প্রথম পাতা

দারিদ্র্য দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করুন : প্রধানমন্ত্রী

ডাক ডেস্ক : প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০২-২০১৮ ইং ০৩:২১:৫২ | সংবাদটি ১৫ বার পঠিত

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এর ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য দানকালে এই আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা যাবে না। তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে উন্নয়ন সহযোগীদের আরো একটু উদার হতে হবে। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ফ্রাজিলিটি টু লং টার্ম রেসিলেন্স : ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনোমি।’
এসময় তিনি বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে বলেন, অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ইফাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইফাদ-এর সহায়তার ও সহযোগিতার মডেলটি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক ভিন্ন। ইফাদ-এর এই মডেলটি মানবতায় এখনকার মতে অনাগত দিনগুলোতেও কাজ করে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা স্থাপন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না। গ্রামীণ সামাজিক ও জলবায়ুগত স্থিতিশীলতার উন্নয়নে একটি ব্যাপকভিত্তিক টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদীভাবে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে সুশাসন থাকায় বাংলাদেশ ভাগ্যবান।
তিনি বলেন, আমরা সতর্কতার সাথে চার বছরের আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধি হিসেব করে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করেছি এবং গত নয় বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনা করে চাহিদা ও প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এবং এর অর্ধেক হবে মধ্যবিত্ত। এর ফলে বিশ্বের আবাদী জমি, বনভূমি এবং পানির ওপর প্রবন্ড চাপ পড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক দেশের আবাদী জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে এবং ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ছাড়াই আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০৫০ সালে বিশ্বের খাদ্য চাহিদা ২০০৬ সালের অবস্থান থেকে অন্তত ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিভাবে এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করবো? আমি আপনাদের আমার দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষি প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরবো, যা আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে মানব উন্নয়নের জন্য অন্যান্য দেশ গ্রহণ করতে পারে অথবা আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, আমরা আরেকটি ১৯৮১ সালের মুখোমুখি হতে চাই না, তখন আমরা বুঝতে পারি কৃষি প্রবৃদ্ধিকে উপেক্ষা করা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
প্রথমে আমি আপনাদের বলবো, প্রতিবছর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশে খাদ্য সংকট এবং খাদ্য উৎপাদন হ্রাসের যে কোন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশী জনগণ স্বাভাবিকভাবে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের মোকাবেলায় বাংলাদেশীরা আস্থার সঙ্গে শক্তভাবে লড়াই করে সমস্যার সমাধান এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উপায় গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং চলতি বছর অসময়ে বার বার বন্যার কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিলো।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ঘাটতি মোকাবেলায় গ্রাহকদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাথে সাথেই খাদ্য আমদানি নীতি গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে অন্যান্য চরম চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ, ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ৬৫ সে.মি. বাড়লেই বাংলাদেশকে তাঁর ৪০ শতাংশ উৎপাদনশীল ভূমি হারাতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করে, যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক জীবিকা এবং পরিবারিক খামারের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে।
তিনি বলেন, মোট ১১ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১০ লাখ সুবিধা ভোগীকে নিয়ে ১৭ হাজার ৩শটি গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা গঠন করা হয়েছে যারা প্রায় ৭ লাখ ছোট ছোট খামার স্থাপন করেছে।
তাঁর সরকার জনগণের পুুষ্টি সমস্যার সমাধানের সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে যেখানে বাংলাদেশের জনগণের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ অপুষ্টির শিকার ছিল সেখানে এই হার ২০১৬ সাল নাগাদ ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি দারিদ্রের হার যেখানে ২০০৫-০৬ সালে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল সেখান থেকে বর্তমানে তা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ‘সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এই ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিকৃবিতে আন্দোলন কারীদের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ দাবী মানা না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
  • সুনামগঞ্জে শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন
  • মহান একুশের প্রথম প্রহরে-
  • ওসমানীনগরে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নয় ইউপি সদস্যের অনাস্থা
  • খাদিমনগর ইউনিয়নে ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ব্রীজের উদ্বোধন করলেন আশফাক আহমদ
  • সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব --- ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম
  • মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত
  • আদালতের রায়ে নির্বাচনের যোগ্যতা হারালে কিছুই করার নেই : ওবায়দুল কাদের
  • স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ১৬ জন
  • বৃহস্পতিবার খালেদার জামিন আবেদন করা হবে : মওদুদ
  • ২১ বিশিষ্ট নাগরিককে প্রধানমন্ত্রীর একুশে পদক প্রদান
  • ভালোবাসা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটতে পারে -----দানবীর ড. রাগীব আলী
  • অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
  • একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি
  • র‌্যাবের অভিযানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
  • প্রাইভেটকার চালক ও আরোহী নিহত
  • মোটরযান আইনে দায়ের করা মামলায় টিএইচএম জাহাঙ্গীর গ্রেফতার
  • সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র পদে নির্বাচন ২৯ মার্চ
  • সহকর্মীর ‘মিস ফায়ারিং’-এ গুলিবিদ্ধ এসপিবিএন সদস্য
  • তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে ইমরান খান
  • Developed by: Sparkle IT