উপ সম্পাদকীয়

সুশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক

নাজমুল মৃধা প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৮ ইং ০০:৪৩:১৩ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

কথায় আছে শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি সভ্য, উন্নত, মার্জিত। প্রত্যেকটি জাতির সুশিক্ষার জন্য উচ্চতর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন জাতির সূর্য সন্তানেরা। বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশে জাতিগত উন্নয়নের জন্য আছে উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জ্ঞান, বিজ্ঞান, গবেষণা, চিকিত্সা ইত্যাদির জন্য আলাদাভাবে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ক্রমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সভ্যতার চূড়ায়। বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একটি কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আর সুশিক্ষিত হওয়া কি এক? পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়িয়ে মঙ্গলগ্রহে পাঠায়, সভ্যতার উন্মেষ বিকাশের কারণ আবিষ্কার করে, ক্যান্সার প্রতিরোধী প্রতিষেধক তৈরি করতে ব্যস্ত আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতার ব্যবহার কে কত করতে পারি তা নিয়ে ব্যস্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের সভ্যতা শেখায়, আমরা সেখানে মারামারি, হানাহানি, তিরস্কারমূলক কথাবার্তা একে-অন্যকে বলা নিয়ে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজের দলীয় স্বার্থে অস্ত্র তুলে দিতেও কার্পণ্য করছেন না বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী যেখানে একে-অন্যের একই পরিবারের সদস্য তা ভুলে গিয়ে তারা মারামারিতে শক্তি দেখাচ্ছে। এক শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে আর বাকিরা দাঁড়িয়ে তা দেখে মজা নেয়! এটা কি কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হতে পারে? ছাত্র-শিক্ষক হাতাহাতি হয়! গত ২২ জানুয়ারি ঢাবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি কি আমাদেরকে সুশিক্ষার বার্তা দেয়? গতবছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা আমাদের জাতির সুশিক্ষার বার্তা দেয় না। বরং বলা যায় জাতি আজ সংকটের মুখে, সভ্যতার সংকটে। শিক্ষার্থীরা আজ শিক্ষকদের মানছে না। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে তাদের নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিক শিক্ষা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা হয়ে যাচ্ছে বেপরোয়া।
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্মের কারিগর নিঃসন্দেহে এদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের সমগ্র আন্দোলনে ছাত্র-শিক্ষকের ভূমিকা ছিল সমানভাবে প্রশংসনীয়। কিন্তু আজ ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। দেশের সামগ্রিক নৈতিকতা আজ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষকের মতের মিল হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের উদাসীনতার জন্য শিক্ষার্থীরাও ক্লাস করার আগ্রহ হারাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ব্যক্তিদের দুর্নীতি চোখে পড়লেও আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নীরব ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে উৎসাহ দিবেন শিক্ষকেরা, সেখানে উল্টো শিক্ষার্থীরাই শিক্ষকদের হুমকির মুখে পড়ছেন। শিক্ষকদের লাগামহীন চাটুকারিতা, অতিরিক্ত রাজনৈতিক সান্নিধ্য পাবার আকাক্সক্ষা ঠিকই শিক্ষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করছে কিন্তু জাতি আজ জ্ঞানশূূন্য হয়ে যাচ্ছে। জাতি যাদের মাথার উপর ভর করে সভ্যতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছুবে, আজ তারাই অন্ধের ভূমিকায় নিয়োজিত। বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। পরিবারে এক ভাই আরেক ভাইয়ের সঙ্গে মিল না থাকলে যেমন পরিবারের অমঙ্গল হয় তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মিল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাছে পাঠায় সুশিক্ষিত করে তুলতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষক যদি বাবা-মায়ের ভূমিকায় ফিরে আসে মনে হয় এদেশ এখনো সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা মারামারি চাই না, হানাহানি চাই না। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাইÍযা চায় আমাদের বাবা-মায়েরা।
লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • Developed by: Sparkle IT