শিশু মেলা

ছাগি ও ভেড়ার গপ্পো

মোঃ ইব্রাহীম খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৮ ইং ০০:৪৬:৫১ | সংবাদটি ১৭৬ বার পঠিত

এমন হিস হিস করে হাসছিস কেন? ছাগি রাগী গলায় গম্ গমে আওয়াজে ভেড়াকে বলল। ভেড়া দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বলল, তোর বেহায়াপনা দেখে হাসছি। ছাগি ভেড়ার হাসিমাখা কথা শুনে ভান করে ভ্যা ভ্যা করে বলল, আমি আবার কি করলাম। তুই ভেবেছিস আমি কিছুই জানি না। একটু আগে তুকে দশ টাকায় খোয়ার হতে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। বিধবা বিচারী। দুটো ছেলে কত কষ্ট করে স্কুলে পড়াচ্ছে। দিন রাত কাজ করে ও ঠিক মত ছেলেগুলোকে খাওয়া পরা ও পড়ার খরচ চালাতে পারছে না। তালুকদারের বাগান বাড়ি ঢুকে কাঁঠালের চারটা চারা গাছের আগা খেয়ে ফেলেছিস। তোর জন্যে বেচারীর কষ্টের অর্জন দশটা টাকা হাত ছাড়া হল। এ দশ টাকা দিয়ে ছেলদের জন্যে দুটো কলম কিনতে পারত। কলমের অভাবে আজ ছোট ছেলেটা লেখতে পারবে না। চারা গাছগুলো বড় হলে কত কাঁঠাল হত। মানুষ পশু পাখি খেয়ে কত তৃপ্তি পেত। ভেড়ার কথা শুনে ছাগি ভেতরে ভেতরে খুব লজ্জা পায়। কিছু সময় নীরব থেকে ছাগি বলল, ভেড়া শুন। তুকে সত্যি কথাটা বলি। আমার গলা হতে দড়ি খুলে গেলে আমার মাথা ঠিক থাকে না। ইচ্ছে করে সব সবুজ কচি কচি গাছ খেয়ে ফেলি। পরে যখন গাছের মালিকের তাড়া আর বকা খেয়ে ছুটাছুটি শুরু করি, তখন ভাবি আর গাছ খাব না। আমাকে ধরে যখন খোয়ারে বন্দি করে রাখে তখন মহা প্রতিজ্ঞা করি। বাকী জীবন ফল, ফুল আর শাক সবজি বাগানে ঢুকে কিছু খাব না। ছাড়া পেলে আবার সব ভুলে যাই। সুযোগ পেলেই শুধু খাব খাব করিস। আমরা কি সুন্দর সবুজ তৃণলতা খেয়ে বেঁচে থাকি। মানুষের কোনো ক্ষতি করি না। তোদের জাতের স্বভাব খারাপ। এ্যাই ভেড়া, জাত তুলে গালাগাল দিবি না। রাগী গলায় বলল ছাগি। গালি দিলে তুই কি করবি। তোর বারোটা বাজিয়ে ফেলব। কিভাবে আমার বারোটা বাজাবি। আমার চোখা শিং দিয়ে গুতো মেরে তোর ভুড়ি বের করে ফেলব।
ভেড়া ছাগির কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। সে চুপ করে নি:শব্দে দাঁড়িয়ে থাকে। ভেড়া মনে মনে ভাবে তার ভোতা শিং। এমন ভোতা বাঁকা শিং দিয়ে ছাগির ভুড়ি বের করতে পারবে না। তুই কি ভয় পেয়েছিস ভেড়া। ভেড়া কোনো জবাব দেয় না। সে মন খারাপ করে অন্যদিকে মুখ ঘুড়িয়ে তাকিয়ে থাকে।
পায়ের আগমনি শব্দে ছাগি ও ভেড়া কান খাড়া করে। বাতি হাতে দুটো কলার খোসা নিয়ে তাদের মালিকিনী আসে। মালিকিনী ঘরে ঢুকেই ছাগিকে বকতে শুরু করে। বকতে বকতে ছাগির পিঠে একটা থাপ্পর মারে। ছাগি লজ্জায় টু শব্দ করল না। কিছুক্ষণ বকাঝকা করে তার রাগ পড়ে যায়। সে ছাগির মুখের সামনে কলার খোসা ধরে। ছাগি গদগদ করে খোসাগুলো খেয়ে ফেলে। মালিকিনী থাপ্পর মারা জায়গাটায় আদরে হাত বুলায়। ছাগি খুশিতে তার হাতে চুমু খায়। কলার খোসা গুলো একাই খেয়ে ফেললি। আমাকে ভাগ দেয়ার কথা একটুও ভাবলি না। ভেড়া অবিমানী সুরে বলল। রাগ করিস না ভাই ভেড়া। সারাদিন খোয়ারে ছিলাম। পেটে কিছুই পড়েনি। খুব বেশি খিদে পেয়েছিল। তাই একাই খেয়ে ফেলেছি।
কয়েক দিন পর ছাগি ফুটফুটে সুন্দর দুটা ছানা প্রসব করে। মালিকিনী ও ছেলেরা মহা খুশি। ছানাদুটো উঠোনে নাচানাচি করে। ছোট ছেলে সানু ছানাগুলো কোলে তুলে আদর করে। সে তাদের সাথে খেলা করে। দুধ খাওয়াতে সাহায্য করে। রাতে মালিকিনী ছানা দুটোকে ভেতরের ঘরে নিয়ে যায়। খাচায় খড়ের আরাম বিছানায় ঘুমোতে দেয়। মাঝ রাতে ছানাগুলো একটানা সুরে ঠ্যাঁ ঠ্যাঁ করে দুধ খাওয়ার জন্যে কান্না শুরু করে। এ্যাই ছাগি। তোর ছানাগুলোর চিল্লাছিল্লী থামা। ওদের চেঁচামেছিতে ঘুমোতে পারছি না। একটু ধৈর্য ধর। মালিকিনী ঘুম হতে জেগে ওঠলেই ছানাগুলো আমার কাছে নিয়ে আসবে। ওরা দুধ খেলেই আর শব্দ করবে না। ঠিক আছে। ধৈর্য ধরলাম। তোর ছোট ছানাটাকে আমাকে একটু আদর করতে দিস। না। তুকে আদর করতে দিমু না। আমার বাচ্চা দুটা জন্মের পর হতে তোর মনে হিংসার আগুন জ্বলছে। মনে করছিস আমি কিছু বুঝি না। ছি! ছি! ছাগি। তোর মন এত ছোট। তোর ছানা দুটো দুনিয়ায় আসার পর হতে আমার মনে কি যে আনন্দ লাগছে। আর তুই কি না আমাকে উল্টো বলছিস আমার হিংসা লাগছে। তুই পুরুষ জাত। ছানার দরদ তুই কি বুঝবি। পুরুষ মানুষ হলে এক কথা ছিল। পুরুষ মানুষ তার সন্তানের জন্যে হাটে, মাঠে, ঘাটে, কলকারখানায়, অফিসে, আদালতে কাজ করে টাকা রোজগার করে। সে টাকায় মানুষ সন্তানেরে কত কিছু কিনে দেয়। পিতাও তার সন্তানকে কত আদর ¯েœহ যত্ন করে লালন পালন করে। তোরা পশু পুরুষেরা সন্তানের কোনো খোঁজ খবর রাখিস না। যত সব দায়-দায়িত্ব মা পশুর ঘাড়ে। ভেড়া ছাগির এমন দার্শনিক কথার কোনো অর্থ বুঝল না। তবে ছাগির কথায় সে মনে খুব কষ্ট পায়। ভেড়া চুপ-চাপ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে।
ছাগি ভেড়াকে কঠিন কথা বলার জন্যে মনের মাঝে অনুতাপ অনুভব করে। কাউকে মনে ব্যথা দিয়ে কথা বলা খুব অন্যায়। ছাগি বুঝতে পারে মানুষ আর পশুদের জীবন প্রণালী এক রকম নয়। মানুষ হলো শ্রেষ্ঠ জাতি। তাদের সাথে পশুদের তুলনা চলে না। পশু পশুর মতই বেঁচে থাকবে। ছাগি ভেড়াকে খুশি করার জন্যে কোমল গলায় বলে, ভাই ভেড়া ভুল হয়ে গেছে। আমাকে মাফ করে দে। ছোট ছানাকে তোর যত ইচ্ছে আদর করিছ। আমি বাধা দেব না। ভেড়া ছাগির দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে আনন্দের হাসি হাসে। ছাগিও হাসে।
ছাগি রাগে গজ গজ করছে। আবার থেমে থেমে কাঁদছে। ভেড়া সান্ত¦না সুরে ছাগিকে বলল, আমরা গৃহপালিত পশুদের মালিক বদল হওয়া স্বাভাবিক। কাঁদিস না ছাগি তুকে একটা ভালো কাজে বেচে দিচ্ছে। বেচারীর বড় ছেলের পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা জোগার করবে তুকে বিক্রি করে। তুই তো একটা ভাল কাজে লাগলি। তোর জীবন সার্থক। তুই ধন্য। ছাগি কান্না থামিয়ে গলায় রাগ রেখেই বলল, আমাকে না বেচে তুকে তো বেচতে পারত। আমার দাম কত হবে। তুকে বেচলে বেশি টাকা মিলবে। আমি বাজারে যাব না। ছোট ছোট ছানা দুটো আমার পেছনে পেছনে ছুটে যাবে। ওরা সারাদিন না খেয়ে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে। আমি তাদের কষ্ট সহ্য করতে পারব না। এ ছোট্ট ঘর, উঠোন, মাঠ, কাঁঠাল গাছের ছায়া ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। তুই যেত না চাইলেও তোর গলায় দড়ি বেঁধে টেনে হেচড়ে নিয়ে যাবে। জোর করে কিছু করতে পারবি না। তুকে হারিয়ে আমারও খুব কষ্ট লাগবে। অনেক দিন ধরে একসাথে বসবাস করে মায়া লেগে গেছে। তুকে ছাড়া কেমন করে যে আমার দিনরাত কাটবে। সে চিন্তায় আমারও কিছু ভালো লাগছে না। ঝগড়া ঝাটি অনেক করেছি। তারপরও এ দুনিয়ায় তুই আমার আপন জন। তুকে ছেড়ে থাকতে হবে ভাবতেই বুকটা বারবার হাহাকার করে উঠছে। ভেড়ার কথা শুনে ছাগির ভেতরটা ঢুকরে কেঁদে ওঠে। গলার ভেতর একটা ঢেলা বিঁধে যায়। কষ্টে তার অন্তরটা ফেটে যাচ্ছে। ভেজা চোখে ছাগি ভেড়ার দিকে করুন ভাবে তাকিয়ে থাকে।
রাত পোহালেই হাটবার। সকালে ছাগিকে বাজারে নেয়া হবে। ছাগি চিন্তায় অস্থির। কেমন পরিবেশে তাকে বাস করতে হবে। কেমন হবে তার নতুন মালিক। বৃষ্টির দিনে কাঁঠাল পাতা, ফল সবজির খোসা কি তাকে খেতে দিবে। তার ছানাগুলোকে কি ঠিক মত আদর যত্ন করবে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন, ভয়ের ভাবনায় ছাগির মন ব্যথায় চনচন করছে। ভয়ে তার গায়ের লোম বারবার কাঁটা দিচ্ছে।
সাঁঝের সময় শেষ হয়ে এলো। ভেড়া আজ এখনও আসছে না। ভেড়ার জন্যে ছাগির মন আনচান করছে। ভেড়াকে বকতে বকতে মালিকিনী এদিকে এগিয়ে আসছে।
আমি কাল সকাল সবগুলো বাজারে বিক্রি করে ফেলব। ভেড়া ছাগি পোষার সাধ আমার মিটে গেছে। রোজ রোজ খোয়ারে দশ টাকা জরিমানা দিতে পারব না। থমথমে গলায় মালিকিন এসব কথা বলে ভেড়াকে ছাগির পাশে বেধে ভেতরের ঘরে চলে যায়।
ছাগির মন খুব খারাপ। সে মায়া ভরা চোখে ভেড়ার চোখে চোখ রাখে। ভেড়ার চোখে লজ্জার ছায়া ফুটে ওঠে। লাজুক চোখ নিচু করে ভেড়া বলে খোয়ারে যাওয়ার জন্যে তুকে সেদিন জাত তুলে গাল দিয়েছিলাম। আজ আমি নিজে খোয়ারে গিয়ে বুঝলাম তুকে গালাগাল দেয়াটা কত বড় অন্যায় হয়েছে। তোরা ভাল স্বভাবের জাত। তুই খোয়ারে গেলি কেন? ছাগি দুঃখী গলায় বলল। খুটা দিস না। জাত বেজাত ছোট-বড় উচু নীচু পার্থক্য করা খুব অন্যায়। খোয়ারে গিয়ে এটা আজ আমি মর্মেমর্মে বুঝতে পেরেছি। যাক সে সব কথা তোর জন্যে একটা বিরাট সু-খবর আছে।
ভেড়ার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ছাগি বলল, পুড়া কপালির জন্যে কি সু-সংবাদ এনেছিস তাড়াতাড়ি বল শুনি। মুলা, টমেটো, আলু, কপি খেতের বেড়া ছিল এক জায়গায় ভাঙা। সে ভেড়ার ভেতরের আইলে ছিল খুব সবুজ দুর্বা ঘাস। আমি লোভে ভাঙ্গা বেড়া দিয়ে সবজি বাগানে ঢুকে যাই।  কিছুক্ষণ ঘাস খাওয়ার পর আমার কানে ভেসে এল দিশারী যুব সংঘের সভাপতির বক্তব্য। সভাপতি ঘোষণা করেন এই ইউনিয়নে যে সব ছাত্র ছাত্রী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে তাদের সবার জন্যে দিশারী যুব সংঘের এসএসসি ফরম ফিলাপের যাবতীয় খরচ বহন করবে। আমি মনের আনন্দে তুকে সংবাদ দেয়ার জন্যে বেড়ার ভেতর হতে বের হয়ে আসতে চেষ্টা করি। কিন্তু ভাঙ্গা জায়গাটা খুঁজে পাচ্ছি না। কয়েক জায়গায় ভোতা শিং দিয়ে টুস দেই। ভেড়া ভাংতে পারি না। সবজি বাগানে মালিক এসে দেখে আমি বেড়ার ভেতর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করছি। সে আমাকে ধরে খোয়ারে নিয়ে যায়। বিশ্বাস কর আমি সবজি বাগানে একটা গাছও খাইনি।
ছাগি এত সময় ভেড়ার গপ্পো শুনে বিরক্তি গলায় বলল তোর এ গপ্পে আমার সু-সংবাদ কি আছে বুঝেতে পারছি না। আছে। আছে। বিরাট সু-সংবাদ গম্ভীর সুরে বলল ভেড়া। তাহলে সু-সংবাদটা কি বল। তোর মাথায় বুদ্ধি কম। কিছু বুদ্ধি থাকলে আমার এ কথার মাঝে সু-খবরটা তুই বুঝে ফেলতে পারতি। আবার খুঁচা দিয়ে কথা বলছিস কিন্তু ভেড়া। খুঁচা দিয়ে বলব না তো কি আদর করে বলব। যার মাথায় জ্ঞান বুদ্ধি নেই তাকে জ্ঞানী বুদ্দিমান বলে আমি চাটুকারিতা করি না। আমি তোষামোদ পছন্দ করি না। ছাগি গলা নরম করে বলল, ঠিক আছে আমি মানছি তুই ভাল। তোর জ্ঞান বুদ্ধি খুব বেশি। সহজে সব কিছু বুঝতে পারিস। এবার দয়া করে সোজাসুজি বলে ফেল আমার সু-সংবাদ কি। ছাগির মুখে ভেড়া প্রশংসা শুনে শি-শি-শি করে অনেকক্ষণ হাসে। ছাগি মনের মাঝে খুব অস্থিরতা অনুভব করে। ভেড়ার ন্যাকামী হাব ভাব দেখে সে বারবার রেগে গেলেও বাইরে তা প্রকাশ করছে না। সে ঠান্ডা মাথায় স্থিরভাবে ভেড়ার মুখের দিকে চেয়ে থাকে। ভেড়া কয়েক বার গলা কেশে একটু দম নিয়ে বলল, দিশারী যুব সংঘের সভাপতির ঘোষণা মতে আমাদের মালিকিনীর বড় ছেলে সংঘের অর্থে ফরম ফিলাপ করতে পারবে। এতে আমার সু-সংবাদ কি? ছাগি জিজ্ঞেস করে।
বোকা ছাগি সহজ ব্যাপারটা বুঝতে পারছিস না। সংঘের অর্থ সাহায্যে যদি তার ফরম পুরণের সমস্যা সমাধান হয়ে যায় তাহলে তুকে বেচতে হবে না। বড় ছেলে কি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল? হে পেয়েছিল। ভেড়া মাথা ঝাকিয়ে জবাব দিল। তাহলে তো খুব মজা, খুব মজা। আমাকে ছানা দুটো নিয়ে বাজারে যেতে হবে না। মালিক বদল হতে হবে না। ছাগির চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে ওঠে। সকালে একটা কাঁঠালের ডাল ছাগির সামনে দেয় বড় ছেলে। ছাগি খচখচ করে কাঁঠাল পাতা খেতে থাকে। বেলা