সম্পাদকীয় যা তুমি দেখাও তার চেয়ে বেশি তোমার থাকা উচিত। যা তুমি জানো তার চেয়ে তোমার কম কথা বলা উচিত। -শেক্সপিয়ার

বঙ্গবীরের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০২-২০১৮ ইং ০১:২৭:৪২ | সংবাদটি ১৩৬ বার পঠিত

আজ ১৬ই ফেব্রুয়ারি বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর ওসমানী ১৯১৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেটের বর্তমান ওসমানী নগর উপজেলার দয়ামীর গ্রামে। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে অপরিসীম কর্মে সাধনায় হয়ে ওঠেছেন মহীরূহ। তাঁর সমর নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিটি ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। সর্বোপরি তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে জাতিকে উপহার দিয়েছেন হাজার বছরের প্রত্যাশিত নতুন ভূ-খ-, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজকের এই দিনে আমরা তাঁর সমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
এটাই স্বাভাবিক যে, মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের পর কর্মই এক সময় তাকে বড় করে তুলে। বঙ্গবীর ওসমানী তার কর্ম দিয়ে বরণীয় হন, স্মরণীয় হন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ওসমানীর অবদানকে অস্বীকার করা মানে গৌরবময় স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সামরিক নেতৃত্ব দেন। অসাধারণ বীরত্ব আর কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তিনি পশ্চিমাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন আজীবন গণতন্ত্রী। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে তাঁর ছিলো অনন্য সাধারণ পরিচিতি। তাঁর নামটি বাদ দিলে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনাই থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে বঙ্গবীর ওসমানীকে নানাভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে; দেশের জন্য তাঁর যে অবদান রয়েছে তা ধূলিস্যাৎ করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে।
মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভারতের মুসলিম আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশ ভারত সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৪২ সালে বৃটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়ানের প্রধান হয়ে তিনি গৌরবময় রেকর্ড অর্জন করেন। ওসমানী ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তখন তিনি ল্যাফটেনেন্ট পদে উন্নীত হন। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনে তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন ১৯৫৭ সালে। অবসর গ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর ওপর অর্পিত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার গুরু দায়িত্ব। যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি একজন সফল ও কৃতিত্বপূর্ণ সমর নায়কের পরিচয় দেন। তাঁর সমস্ত জীবনই ছিলো সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও তিতিক্ষায় পূর্ণ উজ্জ্বল এবং সংগ্রাম মুখর। কায়েমী স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিলো সুস্পষ্ট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ভোগবিলাস ও স্বার্থচিন্তা থেকে অনেক দূরে। তাই অকৃতদার ওসমানী তাঁর জীবদ্দশায়ই জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন।
যাঁর অসাধারণ সমর নেতৃত্বে আমরা একটি পতাকা, একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড লাভ করেছি, যিনি জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিকের ভূমিকা রেখেছেন, সেই মহান ব্যক্তিত্বকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করছি? আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে লক্ষ করছি যে, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনে বঙ্গবীর ওসমানীর নামটাও উচ্চারণ করতে অনেকে কুন্ঠিত হচ্ছেন। এদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যেমন চলছে ষড়যন্ত্র, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনার ঘৃণিত অপচেষ্টাও থেমে থাকেনি। আমাদের জাতীয় জীবনে ওসমানীর অবিস্মরণীয় অবদানকে খাটো করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা মনে করি, বঙ্গবীর ওসমানীকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে কিংবা সব ধরনের বিতর্ক থেকে উর্ধ্বে রাখা উচিত। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা আজকের এই দিনে ওসমানীর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT