সম্পাদকীয়

কৃষিবিদ দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০২-২০১৮ ইং ০২:৩৫:০১ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত

আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় কৃষিবিদ দিবস। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। কৃষি প্রধান এই দেশের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষক। এই কৃষকদেরই আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার দিন এই কৃষিবিদ দিবস। ১৯৭৩ সালে আজকের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রধান পেশা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেন; যেভাবে মর্যাদা দেয়া হয় চিকিৎসক-প্রকৌশলীদের। অথচ এর পর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এ নিয়ে আলাপ আলোচনাও খুব একটা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এই দিনটিকে কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই থেকেই প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে কৃষিবিদ দিবস।  
কৃষিতে ¯œাতক ডিগ্রিধারীদের অতীতে চাকুরিতে নিয়োগ দেয়া হতো দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে। অবশ্য তখনও চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা প্রথম শ্রেণির মর্যাদায়ই চাকুরীতে যোগদান করতেন। চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মতো কৃষিবিদদেরও প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেয়ার দাবি ওঠে স্বাধীনতার পূর্ব থেকে। অবশেষে স্বাধীনতার পরে ১৯৭৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশের কৃষি উন্নয়নে কার্যকর অবদানের কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের ঘোষণা দেন। সাধারণত বাংলাদেশ কিংবা বিদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষি, পশু চিকিৎসা, পশু পালন, কৃষি অর্থনীতি, মৎস্য, কৃষি প্রকৌশল, এমনকি কৃষি বনায়ন ইত্যাদি বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি অর্জনকারী পেশাজীবীরা কৃষিবিদ হিসেবে পরিচিত। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, সম্প্রসারণসহ নানামুখী উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত থেকে জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলয় রচনা ও সুরক্ষা এবং সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখার সুবাদে কৃষিবিদগণ এদেশে আজ এক মর্যাদাবান পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃত।
পলিবিধৌত এই ভূ-খ- প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই উর্বর। কৃষির সহায়ক হিসেবে রয়েছে অনুকূল জলবায়ু এবং ভৌগোলিক অবস্থান। অথচ অতীতে মান্ধাতা আমলের পারিবারিক অভিজ্ঞতা নির্ভর খোরপোষমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালু ছিলো। ১৯৩৮ সালে ঢাকা কৃষি ইন্সটিটিউট এবং ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সুবাদে এদেশে সীমিত পরিসরে জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর কৃষির প্রবর্তন ঘটে। এ সময় কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেবা বিস্তারের কর্মসূচি চালু হয়। যা সনাতন কৃষি ব্যবস্থায় আধুনিক রূপান্তরের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু এর পর থেকে কৃষির উন্নয়নে কার্যকর তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বললেই চলে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করেন রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদাও বঙ্গবন্ধুর তেমনি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কৃষিতে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো দেড় কোটি মেট্রিকটন। অথচ বর্তমানে বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ সাড়ে তিন কোটি মেট্রিকটনের বেশি। আর এই উৎপাদন চার কোটি মেট্রিকটনে পৌঁছাতে চলছে নানা পরিকল্পনা। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত নানা কারণে দেশের কৃষিজমি কমেছে অর্ধেকের বেশি। তারপরেও কৃষিতে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে সাধারণ কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণার ফলে। কৃষিবিদরা নিজেদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্যই নিজ নিজ দায়িত্বে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকুক, এগিয়ে যাক আমাদের কৃষি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বাংলাদেশ খাদ্যশস্য রপ্তানীকারক দেশ-এ পরিণত হোক- কৃষিবিদ দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT