উপ সম্পাদকীয়

আবুল হাশিম খান বি.এ.বি.টি

অধ্যাপক মোঃ আহবাব খান প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০২-২০১৮ ইং ০০:১৮:৫৪ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

স্মরণ
আবুল হাশিম খান বি.এ.বি.টি ১৯০৩ সনের পহেলা ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী জামালপুর ‘খান’ বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার ‘বড় মাস্টার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। হাশিম খান সাহেব বি.এ পাস করার পর অনেক লোভনীয় সরকারি চাকুরি প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে মনে প্রাণে গ্রহণ করেন। বি.টি ট্রেনিং পাস করে বিয়ানীবাজার হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। দীর্ঘদিন বিয়ানীবাজারে শিক্ষকতা করার পর হবিগঞ্জ সরকারি হাইস্কুলে অনেক দিন শিক্ষকতা করার পর তার নিজের মহকুমা শহরের সুনামগঞ্জ সরকারি জুবলি হাইস্কুলে বদলি হয়ে আসেন। মরহুম আবুল হাশিম খান তার চাকুরি জীবনে অধিকাংশ সময় সুনামগঞ্জ সরকারি জুবলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি চলে আসেন তার জগন্নাথপুর থানাধীন জামালপুর গ্রামে। কিছুদিন অবসর থাকার পর খান সাহেবের ডাক পড়ে তিলক ও শাহাড়পাড়া গ্রামবাসীর। এই দুই গ্রাম মিলে তিলক গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী কাজী মোজাম্মিল সাহেবের আর্থিক সম্পাদনায় ‘তিলক শাহাড়পাড়া মোজাম্মিল কাজী জুনিয়র স্কুল’ স্থাপন করেন। আবুল হাশিম খানকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়, বড় মাস্টার হিসাবে খুশি মনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই স্কুলে পড়াশোনা করে অনেকে পরবর্তীতে ‘সচিব’ হয়েছেন। প্রায় ১০ বছর পর অর্থ প্রদানকারী মোজাম্মিল কাজী মারা যান, ফলশ্রুতিতে তিলক ও শাহারপাড়া গ্রামবাসী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, এ পর্যায়ে স্কুলটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। হাশিম খান সাহেব কষ্ট নিয়ে স্কুল ত্যাগ করে আবারো অবসরে চলে যান। ১৯৬৮ সালে বালাগঞ্জস্থ খাদিমপুর জুনিয়র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। খাদিমপুরবাসী এই স্কুলের দায়িত্ব হাশিম খানের উপর অর্পণ করতে চান। কিন্তু এ দায়িত্ব নিতে খান অপারগতা প্রকাশ করলে এর পরের দিন খাদিমপুর, মীর্জা সৈয়দপুর, কাটালখাইড় আখানিদা সহ আশপাশের এলাকার মুরব্বী ও শিক্ষানুরাগীসহ জামালপুর ‘খান’ বাড়ীতে হাজির, তাদের সবারই এক কথা হাশিম খান সাহেবকে নব প্রতিষ্ঠিত খাদিমপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হবে। হাশিম খান সাহেব বললেন, ছাত্র ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম লিখায় গতকাল আমি অপারগতা প্রকাশ করেছিলাম কিন্তু আজ আপনাদের দেখে খুশি হয়ে দায়িত্ব নিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার শরীর ও স্বাস্থ্য ভাল আছে। আবুল হাশিম খান সাহেব খাদিমপুর জুনিয়র স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে সুচারুরূপে পরিচালনা করে স্কুলকে হাইস্কুলে উন্নীত করে অবসরে চলে যান। খান সাহেবের নিজস্ব এলাকায় স্কুল না থাকায় ওই এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী বাইরে গিয়ে লজিং এ থেকে লেখাপড়া করতেন আর অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা না করে ঘরে বসে থাকতেন। এমতাবস্থায় দাওরাই, জামালপুর, জয়দা সহ ৬টি গ্রাম মিলে দাওরাই বাজারের দক্ষিণ দিকে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, ওই স্কুলের নামকরণের দায়িত্ব দেন মোঃ আবুল হাশিম খান বি.এ.বি.টি এর উপর। অনেক চিন্তা ভাবনা করে স্কুলটির নাম রাখেন ‘ষড়পল্লী’ হাইস্কুল। স্কুলের নাম অর্থবহ হওয়ায় ছয় গ্রামের সবাই খুশি। ওই নব প্রতিষ্ঠিত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব আবুল হাশিম খানকে দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটিকে হাইস্কুলে উন্নীত করে তিনি অবসরে যান। ‘বড় মাস্টার’ সাহেব অবসরে গেলেও তাকে শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসাবে কমিটিতে সবসময় রাখা হতো। বর্তমানে এই স্কুলটি কলেজিয়েট স্কুল হিসাবে সুনামের সাথে ফলাফল করে যাচ্ছে। ‘ষড়পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ বর্তমানে দাওরাই গ্রামের সম্মানিত শিক্ষানুরাগী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আবুল হাশিম খান ১৯৮৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি তাঁর ৩১তম মৃত্যু বার্ষিকী। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে বেহেশত নসিব করুন। আমিন।
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সুনামগঞ্জ সমিতি, সিলেট।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT