সাহিত্য

দাগ

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৮ ইং ০১:০৬:৪৫ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

আজ আকাশের শরীরে যেনো খাবলা মেরেছে কেউ। শরীরে আজ লাল লাল দাগে নখের আঁচড়। ক’দিন থেকেই হঙ্কার বেড়েছে তার। যেনো অঘুমো মানুষদের ভয় দেখাতে ব্যস্ত। শরীরে বিদ্যুতের ঝলক আছে শুধু মাটি বৃষ্টিহীন। হয়তো কেঁদে উঠবে ভোরের আলোয়। এমন দিনে ঘুম আসে না। তাছাড়া ঘুম রাত্রিতে কারো উঁকিঝুঁকি অশান্ত করে তোলে মন। আজকেও বড় অশান্ত মন সাগরের। জীবন নাটকে বড় একাই তার বসবাস। বড় সঙ্গহীন জীবন। এমন রাত্রিতে সে প্রবলভাবে চায় কেউ একজন জীবনে আসুক। একজন কাছের মানুষ চাওয়া মন্দহীন। এ রকম ভাবনায় শিখার কথাই মনে পড়ে তার। সমহারী গড়ন। টিকালো নাক। চকচকে আঙটি পাথর দাঁত। বিদ্যায় গরিয়সী। চলায় আধুনিক। বলায় মনোহারী। গানে সাধানো গলা। লেখায় চলোচঞ্চল। অনন্যা। শিখাকে কেনো জানি খুব ভালো লাগে তার।
বন্ধুর সেই গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটিই ছিলো তার জন্য আশির্বাদ। ঐদিন শিখা গাইছিলো আর কেনো জানি চোখে খুঁটে খুঁটে পরখ করছিলো সাগরের মন। সেখান থেকে চার চোখের সঙ্গমে অনন্য গান বেরিয়েছিলো শিখার গলায়।
এই মুহূর্তেও মনটাও চায় এরকম মনোহারী গলায় যাক না গেয়ে- হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো....।
তাই মোবাইলটি হাতে নেয় সাগর। কিন্তু হঠাৎ করে কি ই বা বলা যায়? তার মনে পড়ে যায় তন্বির দেওয়া টিকিটের কথা। শার্টের পকেটে হাত দিয়েই চিৎকার করে বলে ইউরেকা! দুটি টিকিটে দুইজন অনায়াসেই যাওয়া যায়।
-হ্যালো, আমি সাগর বলছি। আপনি কি শিখা বলছিলেন?
- জি। হঠাৎ ফোন করলেন যে?
-ফোন করার জন্য নাম্বার কিন্তু আপনিই দিয়েছিলেন।
এবার পেট ভরে হাসি আসে শিখার।
-না মানে.... ইয়ে.... বলেই হাসিতে ঝড় আনে! তার হাসিটাই কেমন জানি আকাশ বিজলীর সাথেই মিলে মিলে যায়।
সাগরের কাছেও মনে হয়-সে যেনো ঝরে যায়, পড়ে যায় সব কিছু সব। প্রাণে বান ডাকা হাসি বেশ লাগে সাগরের। তাই শিখার সাথে সাগরও হাসিতে নিজেকে মেলায়।
-কি ঘুমিয়ে ছিলেন? ডিস্টার্ভ করলাম নাতো?
-কই নাতো, ঘুমুতে যাচ্ছিলাম আর কি। এবার বলুন, হঠাৎ স্মরণ করলেন যে?
-ঘুম আসছিলো না।
-ও মা, তা ই? ঘুম না এলে কি ফোন দিতে হয়?
-রাগ করলেন?
-আরে না। আমারও তো আসছিলো না। কেনো জানি কারো একজনের কথা মনে হচ্ছিলো বার বার। ঝড়ের রাত্রিতে যা হয় আর কি?
-সেই সৌভাগ্যজন কে, জানতে পারি? অবশ্য যদি আপত্তি না থাকে...!
-ছি:! ওসব মুখে বলতে হয় নাকি? আমি কিন্তু বলতে পারবো না।
-কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। বুঝে নিলাম। মুক্ত করে দিলাম, মনের বলাকা।
-কেনো? মুক্ত করলেন কেনো?
-হা হা হা! হাসে সাগর। হাসির সাথে সুর মিলিয়ে বলে শিখা;
-আমিতো ভেবেছি ধরেছেন। সে যাগগে হঠাৎ ফোন পাওয়ার হেতুটা জানতে পারি?
-নিশ্চয় জানেন, কাল একটি বিকাল বসবে এমসি কলেজের খোলা মাঠে। ক্লাসিক্যাল গুরু নিয়াজ আসছেন। আসুন না, বসে বসে শোনা হোক নিয়াজের গান। ঐ যে-
‘জীবনানন্দ হয়ে সংসারে আজো আমি
সবকিছু ভুলে যেন করি লেন দেন
তুমিওতো বেশ আছো, ভালোই আছো
কবিতায় পড়া সেই বনলতা সেন....’।।
গানটি এক নি:শ্বাসে শেষ করেই সাগর শুনায়
-ঠিকঠাক ৩ টায় আসবেন কিন্তু।
-ও মা! এই গানটিতো আমিও ফাংশনে গাই। বেশ শুনালেন কিন্তু। বাহ্! আমি মুগ্ধ। আপনার আরেকটি প্রতিভা জানা গেলো।
-আপনি কিন্তু বাড়িয়ে বলছেন। আমি লজ্জা পাচ্ছি....
-লজ্জা পাওয়ার কি আছে? যা সত্যি তাই বললাম।
-তা ই? ধন্যবাদ।
-বাদ দেন পামের কথা। এবার আসল কথায় আসুন।
-নিয়াজ আসছেন ভালো কথা, আপনি আসছেনতো?
-আপনি থাকলে আসতে পারি সাগর।
আবারও সেই হাসি। এবার যেনো সাগরের বুকেই আছড়ে পিছড়ে পড়ছে সামুদ্রিক নোনা ঝড়!
-থাকবো বলেইতো আসতে বলেছি শিখা।
শিখা ভাবতেই পারছে না এমন আঁড়ালেপনা মানুষটি খাঁচার দোয়ার খুলে দিয়ে নিমন্ত্রণইবা দিচ্ছে কেনো। কেনোইবা এমন আবাহন? এমনটিতো গত নিদান কালেও হয়ে ওঠেনি।
যেদিন থেকে সাগরের সাথে পরিচয় সেদিন থেকেই শিখার কাছে মনে হতো-সাগর এক গুরুগম্ভীর মানুষ। মাছ খায়-উল্টাতে জানে না। চোখের ওপর চোখ রাখে না। মনের সাথে মন বাঁধে না। বরং চোখের ওপর চোখ পড়লেই সরিয়ে নেয়। কোকিলের মতোই চলে আঁড়ালে আবডালে। আবার আঁড়াল থেকে চোখ পড়তে জানে। এভাবেই শিখার চোখ পড়ে নেয়। সে কি না আজ শিখাকে কাছে ডাকতে পারে। ভাবতে পারে না শিখা।
পরদিন ঠিক ৩ টায় হাজিরা দিলো শিখা। কিন্তু এ কি! যেখানে গান শুনার কথা সেখানে চষে বেড়াচ্ছে গরু, যেখানে দর্শক থাকার কথা সেখানে আনন্দে মেতে আছে পোষা টেপিহাঁস। স্টেজের কোন নাম নিশানা নেই। শিখার চোখ অপার শূন্যতায় পাক খেতে থাকে। রাগ হয় শিখার। দূর ছাঁই! কি থেকে কি শুনেছি....। দেখি না ফোন করে।
মুঠোফোনটি হাতে নিয়ে ফোন দেয়-
-হ্যালো। কোথায় আপনি?
না। হ্যালো শব্দটি বাতাসে পৌঁছার আগেই লুফে নেয় সাগর। বলে;
-আরে আপনি ঐখানে কেনো? দেখেন নি রাতের বৃষ্টিতে থৈ থৈ মাঠ। ওখানে আর অনুষ্ঠান হবে না। অনিবার্য কারণে বন্ধ হয়েছে অনুষ্ঠান।
-কেনো, আজকের নিউজ পেপার পড়েননি?
-না এখনো পড়া হয়নি। ফেইসবুকও খুলিনি।
-ও আচ্ছা, ঠিক আছে।
তার চেয়ে চলে আসুন বালুচর-শিল্পকলায় বসি। আজ ওখানেও অনুষ্ঠান। বাউল গান। শিল্পীরা এসে গেছেন। চলে আসুন, আমি গেট থেকেই রিসিপ করছি আপনাকে। এবার সাগরের কথায় সায় দেওয়া ছাড়া শিখার পথ খোলা নেই। সাগরের আহ্বান বলে কথা!
শিল্পকলামুখি যেতে বলে নিজেকে রিকশায় ছড়িয়ে দিয়ে শতভাবনায় গেটভেড়া রিকশা থেকেই শিখা দেখতে পায়-অপেক্ষার পাঁয়চারিতে সাগর। ঘাঢ় নীল জিন্স পেন্টের সাথে লাল টি শার্ট পরে গেইটের এপার ওপারে বসিয়ে রেখেছে চোখের পাহারা-কবে মিস করে বসে শিখার আগমন।
এবার একটু উঁকি দিতেই চোখে পড়ে লালপেড়ে সাদা শাড়ি। কপালে লাল টিপ একেবারে সাদাসিধা অন্য আরেক শিখাকে। এ যেনো সাগরের কাছে অন্যথা ব্যতিক্রম। গত পহেলা বৈশাখেতো এরকম ছিলো না শিখার শরীর। ছিলো জামা পায়জামার সাথে মেচিং পোশাক।
-কি, এতোক্ষণে আসা হলো? চলুন সীট রাখা আছে।
কি আর করা-সাগরের পিছু পিছু অগত্যাই হাঁটতে হয় শিখার। কিন্তু শিল্পকলায় ঢুকেই শরৎ আকাশপুচ্ছ মেঘমালা জারের মতো উড়ে উড়ে পার হতে থাকলো শিখার রাগ বিকুলি। শিকার ধারণা ছিলো এসব বাউলা গানে দর্শকের টান থাকে না বেশি। কিন্তু এতো দেখি কানায় কানায় পরিপূর্ণ শিল্পকলার শরীর। মাথার ওপরও দাঁড়িয়ে দর্শকের ঘাড় মাথা। বাউলা গানে এমন মনোরম পরিবেশ আগে কোথাও দেখেছে বলে শিখার মনে হচ্ছে না। গান গেয়ে চলেছেন বাউল স¤্রাট আব্দুল করিমের ভাবশিষ্য রুহীঠাকুর-
‘বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে.....’
গান শুনে পাগলপারা মানুষ। ওয়ান মোর ওয়ান মোর করে মাতিয়ে তুলেছে হলরুম। এবার হলরুমে ডানপাশের দু’টি সীটে পাশাপাশি বসে দুজন। একজনের শরীরের ঘ্রাণ আরেকজন কে মোহবিষ্ট করে। আকুল করা যেনো বসন্ত বাতাসের সই! উড়ে উড়ে চুল পড়ে সাগরের চোখেমুখে। সাগর মনে মনে চোখ বুজে ফ্যানকে বলে সাবাশ মেটাল, সাবাশ। তুমুল কোলাহলের মধ্যেও যেনো দুজন একলা পাখি যুগল। সাগর হাততালি দিলে শিকা স্থির হয়ে যায়। শিখা সরব হলে সাগর নিরব। দুজনের বুকেই অজানা ঝড়। ঝড়ের আওয়াজ কেউ শুনে না। শুনে শুধু একলা এলাকা দুজন। সাগর আর শিখা। শিখা আর সাগর। এবার দুজনের নিরবতা ভেদ করে কথা বলে সাগর-
-কি, শিখা? ভাল্লাগে না?
-কেনো লাগবে না। খু উ ব।
এমন কথার মাঝখানে হাত ছুয়ে যায় শিকার। আৎকে ওঠে সাগর। যেনো জ্বলে উঠলো হাজার ভোল্টেজের আলোবাতি। নিজেকে সামনে শিখার হাতটি মুঠোর ভেতরে নেয়। আলতো করে চাপতে থাকে। যেনো প্যারালাইজড রোগীর ব্যায়ামের হাত। জ্বলতে থাকে শিখা। অনেক দিনের নেভানো আলোটাই যেনো জ্বালিয়ে দিলো সাগর। শিখার মাথা যেনো নিজস্ব নির্ভরতা খুঁজে। আহা! বুকটা যদি পেতে দিতো। সাগর! সে আলতো করে সাগরের বাম কাঁধে মাথাটা এলিয়ে দেয়। সাগর হলের নেভানো আলোয় আরো নির্ভর হয়ে ছোট্ট একটি চুমু দেয় শিখার উষ্ণ অথচ কামনার ঠোঁটে। কাঁপতে থাকে শিখা। কাঁপে সাগরের শরীর।
আজ ঠিক সন্ধ্যায় বের হলো দু’জন। সাগর তার ব্যবহৃত ১৫০ সিসি পালসার বাইকটি ১৫০ টাকায় ধুঁইয়ে রেখেছে বেরুবে বলে। গত রাত্রেই প্ল্যান করা ছিলো দুজনের। তাদের কোন গন্তব্য নেই। শুধু লংড্রাইভ ছাড়া তেমন কোনো কাজও নেই। আজ চায়। সাগর অনেক কিছুই চায়। শিখাও পায় জ্বলে জ্বলে ওঠার তাগিদ। এখন সাগরের চাওয়া উড়ে উড়ে পড়ে যাওয়া এলো চুলের হাওয়ায় বিনুনি করা মাথা। এ মাথা বড়ো আবেগের। বড় আদরের। শত কামনায় জড়ানো ভালোবাসার মাথা। সে মাথা হোক শিখার। শিখা জানুক, সে এলে সাগর চায় না আর কোনো কিছু! সাগর সুনসান রাস্তায় দুরন্ত হবে। কাঁধে বিছানো থাকবে শিখার পাতানো অপার নির্ভরতার মাথা। গত পহেলা বৈশাখ থেকেই এমন নির্ভরতা চায় সাগর। আজ তার মনোকামনার ইতি হয়েছে। প্রীতি দিয়েছে প্রাণজ শিখা। সে তার প্রাণজ পরম শিখাকে পেয়েছে। আজ তার চরম পাওয়ার দিন। তাই প্রিয় গানটিও গেয়ে যায়-
‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে
যেখানে নদী এসে থেমে গেছে
আবার এলো যে সন্ধ্যা, শুধু দু’জনে....।’
সাগর গান গায়। শিখা গলা মেলায়। এরকমই চলছে সাগরের ড্রাইভ।
এখন তারা রাত্রির ঘুটঘুটে অন্ধকারে হেড লাইটের আলোয় দেখে সামনের দুরন্ত পথ। টর্চের আলোয় বাড়ি ফেরা মানুষ আর পাশের ক্ষেত থেকে ওঠে আসা শেয়ালের ভুঁদৌড়। তাদের গন্তব্যহীন রাস্তায় শত শত গাছের সারি পেরিয়ে বিটুমিন রাস্তার উদরে দুইটি হৃদয় পরম স্বনির্ভর ছুটে চলে যেনো কোথাও থেকে শুনতে পায় আরো নির্ভরতার মন্ত্রপাঠ-
‘যদিদং হৃদয়ং তব তদিদং হৃদয়ং মম।’
শিখা সাগরের পেট পেছিয়ে ধরে মনের আনন্দে গান ধরে-
‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে, ফুলডোরে বাধা ঝুলনা
সেই স্মৃতিটুকু কভু খনে খনে যেন জাগে মনে, ভুলো না।।....’
সাগর যতোই গানের দিকে মনোযোগ দিতে চায় ততোই ক্লাস-এক্সিলেটর থেকে মনোযোগ ছিটকে যায়। তবুও গান শুনে শুনে শিখার কন্ঠে কন্ঠ মেলায়। পথ চলতে চলতে বাইকের গতি বাড়ে। মিটারের কাটা ও পায়ের ব্র্যাকের কথা ভুলে যায়। শিখাকে পালসারে নিলে এমনটি হয় তার। উড়– উড়– মনে উড়ো কিস এ আনন্দের হিল্লোল খেলে তার মনে। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আজ কেনো জানি মনে হয় পাশ ফিরলেই লাইভ কিস খেতে পারে সে। শিখার থুতনিটা এমন জায়গায় রাখা, ইচ্ছে করলেই হয়। আর সেই ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতেই ঘটে অনাকাক্সিক্ষত বিপত্তি। তুমুল আবেগে পাশ ফিরে যেই শিখার ঠোঁটে চুমু খেতে যাবে- অমনি অসামাল হয়ে পড়ে বাইক-ঠাস! ঝন্-ঝনাৎ! করে কয়েকটি শব্দ হয়। দু’জন দু’দিকে লুটিয়ে পড়ে। শিখা সাগরের মুখে একটি কথাই শুধু শুনে শি খা!
আইসিইউতে ৭২ ঘন্টা পরে চোখ খুলে শিখা। ডাক্তার জাহাঙ্গীর বলেছিলেন ৭২ ঘন্টার মধ্যে কিছুই বলতে পারবেন না। শুধু বলতে পারবেন-আপাতত ডান পা টি রাখা যাবে না। মাথায় প্রচুর হেমোরেজ এর ফলে রোগী সুস্থ হলেও কথা বলতে পারবে না।
এ রকম রোগী বাঁচানোই মুশকিল! বাদবাকি উপরওয়ালার ইচ্ছা। রোগীকে প্রচুর রেস্টে রাখতে হবে। এখন যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব যেনো দশব্যাগ ‘ও’ পজেটিভ জোগাড় করা হয়।
ডাক্তারের নিরন্তর চেষ্টার ফলে স্থায়ীভাবে চোখ খুলে শিখা। আজ পনের দিন হলো তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। অন্ধকার ঘরে পিট পিট করে জ্বলছে নিওন বাতি।
ডাক্তারের ভিড় এবং বাবার মুখ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না তার। বাবাকে আবছা মনে পড়লেও মুখটা কেমন জানি অচেনা লাগে। অচেনা ভিড়ের মাঝে কেনো মনে করতে পারে না। মনে করার চেষ্টা করলেও মনে আসে না। টপ টপ করে চোখের তপ্ত নুন ঝরে। বলতে পারে না কিছু। হয়তো চেতন আছে তার। হয়তো সাগরের মৃত্যুর কথা মনে আছে। অথবা নেই।।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT