহাড়-টিলা। এগুলোর পুরোটাই রয়ে গেছে অনাবাদি। এগুলোর অনেকটাই ঝোপঝাড় জঙ্গলে আবার অনেকটা সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত। এই পাহাড়-টিলাগুলোতে লাগানো যায় বিভিন্ন ধরনের গাছ-পালা-ফলমূল-সবজি। পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধ করে এগুলোতে ফসল চাষের উদ্যোগ নেবে সরকার, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।    

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT