সাহিত্য

মেয়েটি

মুহাম্মাদ রাইহান প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৮ ইং ০১:০৮:২৪ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

রোহিঙ্গা যে মেয়েটি টুকরো টুকরো হতে হতে, ছিন্নভিন্ন হতে হতে আশ্রয় নিয়েছে সীমান্তের সীমাবদ্ধতায়, তার হাতে তুলে দিন একটি তুলি।
রঙের দরকার নেই। রক্তের চে' উজ্জ্বল হতে পারে না কোনো রঙ।
সুযোগী পুরুষেরা পাশব কর্ষণে রক্তকে সূলভ করে রেখেছে তার মাতৃলজ্জায়।
মেয়েটি আঁকুক একটি গ্রামের গার্হস্থ্য।
স্মৃতিগুলো মলিন হওয়ার আগে এঁকে রাখুক একপ্রস্থ উদোম উঠোনের নির্জনতা,
মাচান বেয়ে উঠে-আসা লকলকে চালকুমড়োলতার বাড়াবাড়ি, উঠোনের কোণে পোকা-খাওয়া শস্যের সংগ্রহ।
এঁকে রাখুক নড়বড়ে খুঁটির মাথায় আটকে থাকা শতোচ্ছিদ্র চালের চিত্রাবলী,
স্যাঁতস্যাঁতে দেউড়িতে কৃশকায় বালকের হামাগুড়ি, প্রতিদিন লজ্জা তুলে রাখা একটি পুকুরের ধ্যান।
তাকে একটি তুলি দিন। ফুটিয়ে তুলুক তার ব্যক্তিগত পুরুষটির ঘরে ফেরার দৃশ্যাবলী,
অনাগত সন্তানের সৌরভ,
ঘরময় ছড়িয়ে থাকা যুবতীসূলভ আচরণ,
রমণীয় গুণে ধন্য করে-তোলা পাকশালার বাসনকোসন।
স্মৃতিগুলো ফিকে হওয়ার আগে এঁকে ফেলুক আরশে আযিম ছুঁতে-চাওয়া উপাসী আগুনের আস্ফালন, বোনকা-বোনকা ধোঁয়ায় ঢেকে-যাওয়া আকাশ,
পশুর দগ্ধ দেহ,
স্বপ্নের ছাইভস্ম।
হয়তো সেই গ্রাম দিয়ে বুক টানটান হেঁটে যাবে কোনো ব্যস্ত সড়ক।
হয়তো সেখানে হবে জমকালো নগর।
হয়তো সেখানে উদ্ধত ভঙিতে দাঁড়াবে কোনো অত্যাধুনিক শপিংমল।
মেয়েটি চাইলেও ফিরে পাবে না তার আজন্ম লালিত আশ্রয়ের ছিটেফোঁটো, শৈশবের শান্ত মানচিত্র।
অতএব, তার হাতে তুলে দিন একটি ক্যানভাস। মৃত্যুর আগে স্বহস্তে তুলে রাখুক তার জন্মভিটের জায়নামাজে জেগে ওঠা একটি অভিশপ্ত প্যাগোডার অবৈধ জন্মবিত্তান্ত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT