প্রথম পাতা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

এমপির ‘প্রতিহিংসায়’ দক্ষিণ সুরমা উপজেলাবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৮ ইং ০২:৩৮:০৫ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ‘প্রতি হিংসায়’ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছেন। বিগত ৪ বছর থেকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। অথচ একই সময়ে সদর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলা স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও দক্ষিণ সুরমাকে‘অন্যায়ভাবে’ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। উপজেলার ছোট-বড় রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভবন, আসবাবপত্র শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। কোন উন্নয়ন হয়নি। দক্ষিণ সুরমাবাসীর প্রতি এমপি’র বিমাতাসূলভ আচরণের ফলেই জনসাধারণকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার উন্নয়নে ্এধরনের আচরণ করছেন।
গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ রইছ আলী লিখিত বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু জাহিদের মনোনয়ন মেনে নিতে না পেরে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ‘প্রকাশ্যে বিরোধিতা’ করেন। নিজের কাজের লোকের মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এই এমপি আওয়ামীলীগের মনোনীত ‘প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে চাটুকার ও মোসাহেবদের মাঠে নামান।’
২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ন্যাক্কাজনক ভূমিকা রাখেন। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের ভোটে মনোনীত হওয়ার পর যাচাই বাছাই করে দলীয় প্রতীক নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। তৃণমূল নেতাদের বাছাই করার ফলে এমপির নিজের লোকেরা প্রার্থী হতে পারেনি। এ নিয়ে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ এমপি দলীয় প্রতীকের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে অন্যদলের প্রার্থীদের সমর্থন করেন। তারপরও নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করতে দাউদপুর, মোগলাবাজার ও সিলাম ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমপির নিজের লোকদের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড় করান। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমপি’র এই প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতেই নৌকার প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মোগলাবাজার ও সিলাম ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী বিজয় লাভ করেন।
লিখিত বক্তব্যে রইছ আলী আরো বলেন,‘এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর পিতা দেলওয়ার হোসেন ফিরু মিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন চিহ্নিত রাজাকার। যা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ড কর্তৃক প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ রণাঙ্গনে ’৭১ এই বইতে প্রকাশিত হয়েছে। রাজাকার ফিরু মিয়ার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার অনেক সাধারণ মানুষ পাক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। একজন চিহ্নিত পাকিস্তানী দালাল ফিরু রাজাকারের ছেলে  মাহমুদ উস সামাদ এখন লেবাস পাল্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিত প্রাণ! আওয়ামীলীগ হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। যার রক্তে দেশ প্রেম নেই। সেই রাজাকার পিতার সন্তান দেশ প্রেমিক হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।’
গত কিছু দিন আগে ফেঞ্চুগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সভায় এমপি মাহমুদ উস সামাদ বীরদর্পে বলেছেন, নবনির্মিত শাহজালাল (র.) সারকারখানা আমি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেব। আমি যেমন গড়তে জানি, তেমনি ধ্বংসও করতে পারি। শাহজালাল (রহ.) সারকারখানায় প্রচুর লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জসহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার ও সিলেটের বাইরের অনেক লোক চাকুরী পেয়েছে ও করছে শুধুমাত্র দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লোকজনকে এমপির ‘হিংসার’ কারণে চাকুরী দেয়া হয়নি।
গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীকে দেশব্যাপী একজন বিতর্কিত নেতা উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এক সভায় এমপি বলেছেন, ‘এম ইলিয়াস আলীর মত জাদরেল এমপিই আমাদের দেশে প্রয়োজন’।
দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের নবারুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে অশুভ আচরণ করে এমপি গোটা দলকে সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছেন। একজন সম্মানিত শিক্ষককে তিনি প্রকাশ্যে চপেটাঘাত করেন। এতে গোটা শিক্ষক সমাজ অপমানিত হয়েছেন, তারা আমাদের দল আওয়ামীলীগের প্রতি অসন্তুষ্ট।
সিলেট-জালালপুর-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়ক দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারহীন বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও এমপি সড়কটির উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সড়কের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন ‘সিলেট-জালালপুর-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কটি নি¤œ শ্রেণির মানুষজন ব্যবহার করে থাকে। এটি সংস্কার না করলে দল যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে হোক। দলীয় নেতাকর্মীদের উপর দাপট দেখাবার অসৎ উদ্দেশ্যে এমপি মাহমুদ উস সামাদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটিতে কোন্দল সৃষ্টি করেছেন।
২০০৪ সালে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ১৪ বছর গত হতে চলেছে অথচ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হওয়ার কোন খবর নেই।
সম্প্রতি এমপি তার ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার অসৎ উদ্দেশ্যে উপজেলা শাখাকে সাংগঠনিকভাবে তছনছ করে দিচ্ছেন। গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফর উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় চন্ডিপুলস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে বর্ধিত সভার আয়োজন করে। ঐ সভায় জেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক সিদ্ধান্তকৃত ব্যানার ব্যবহার না করে নিজেকে প্রধান অতিথি উল্লেখ করে বর্ধিত সভা মঞ্চে জোরপূর্ব একটি ব্যানার টানিয়ে দেন। অথচ ব্যানারে প্রধান অতিথির নাম থাকার কথাছিল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের। এমপি এহেন তৎপরতায় সভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে এমপির পোষ্য দলীয় গু-ারা জামায়াত শিবির ও বিএনপির চিহ্নিত সশস্ত্র ক্যাডরা আমাদের দলের নিরীহ লোকদের উপর হামলা চালায়।
বিগত দু’বার এমপি নির্বাচিত হয়েও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার উন্নয়নে সুদুর প্রসারী কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। একজন ব্যর্থ ব্যক্তি আমরা আর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই না। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আপনাদের মাধ্যমে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বরাবরে চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে সচেতন ভোটারদের চাওয়া পাওয়াকে মূল্যায়ন করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কোন সুযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মলনের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন। উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক সাহেদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রব, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বছির আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, সিলেট সদর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা শাখার  সদস্য হাজী আকবর আলী, সদস্য তপন চন্দ্র পাল, ফখরুল ইসলাম সাইস্তা, সিলেট জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মতিউর রহমান, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম ইছন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জালাল উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সানি।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিলেটে উন্নয়নের ‘ধীরগতি’র বদনাম ঘুচাতে হবে
  • মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা আমার প্রথম কাজ
  • ১৯ জানুয়ারি মহাসমাবেশে যোগ দিতে সিলেট আওয়ামী লীগের আহবান
  • ‘সিলেট হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী’
  • খালেদা জিয়া অসুস্থ, আদালতে যেতে পারেননি
  • মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
  • সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার জিয়ারত করলেন পরিবেশ মন্ত্রী
  • ফের কয়লা আমদানী বন্ধ
  • দক্ষিণ সুরমায় রিকশা চালককে পিটিয়ে খুন
  • সুনামগঞ্জের হাওরসমূহে এখনো বাঁধের কাজ পুরোপুরি শুরু হয়নি
  • রাজশাহীতে থামলো ঢাকার ‘জয়রথ’
  • রংপুরকে হারিয়ে জয়ে ফিরলো সিলেট
  • ‘মা’ মানেই বেঁচে থাকার নি:শ্বাস
  • শাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
  • শাবিতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন আজ ও আগামীকাল
  • নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত: টিআইবি
  • অসহায় মজলুম মানুষের খেদমতে আত্মনিয়োগ করুন
  • টিআইবির প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত মনগড়া: রফিকুল
  • সামাদ আজাদ ও ‍হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই
  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে জয়ের পুনঃনিয়োগ
  • Developed by: Sparkle IT