সম্পাদকীয় প্রত্যেক ব্যক্তি তার উন্নতিতে ঐশী সাহায্য পায় তার চরিত্র অনুসারে। - আল হাদিস

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০২-২০১৮ ইং ০০:২০:২১ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণহীন বলে অভিমত দিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত জরিপ প্রতিবেদনে একথা বলা হয়। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন ও নি¤œমানের বেসরকারি চিকিৎসা সেবায় আর্থিক ও স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। কমিশন ব্যবসা ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের মাধ্যমে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। জরিপের তথ্যমতে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যায়। তাছাড়া এই সংক্রান্ত আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করে আইন হিসেবে প্রণয়ন করা এবং নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
শুধু বেসরকারি নয়, সরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবায়ও রয়েছে বিশৃঙ্খলা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান সন্তোষজনক নয়। মানুষ কাংখিত সেবা পাচ্ছে না। অথচ রাষ্টের কাছে জনগণের অন্যতম মৌলিক চাহিদার একটি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। আর স্বাস্থ্য মানব সম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত। তাছাড়া চিকিৎসা সেবা এবং জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে আমাদের সংবিধানে। মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা হচ্ছে অন্যতম। এই চিকিৎসা নামক মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে এদেশের জনগণকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। যদি তারা কোন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যায়, তখন তারা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি সবধরনের হাসপাতাল-চিকিৎসাকেন্দ্রেই।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে কাংখিত সেবা না পেয়ে রোগীরা বেসরকারি খাতের চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হয়। অনেকের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হয় না। আর যারা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে তারাও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেনা। নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে রয়েছে রোগীদের বিস্তর অভিযোগ। এক্ষেত্রে সরকারেরও রয়েছে অবহেলা। সরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি-অবহেলাসহ অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোও এসব অভিযোগের বাইরে নয়। আছে ভুল চিকিৎসার অভিযোগও। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নেই কোন ধরনের তদারকি; নেই জবাবদিহির ব্যবস্থা। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, বেসরকারি চিকিৎসা খাতকে নিয়ে আসতে হবে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার আওতায়। উল্লেখ করা যেতে পারে, বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস এ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক এ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এই আইনের কোন বিধিমালাও করা হয়নি। তাছাড়া, দীর্ঘ এক দশক ধরে বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনও আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অথচ এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশের বেশিই বেসরকারি খাতের সেবা গ্রহণ করেন। জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তা কার্যকর হয় না। আমরা আশা করছি, সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি-সরকারি উভয় খাতের চিকিৎসা জনগণের কাজে সহজলভ্য করার জন্য সরকার উদ্যোগী হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT