সম্পাদকীয়

অপ্রশস্ত সড়কে দুর্ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:০২:২৫ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত

অপ্রশস্ত সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এই শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয় গত সোমবার এই পত্রিকায়। খবরে বলা হয় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। অপ্রশস্ত সড়ক ও অদক্ষ চালকের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত পয়লা জানুয়ারি থেকে চলতি মাসের সাত তারিখ পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে সাতটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন সাতজন। আহত হয়েছেন অর্ধশত। যেসব স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেসব এলাকায় সড়কের দু’পাশের মাটি নেই। অনেক স্থানে সড়কের পীচ ওঠে গেছে। তাছাড়া, অপ্রশস্ত সড়ক থাকায় দুর্ঘটনার মতোও ভয়াবহতা বাড়ছে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে যানবাহনের অদক্ষ চালক। অতিরিক্ত যানবাহনের কারণেও ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা। সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে অভিজ্ঞদের অভিমত।
দেশের আর দশটি সড়ক মহাসড়কের মতোই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর গড়ে চার হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার লোক। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ক্ষতি ৩৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ গুণ বেশি। এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই হার দশ গুণ বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। গবেষকদের ধারণা, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দুই দশকে দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হবে। তাছাড়া বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরই সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অবশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো যায় না; তবে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সারা দেশে ২৫ হাজার কিলোমিটার সড়কপথে চলাচল করে লাখ লাখ যানবাহন। এই সড়কপথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে নানা কারণে। প্রথমত চালকের অসতর্কতার জন্যই ঘটছে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা। অদক্ষ-অসতর্ক চালক, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সিগন্যাল অমান্য করা, যান্ত্রিক ত্রুটি, অপর্যাপ্ত-অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, অতিরিক্ত যানবাহন, মাদকাসক্ত চালক, ওভারটেকিং ইত্যাদি কারণে সারা দেশের সড়ক মহাসড়কগুলোতে ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। যে কারণে সড়কে মৃত্যুর তালিকা শুধু লম্বাই হচ্ছে। দুর্ঘটনারোধে চালকদের পাশাপশি যাত্রীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সেই সঙ্গে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং চালক, শ্রমিক, আরোহী ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। চালকদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সড়কপথ নিরাপদ করতে হলে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে মালিক-চালকদের। ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে চালকদের উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব বিআরটিএর। কিন্তু তারা সেটা করছে না। ভূয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে প্রশস্তকরণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। উল্লেখ করা জরুরি যে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করার পরও আইনী জটিলতার কারণে আটকে আছে প্রকল্পটি। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির স্বার্থে অচিরেই আইনী জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেই আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT