শেষের পাতা

দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডাক ডেস্ক : প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৮ ইং ০২:৪৫:০৬ | সংবাদটি ১৭ বার পঠিত

 সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস করবে এবং জঙ্গিবাদে জড়াবে তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। আমরা দেশকে উন্নত এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও স্বজনপ্রীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপসারণ করতে পারবো।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মঙ্গলবার রাতে রোমের পার্কো দি প্রিনসিপি গ্রান্ড হোটেল এন্ড এসপিএ’তে আওয়ামী লীগের ইতালি শাখা আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির মামলা দায়ের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আগেই প্রত্যেক মামলার তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যেকটি মামলার তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলাম। মামলাগুলোর প্রকৃত অবস্থা আমরা যাচাই করে দেখতে চেয়েছিলাম।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকটি মামলার তদন্ত হয়েছে এবং এর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আমি কোন মামলা প্রত্যাহার করিনি এবং এর অনুমতিও দেইনি, কেন আমি এটা করবো। আমি জানতাম, আমিতো কোন দুর্নীতি করিনি।’
এ সময় তিনি পদ্মাসেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, হিলারি ক্লিনটন সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং ড. মুহম্মদ ইউনুস সে সময় তাকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দোষ ধরতে মুখিয়ে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সময় তিন তিনবার আমার ছেলেকে এ ব্যাপারে হুমকিও দেয়।
তিনি বলেন, এটি কানাডার আদালতেই প্রমাণ হয়েছে যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি।
‘আমি বলেছিলাম আমি দুর্নীতি করার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। আমি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই ক্ষমতায় এসেছি। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়,’-বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির প্রমাণ হয়েছে আদালতে। আদালত যখন দেখেছে বিএনপি নেত্রীর মাধ্যমে এতিমের টাকার সম্পূর্ণ অপব্যবহার হয়েছে তখন আদালত তাকে এই শাস্তির রায় দেয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক্ষেত্রে আমাকে তিরস্কার এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার কি যুুক্তি থাকতে পারে?
ইতালি শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অপকর্মের কারণেই সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই দেশে জরুরী অবস্থা জারি করে।
তিনি বলেন,‘বিএনপি দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, দুর্নীতি ও বাংলা ভাই সৃষ্টি করে এবং এই প্রেক্ষাপটেই আমরা জরুরী অবস্থা দেখেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে সে মামলা কে দিয়েছে? খালেদা জিয়ার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। ফখরুদ্দীন, মইন উদ্দিন, ইয়াজ উদ্দীন এই তিনজনই তো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দিল। এ মামলা তো আওয়ামী লীগ দেয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে এই মামলা হয় এবং পরের বছরই এর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এই মামলা ১০ বছর ধরে চলে এবং মামলার শুনানীর জন্য ২৩৬ কার্যদিবস ধার্য হয়। কিন্তুু খালেদা জিয়া আদালতে গেছেন মাত্র ৪০ দিন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়ার আপত্তির কারণে এই মামলায় তিনবার আদালত পরিবর্তন করা হয় এবং তিনি এর বিরুদ্ধে ২২টি থেকে ২৪টি রিট করেন।
‘তিনবার আদালত পরিবর্তন করে মামলাকে দীর্ঘায়িত করার পরেও যখন আদালত খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিল তখন বিএনপি এই স্বল্প পরিমান টাকার জন্য খালেদা জিয়াকে শান্তি দেয়ার যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলছে,’ -বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রধান বলেন,এই সময়ে তারা (বিএনপি-জামায়াত জোট) আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজারের উপরে মানুষকে তারা আগুন দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। ওই তিন বছরে প্রায় ৫শ’ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনা সদস্যকে পুড়িয়ে মেরেছে।’
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া. আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি সহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে ।
তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) প্রধানমন্ত্রী হয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। আসলো কোথা থেকে এই টাকা। তার সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পর পর ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বিশেষ করে কৃষি,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি এবং কূটনৈতিক খাতে সাফল্যের খন্ড চিত্র তুলে ধরেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে দেশীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও তাঁদের বড় অবদান রয়েছে।
তিনি এ সময় প্রবাসীদের কল্যাণে তাঁর সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন।
এ সময় ঢাকা-রোম সরাসরি বিমান ফ্লাইট পুণরায় চালুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকারের দুর্নীতি এবং তাদের ভুল সিদ্ধান্ত বিমানকে ধ্বংস করে দিয়েছে (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স)। ‘লাভজনক হলে আমরা পুণরায় ঢাকা-রোম ফ্লাইট চালু করবো’।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • শাবিতে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
  • শাবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’র যাত্রা শুরু
  • ‘পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গড়ার অঙ্গীকার সিসিক মেয়রের’
  • সিলেটে অনাথ ও অটিস্টিক শিশুরা আঁকলো এক কিলোমিটার আল্পনা
  • পৌর মেয়র জি কে গউছসহ আহত অর্ধশতাধিক
  • হবিগঞ্জে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত
  • কুলাউড়ায় মনু রেল ব্রিজ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
  • ১৫ বছর পর ফেঞ্চুগঞ্জের ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন ২৯ মার্চ
  • দলের নেতা-কর্মীদের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
  • ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ ॥ আহত ৩
  • দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে গাফিলতি ॥ ৭ পিআইসিকে শোকজ
  • খাদিম নগরে কিশোরীর লাশ উদ্ধার
  • হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি খুন হওয়া দুই ছাত্রলীগকর্মীর পরিবারের
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের কর্মসূচি
  • ১৮৪৭ জনের জন্য চিকিৎসক একজন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • ইস্পা হত্যার বিচারের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন
  • সম্পত্তির পিছনে না ছুটে সুশিক্ষিত সন্তান গড়ে তুলুন --------- মো. শামছুদ্দীন মাসুম
  • জেলা আইনজীবী সমিতি’র ৪ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮শ’ ২৮ টাকার বাজেট ঘোষণা
  • সিলেটকে শান্তি ও সম্প্রীতির নগরী গড়ে তুলতে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে ---- সাবেক মেয়র কামরান
  • শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেন মৌলভীবাজারের দুই তরুণ
  • Developed by: Sparkle IT