উপ সম্পাদকীয়

তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হবে

মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৮ ইং ০০:৪৪:০৫ | সংবাদটি ৯ বার পঠিত

বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মানব সভ্যতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা মুহূর্তে পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অপর প্রান্তের খবর নিতে পারি এবং দেখতে পারি পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে। ঘরে বসে বিদেশে অবস্থানরত আপনজনের সাথে অতি সহজে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারি- তাদের খোঁজ খবর নিতে পারি। কম্পিউটারের মাধ্যমে আমরা অনেক কঠিন কাজ অতি সহজে করতে পারি। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশও আজ তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দূল এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছেন। এ কারণে বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  
প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার যেমন মানুষের জন্য আশির্বাদ এবং উপকারী, তেমনি এর অপব্যবহার মানুষের জন্য অভিশাপ এবং ক্ষতিকর। উদাহরণ স্বরূপ ছুরির কথাই ধরা যাক। ছুরি দিয়ে মানুষ হত্যা করা যায়, আবার মানুষকে বাঁচানোও যায়। যেমন-একজন ডাক্তার ছুরি দিয়ে অপারেশন করে রোগীর জীবন বাঁচান ঠিক তদ্রুপ একজন খুনী বা সন্ত্রাসী ছুরি দিয়ে আঘাত করে মানুষকে হত্যা করে। অর্থাৎ একই জিনিসের সঠিক ব্যবহার করলে মানুষ বাঁচে আবার এর অপব্যবহার করলে মানুষ মারা যায়। প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয়েছে মানুষের মঙ্গলের জন্য এবং সঠিক ব্যবহারের জন্য। এর সঠিক ব্যবহার করলে মানুষের মঙ্গল এবং অপব্যবহার করলে মানুষের অমঙ্গল বা ক্ষতি সাধিত হয়। আমাদের সমাজে এমন কিছু অসৎ লোক আছে যারা তাদের হীন স্বার্থে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ক্ষতি করছে এবং সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। তারা মানুষ নয় বরং মানুষ নামের কলঙ্ক। তাই তারা ভাল জিনিসকে খারাপ কাজে ব্যবহার করছে। যার ফলে আমাদের সমাজে নানা প্রকার অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু সংখ্যক অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ লোক তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। তারা ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে নানা প্রকার অশ্লিল কথাবার্তা ও মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে, আজে-বাজে কথা লিখে ধর্ম ও সমাজ বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য করে সমাজে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়। যার ফলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এবং জনজীবনে অসন্তোষ ও দাঙ্গাহাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এবং ব্যাপক জান-মালের ক্ষতি হয়। এই বিশৃঙ্খলা দূর করে সমাজে পুনরায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। আবার অনেক সময় লম্পট ও নরপশুরা নারীদের অশ্লিল ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মান-সম্ভ্রম নষ্ট করে। যার ফলে বহু নারী মান-সম্মানের ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এহেন ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। আজকাল ফেইসবুকের নানা ধরনের অপব্যবহার হচ্ছে, যা বলে শেষ করা যাবে না।
বর্তমানে আমাদের দেশে কতিপয় অসৎ ও অর্থলিপ্সু ব্যক্তি ফেইসবুকে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পায়তারা করছে। পয়সার লোভে এসব অসৎ ব্যক্তিরা কয়েক বছর যাবৎ এহেন জঘণ্য কাজটি করছে। তারা টুপাইস কামাই করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকার নানা প্রকার চেষ্টা করেও প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে পারছে না এবং প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শায়েস্তা করতে পারছেনা। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি অর্থাৎ সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রতি বছর ফাঁস হচ্ছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় সরকার প্রশ্ন ফাঁস রোধে পরীক্ষার আগ থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ করা সহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সরকারের কোন সিদ্ধান্তই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে পারছেনা। চলতি এসএসসি পরীক্ষায়ও আগের মতই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসকারীরা দাপটের সাথে ফেইসবুক, টুইটারে প্রশ্ন ফাঁস করছে। কাজেই কোন জায়গা থেকে এবং কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে সেটা চিহ্নিত করে অপরাধীদের ধরতে না পারলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে পারলেই কেবল প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে। তবে অপরাধীদের প্রতি কোন প্রকার শৈথিল্য বা অনুকম্পা প্রদর্শন করা আত্মঘাতির নামান্তর।
গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয় কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে আসে। গত বছর ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে ডিবি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত  থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিজি প্রেসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। যার ফলে চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যম জানা গেছে যে, কতিপয় শিক্ষক এবং বিজি প্রেসের কর্মচারীদের দ্বারাই প্রশ্ন ফাঁস হয়। সুতরাং প্রশ্ন ফাসের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নতুবা প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা কখনো সম্ভব নয়। কাজেই প্রশ্ন ফাঁসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা দেশের সচেতন মহলের দাবী।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরাও এর সঠিক ব্যবহার করে উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাব। তবে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে আমাদের সকলের বিরত থাকতে হবে। তাই সরকারের উচিত তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে এর সদব্যবহার নিশ্চিত করা।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিষ্ট।   

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বই, বইমেলা এবং অমর একুশে গ্রন্থমেলা
  • বিদেশমুখী রোগীর স্রােত ঠেকানো জরুরী
  • আপন ভুবন, অচেনা আকাশ
  • ভাষা আন্দোলন
  • বিদ্যুৎ সভ্যতার মাপকাঠি
  • রাবার শিল্পের সুদিন আসছে
  • মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ
  • পতিতপাবন শ্রী রামকৃষ্ণ
  • উন্মত্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা
  • শিশুদের একটি ভাবনার জগৎ দিন
  • ‘জীবন শেষের গান’ ও প্রসঙ্গ কথা
  • একটি জীবন একটি উদাহরণ
  • বিশ্বায়নে বাংলা ভাষা
  • শ্রেণী বৈষম্যই বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ
  • তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হবে
  • সূর্যলাল
  • চিত্রাঙ্কনে সারাহ্ নাদিমের কৃতিত্ব
  • সুশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক
  • ডিগ্রি অর্জন অপেক্ষা জ্ঞান মুখ্য
  • আপন ভুবন, অচেনা আকাশ
  • Developed by: Sparkle IT