উপ সম্পাদকীয়

ভ্যালেনটাইনস ডে

ডাঃ মাওঃ লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:০৭:২০ | সংবাদটি ১২০ বার পঠিত

ভ্যালেন্টাইন দিবসটির উৎপত্তি খ্রিস্টীয় ও প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে। তবে এর ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে নানা ধরনের মত ও চমকপ্রদ কাহিনি শোনা যায়। এর মধ্যে প্রচলিত কাহিনিটি হলো: সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে রোমে তরুণ এক ধর্মযাজক ছিলেন এবং পেশায় ছিলেন তিনি চিকিৎসক। সে সময় রোমান শাসকদের বিধানে বলা হলো, সব খ্রিস্টান রোমান দেব-দেবীদের পূজা করবে। কিন্তু যিশুখ্রিস্টের অনুসারী খ্রিস্টানদের অনেকে তা মানতে রাজি হলেন না। ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনও সেই বিরোধীদের সাথে ছিলেন। রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের নির্দেশে বিচারক তাকে প্রশ্ন করেন, রোমান দেবতা ‘জুপিটার' ও ‘মার্কারি’ সম্পর্কে তিনি কী ধারণা পোষণ করেন? ভ্যালেন্টাইন উত্তরে বলেন, এসব দেবতার কোনো অস্তিত্ব নেই। যিশু বর্ণিত গড (এঙউ)-ই একমাত্র প্রভু। দেবতাদের এভাবে অপমান করার অপরাধে তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। বন্দিবস্থায় ভ্যালেন্টাইন কারা তত্ত্বাবধায়কের অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এরপর মেয়েটার সাথে তার যোগাযোগ ঘটতে থাকে। যা ভালোবাসায় পরিণতি লাভ করে। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণের ঠিক আগের মুহূর্তে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান ‘খড়াব ভৎড়স ুড়ঁৎ’ং- ঠধষবহঃরহব’ ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দের এই বিয়োগান্তক ঘটনাকে স্মরণ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন পোপ প্রথম জেলুসিয়াস।
এছাড়া আরো একজন ভ্যালেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস ভালো সৈন্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যুবকদের বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন নামের এক যুবক সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভালোবেসে এক মেয়েকে বিয়ে করায় সম্রাট তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। তবে ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ ইৎরঃধহহরপধ  (১৫তম সংস্করণ, দশম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৬) অনুসারে প্রেমিকদের উৎসব হিসেবে এসব ব্যক্তিত্বের সাথে ভ্যালেন্টাইন ডে এর সম্পৃক্ততা না থাকলেও রোমানদের লিউপারসেলিয়া উৎসবের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। রোমানরা মধ্য ফেব্রুয়ারিতে (১৫ ফেব্রুয়ারি) খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ অব্দের দিকে বসন্ত উৎসব হিসেবে কৃষি দেবতা লিউপারকাসের উদ্দেশ্যে লিউপারসেলিয়া উৎসব পালন করতো। এ উৎসবের শুরুতেই রোমান মেয়েদের নাম কাগজের চিরকুটে লিখে দেয়া হতো একটি জারে। সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত প্রত্যেক তরুণ টেনে নিত একটি চিরকুট। আর চিরকুটে লেখা নামের মেয়েটি এক বছরের জন্য হয়ে যেত ছেলেটির হৃদয়সঙ্গী। এভাবে লিউপারসেলিয়া উৎসবটি ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে একীভুক্ত হয়ে ওয়ার্ল্ড ভ্যালেন্টাইনস ডে’ নামে খ্যাতি লাভ করে। নিষিদ্ধ ভ্যালেন্টাইন ডে: নীতি-নৈতিকতার স্খলনজনিত কারণসহ অনুষঙ্গিক মারাত্মক কিছু সমস্যার কারণে ফ্রান্স সরকার ১৭৭৬ সালে ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সময়ের পরিক্রমায় এটা ধীরে ধীরে ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, হাঙ্গেরি এবং জার্মানি থেকেও উঠে যায়। এর আগে ১৭ শতকে রক্ষণশীল খ্রিস্টানদের আধিপত্যের কারণে ইংল্যান্ডেও এসব উৎসব পালন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রাজা কার্লোস দ্বিতীয় ১৬৬০ সালে এটা পুনরুজ্জীবিত করেন।
বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন সংস্কৃতি : ১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশে আসন গেড়ে বসে এই নয়া সংস্কৃতি। আমাদের দেশে যায়যায় দিন পত্রিকা ১৯৯৩ সালে প্রথম ভালোবাসা দিবস সংখ্যা প্রকাশ করে এবং ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই থেকে বাংলাদেশের সব পত্র-পত্রিকাই ভালোবাসা দিবসে বিশেষ ক্রোড়পত্র বা ভালোবাসা সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে। পাশাপাশি এদেশের তরুণ-তরুণীরাও এই দিবসটিকে খুব শুরুত্ব সহকারে পালন করে। এই দিনে প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে উপহার সামগ্রী, শুভেচ্ছা কার্ড দেয়। একে অপরকে নতুন করে ভালোবাসার কথা জানায়। যে কারণেই ভালোবাসা দিবস পালিত হোক না কেন, এই দিবসটি আস্তে আস্তে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে মিশে যাচ্ছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। শুধু প্রেমিক প্রেমিকারাই নয়, ভ্যালেন্টাইন ডেতে সবাই অর্থাৎ বাবা-মা, সন্তান, ভাই-বোন, বন্ধু, শিক্ষক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ছাত্র/ছাত্রী, সহকর্মীরা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান নানাভাবে। তবে সব আয়োজনের থাকে একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো সর্বোত্তম উপায়ে, সবচেয়ে সুন্দরভাবে। তাই আসুন আমরা সকলে মিলেমিশে সামাজিকভাবে বসবাস করি। ভুলে যাই সমস্ত অভিমান। তাহলেই সকলের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব।   
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • Developed by: Sparkle IT