উপরে ওঠতেই ছাগিকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। ছাগি মালিকিনীর কথা শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সে রাগে গজ গজ করে ভেড়াকে মিথ্যুক হঠকারী বলে গালাগাল দিতে থাকে। ভেড়া নিশ্চুপ হয়ে ছাগির বকা ঝকা সহ্য করে যাচ্ছে। ভেড়া মনে মনে ভাবে সে তো ভুল শুনেনি। সভাপতি পরিস্কার ভাষায় সংঘের সদস্যদের সামনে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তারা পুরস্কার প্রাপ্তিদের জানাতে বিলম্ব করছে।
বড় ছেলে ছাগির গলার পুরানো দড়ি খোলে সুন্দর একটা চিকন দড়ি লাগিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ছাগি কোনো শব্দ করছে না। একটা বাঁশের চিকন কঞ্চি হাতে ছাগিকে তাড়া করে। ছাগি রাগে একবার ভেড়ার দিকে তাকিয়ে হাটতে শুরু করে। ছানা দুটোও তার পেছনে পেছনে চেঁচামেচি করে হাটতে শুরু করে। ভেড়া অপলক দৃষ্টিকে ছাগি ও ছানাগুলোর দিকে চেয়ে থাকে। ভেড়া ভেতরে ভেতরে খুব অসহায় অনুভব করে। একজন লোক এসে মালিকিনীর হাতে একটা চিঠি দিয়ে বলল, আপনি বিকেলে দিশারী যুব সংঘের অফিসে যাবেন। আপনার বড় ছেলের ফরম পুরণের টাকা সংঘ দিবে। চিঠি ও অর্থ প্রাপ্তির খবর পেয়ে মালিকিনী খুব খুশি হয়। সে ছোট ছেলেকে ছাগি ফিরিয়ে আনতে পাঠায়। ছাগি বাজারে পৌঁছতেই দর কষাকষি শুরু হয়। হাটবারে বাজারে মানুষের ভিড়। গরু ছাগলের ভিড় পার হয়ে সানু তার বড় ভাইয়ের কানেকানে ছাগি ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলে। দু’ভাই মনের আনন্দে ছাগি ও বাচ্চা দুটাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। ছাগি ব্যাপার কিছু বুঝতে পারল না। তবে আপন ঘরে ফিরে এসে সে খুব আনন্দিত। সে মনে মনে ভেড়াকে চারদিকে তাকিয়ে খুঁজে। ভেড়া ছাগিকে দেখে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে। ভেড়া দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বলল, আজ হতে তুই জেনে রাখ ভেড়া কখনও মিথ্যে কথা বলে না। ভেড়ারা সব সময় সত্যি কথা বলে থাকে। ভেড়ার কথা শুনে ছাগি বুঝে যায় বড় ছেলের ফরম পূরণের টাকা সংগ্রহের সমস্যা সমাধান দিশারী যুব সংঘ দিয়ে দিয়েছে। মানে তাকে বিক্রি করার সিদ্ধান্তও বাতিল। ছাগি মিটমিট করে ভেড়ার দিকে তাকিয়ে বলে, সত্যি ভেড়া তুই খুব ভাল। আমি তুকে ভুল বুঝে খারাপ কথা বলেছি। তুই আমাকে মাপ করে দে ভাই। মাপ করতে পারি এক শর্তে। আজ আমি যে কোন শর্ত মানতে রাজি আছি। তুই নিসংকোচে বল। তোর ছোট ছানাটা আমাকে দিতে হবে। দুর বোকা। শুধু ছোটটা কেন দুটোই তুই নিতে পারিস। আমরা এক পরিবারে বাস করছি। পরিবারের সবকিছুতেই সবার সমান অধিকার। সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনায় সবাই সমান ভাবে ভাগাভাগি করে ভোগ করব।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT