প্রথম পাতা

সিলেটে ১২ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভ্যাট বকেয়া ৮৩ কোটি টাকা

কাউসার চৌধুরী ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০২-২০১৮ ইং ০৩:১০:৩৬ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

# সর্বোচ্চ বকেয়া পাসপোর্ট অফিসের ৫৩ কোটি ১৯ লাখ

# বেসামরিক বিমান চলাচলের বকেয়া ২৩ কোটি ২৯ লাখ

পাসপোর্ট করতে আসা নাগরিকদের কাছ থেকে শতকরা ১৫ ভ্যাট মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় করা হলেও তা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়নি সিলেটের চার পাসপোর্ট অফিস। কেবল সিলেট অঞ্চলের চার পাসপোর্ট অফিসের নিকটই ভ্যাট বকেয়া রয়েছে ৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। একইভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হলেও তা জমা দেয়নি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বিমানের নিকট ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা বকেয়া ভ্যাট রয়েছে। কেবল এই দুই প্রতিষ্ঠানই নয়, সিলেটের ১৩ টি সরকারি অফিসের নিকট বকেয়া ভ্যাট হিসেবে পাওনা রয়েছে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহে ইতোমধ্যে কয়েক দফা নোটিশ দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বকেয়া ভ্যাট আদায় করা না হলে তাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দেরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্র সিলেটের ডাককে এই তথ্য জানিয়েছে।
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে যে কোনো সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সেবার বিনিময়ে ফি’র সাথে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট নেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করে সরকার। সেবার বিনিময়ে নির্ধারিত ফি’র পাশাপাশি ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট চালুর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যায়। সিলেটের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নাগরিকদের সেবা দিয়ে ফি আদায় করলেও তা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়নি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরা পড়ার পরই তৎপর হয়ে উঠেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর ধারা ৫৫ ও বিধি ৪৩ মোতাবেক নোটিশ জারি করেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে, সরকারের ১৩টি দপ্তরে বকেয়া করের পাওনা ছিল ৮৭ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৬২১ টাকা। এর মধ্যে কাস্টমস এর তৎপরতায় ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৪২ টাকা পরিশোধ করেছেন পাঁচটি অফিসের কর্মকর্তারা। বর্তমানে ১৩ অফিসের নিকট ৮৩ কোটি ৫৩  লাখ ৩ হাজার ৭৯ টাকা বকেয়া কর পাওনা রয়েছে।
কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের নিকট ২৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৫ টাকা, মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিকট ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার ২২৯ টাকা, হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিকট ১০ কোটি ৩৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৫৮ টাকা ও সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিকট ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৮ টাকা বকেয়া ভ্যাট রয়েছে।  এই চার পাসপোর্ট অফিসের মোট বকেয়ার পরিমাণ হচ্ছে ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার ৯শ’ টাকা। এই চার অফিস আজো বকেয়া করের কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।
কাস্টমসের দেয়া তথ্য মতে, সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট পাওনা ছিল ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭২৭ টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৬১ টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে পাওনা রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ১১ হাজার ৪৬৬ টাকা। শেখঘাটস্থ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র নিকট ৯ লাখ ১৫ হাজার ৫২২ টাকা বকেয়া থাকলেও কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
শিবগঞ্জস্থ আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বকেয়া ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ ২ হাজার ২১৭ টাকা। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৩শ’টাকা আদায় করা হয়। বর্তমানে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৭ টাকা পাওনা রয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে বকেয়ার পরিমাণ ২ কোটি ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৭ টাকা। তবে এখনো কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিকট ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৪ টাকা বকেয়া থাকলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ওসমানী বিমানবন্দর-সিলেট) এর নিকট ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বকেয়া রয়েছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া কর থাকলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। সিলেট কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের নিকট ২ লাখ ৬শ ১৫ টাকা বকেয়া কর পাওনা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (ওসমানী বিমানবন্দর-সিলেট) এর নিকট ৪ কোটি ৭৩ লাখ  ১১ হাজার ৮শ’ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৯৪  লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে বিমানের নিকট পাওনার পরিমাণ ৭৯ লাখ ১১ হাজার ৮শ’ টাকা। সিলেট বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নিকট ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮১ টাকা বকেয়া ছিল। ইতোমধ্যে এ অফিস পুরো বকেয়া পরিশোধ করেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও বকেয়া ভ্যাটের টাকা পাওনা রয়েছে। কাস্টমস সূত্র জানায়, দফায় দফায় নোটিশ ইস্যুর পরও বকেয়া ভ্যাট আদায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ৮ জানুয়ারি নগরীর মেন্দিবাগস্থ কাস্টমস  অফিসে সিলেটের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি আলোচনা সভা করেন কাস্টমস কমিশনার। সভায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট বকেয়া রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ধারা ৫৬ এর ১ (খ) প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করার বিষয়ে আলোচনা করে পরিকল্পনা নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বকেয়া কর পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে বলে কাস্টমসকে অবহিত করেছে। এজন্যে বকেয়া কর আদায়ে বেশ আশাবাদী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটের ডাককে বলেন, বকেয়া কর আদায়ে আমরা কয়েক দফা নোটিশ দিয়েছি। এর ফলে বেশ সাড়াও পেয়েছি।
সিটি কর্পোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বকেয়া কর আদায়ে উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণে বকেয়া থাকার পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে সাড়া পাচ্ছি না। বকেয়া কর আদায়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দের পরিচালনা রয়েছে।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির ১৪টি প্রশ্ন
  • জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ কারাগারে
  • বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা
  • সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
  • সিলেটে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ১ অক্টোবর
  • নতুন প্রজন্মকে উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে
  • শনিবার ঢাকা দখলের ঘোষণা ১৪ দলের
  • বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্ত বিকল্প ধারার
  • আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীকে জরিমানা
  • সিনহার অ্যাকাউন্টে টাকা, ফারমার্স ব্যাংকের ৬ জনকে তলব
  • পাকিস্তানকে আজ হারালেই ফাইনালে বাংলাদেশ
  • ঢাকায় বৃহস্পতিবার জনসভার ঘোষণা বিএনপির
  • সিলেট অঞ্চলে ইয়াবা-গাঁজাসহ মাদকের আগ্রাসন বাড়ছে
  • আফগানিস্তান উত্থান ঠেকাতে আজ ইন্ডিয়ান মিশন
  • জুনের মধ্যে বিমানবন্দর বাইপাস-ভোলাগঞ্জ সড়কের কাজ শেষ করতে চায় সওজ
  • সিলেটে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি ড. মতিয়ার রহমান
  • সিলেটে ৩টিসহ আরো ৪৩টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ
  • মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর দাফন সম্পন্ন
  • সিনহার ‘দুর্নীতির’ তদন্ত নিয়ে প্রশ্নে ‘বিব্রত’ দুদক চেয়ারম্যান
  • Developed by: Sparkle IT